আপা, আমার বয়স ২০ বছর। আমি মেয়ে। আমার বাবা মারা গেছে আমার যখন ৫ বছর। আমরা দুই বোন এক ভাই।  মাও এখন অসুস্থ। ওনার লিভারে সমস্যা। অভিভাবক  বলতে মামারা।আমি ছোটবেলা থেকে একটা ছেলের সাথে কৌতুহলে ফোনে কথা বলতাম। ছেলেটা দূর সম্পর্কের আত্নীয় হয়। আমি যখন ক্লাশ নাইনে পড়ি তখন ওর প্রতি একটু একটু ভাব আসে। ক্লাশ টেনে যখন পড়ি তখন আমরা লুকিয়ে বিয়ে করে ফেলি। ও আর ওর ফ্যামিলি সিলেটে থাকে আর আমি আমার ফ্যামিলি কুমিল্লা। যখন বিয়ে হয় এরপর ওর বাসায় যখন অন্যরা কেউ ছিল না তখন আমি আমি বেশ কয়েকবার ওর বাসায় গিয়েছি।  ও তখন বিবিএ সেকেন্ড ইয়ারে পড়ত আর আমি টেনে। একবার ওর পরীক্ষা দিতে গেল তখন আমি একা বাসায় ওর ল্যাপটপে ওর পিকচার দেখতে দেখতে একটা ফোল্ডারে ওর আর একটা মেয়ের কিছু ভীষণ আপত্তিজনক কিছু ছবি দেখলাম। এরপর কয়েক মুহূর্তের জন্য নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারিনি। এই ব্যাপার নিয়ে এরপর অনেক কিছু হয়েছে। ঐ ঘটনার পর থেকে সে আমাকে আর বাসায় যেতে বলেনি। এরপরে আমি ওকে অনেক বেশি ফলো করতে থাকলাম আর এভাবে আমার সামনে এরকম অনেক কিছু বেড়িয়ে আসলো। আমি কষ্ট পেয়ে পেয়ে এক পর্যায়ে ভেঙ্গে যেমন পড়লাম তেমন রাগও হলো। আমি ওকে অসামান্য বিশ্বাস করতাম তাই বিয়েটা শুধু ধর্মীয় নিয়মে জায়েজ করে নিয়েছিলাম তাই কোনো কাগজ পত্র ছিলোনা। আর এদিকে ও আমি যখন ওর আপত্তিকর বিষয়গুলো নিয়ে বিবেকের প্রশ্ন করতে থাকলাম তখন সে বলত তোকে বিয়ে করেছি তার কোনো প্রমাণ আছে.? কিন্তু আমি ওর সাথে সারা জীবন থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ও ওর স্বভাব ও আচরণ থেকে অনড় ছিল। এ ঝগড়া থেকে একটা সময় আমি ওর সাথে সম্পর্ক ইচ্ছে করে ভালো করি এবং ওকে কুমিল্লা আসতে বলি। তখন আমি কলেজে পড়ি। ওরা সিলেটে থাকলেও ওর আর আমার একই ইউনিয়ন ছিল তাই আমি ওর ইউনিয়ন থেকে ওর অনলাইন জন্মনিবন্ধন ফর্ম ওঠাই আর ও আসার পর নোটারি সহ সরকারি কাজী অফিসে কাবিননামা রেজিস্টারি করি। এতে ও তেমন আপত্তি করেনি এবং রাতে আমরা একসাথেই ছিলাম এবং রাতে ও আমাকে খাইয়ে দিয়েছিল এবং আমাদের শারীরিক সমপর্কও হয়। পরদিন সকালে আমি ওকে গাড়িতে ওঠিয়ে দিয়ে আসি। ও সিলেটে যাবার ৪ দিনের মাথায় আমার সাথে সমপূর্ণ ভাবে যোগাযোগ বন্ধ করে দিল। আমি বিভিন্ন ভাবে ওর এমনকি ওর বন্ধুদের মাধ্যমেও ওর  সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি কিন্তু পারিনা। ও সব দিক থেকে সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল। আমি ওকে সত্যিই ভালবেসে ছিলাম এবং আমার জীবনে ওই আমার প্রথম এবং একমাত্র রিলেশন। কিছুদিন পর আমি নিরুপায় হয়ে একাই সিলেট যাই এবং ওর বাবা মাকে সবকিছু জানাই। ওর মায়ের সামনে ও আমাকে মারাত্মকভাবে মারধর করে এবং জখম করে বাসা থেকে বেড়িয়ে যায়। ওর বাবা মা অনেক কষ্ট পেয়েছিল তারপরেও ওর মা আমাকে ও বাসায় আসলে যোগাযোগ করতে বলবে বলল আর ২ বছর পর ওর অনার্স কমপ্লিট হলে আমাকে ওঠিয়ে নিবে এই আশ্বাস দিয়ে ২ দিন পর কুমিল্লা পাঠাল। এরপর দেড় বছর ও আমার সাথে যোগাযোগ করেনি। কলেজে ভর্তি হয়ে আমি ছাত্রীহলে ওঠি। যখন আমার এইচএসসি পরীক্ষা তার কিছুদিন আগে মামার সাথে মাজার জেয়ারতের ওছিলায় সিলেট যাই এবং কৌষল করে শ্বাশুড়ির সাথে দেখা করি এবং কান্নাকাটি করি আর বলি মা দেড় হয়ে গেছে আপনার ছেলে বিবিএ ফাইনাল এগ্জাম দিয়েছে আমারও কিছুদিন পর পরীক্ষা শেষ হয়ে যাবে এবার আপনার প্রতিশ্রুতি রাখুন। এরপর ওনি বললেন তখন তো দুই বছর বলেছিলাম আর এখন দেখছি ২ ববছর কেন ৫ বছর গেলেও আমি কিছু করতে পারবোনা। তখনই আমি একটা কেমন জানি ধাক্কা খাই এরপর হলে চলে আসার পর  একলা একলা এই চিন্তা করতে  করতে আমি অসুস্থ্য হয়ে পরি। অসুস্থতা চরম আকারে পৌছে যায় ২দিনের মধ্যেই। রোমমেটরা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায় এবং বাড়িতে ফোন দেয়।  তখন হাসপাতালেই সবাই আমার বিয়ে ও যাবতীয়  সব কিছু বলি। এসব বলে বলে আমি বার ববার নাকি অজ্ঞান হতাম আর জ্ঞান আসলে কথা বলতে চাইতাম।হাসপাতালে ৩দিন পর ডাক্তাররা মানসিক ডাক্তারের কাছে রেফার করলেন।  এরপর মানসিক ডাক্তার  বললেন আমার দীর্ঘদিন ধরে হিস্টেরিয়া আর এখন মাইন্ডস্ট্রোক হয়েছে। সাইকো থেরাপি দিতে হবে। এর মধ্যে আমার এইচএসসি পরীক্ষা আরম্ভ হলো। আমি হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা দিতে যেতাম। এবং ২ পরীক্ষা দিতে গিয়ে আমি পরীক্ষাহলে অজ্ঞান হয়ে যাই। ঐ গুলোতে আমার ফেল আসে। আপা আমি টিউশনি করে পড়াশোনা করতাম। তাই রেজাল্টটাও আমি মেনে নিতে পারিনি। যাইহোক এ বছর আবার পরীক্ষা দিব। এখনও মাঝে মাঝে ডাক্তার দেখাতে হয়। ডাক্তাররা বলছে আমার সমস্যাটা স্থায়ী হয়ে গেছে। ঐ দিকে আমার স্বামীর বাড়ির লোকজনদের সাথে গ্রাম্যশালিশ হয়ে ব্যাপারটা মিটমাট হলেও প্রায় ১ বছর হয়ে যাচ্ছে ওরা আমার কোনো দায়দায়িত্ব নেয়না। আর আমার স্বামীর আপত্তিজনক স্বভাবটাও যায়নি। ইদানিং তার এক মামাতো বোনের সাথে ওর ফিজিকেল রিলেশান জানতে পারি।  ওকে জিজ্ঞেস করেছি, ও ব্যাপারটা স্বীকার যায়। আর আমি নিজের কানে শুনেছি ওর মামাতো বোন ওকে ফোন করে বলেছে আমাকে ছেড়ে দিয়ে ওকে বিয়ে করতে। তখন আমার স্বামী বলে আমার ডিভোর্স দেবার এবিলিটি ওর নাই। তখন ওর মামাতো বোন বলে তাহলে চলো আমরা পালিয়ে যাই। তখন আমার স্বামী বলে যে 'না'। এমতাবস্তায় আমি আমার স্বামীকে বলেছি যে তুমি আমার সাথে থাকতে না চাও তবে সবাই কে জানাও। তাহলে সবাই মিমাংসা করে দিবে। ও বলে আমার জানানোর কোনো দরকার নাই। আবার আমার সাথে খুব গালাগালি করে। ওর মাকে জানালে ওনি রেগে বলেন তুই আমার সংসারে না এসে এসব জানস কই আমি তো দেখিনা। তুই আমার সংসারে অশান্তি চাস। আমার ছেলে যা খুশি করবে তোর ইচ্ছা থাকলে থাকবি না থাকলে যাবি।  এখন আমার স্বামী আমাকে ছাড়তেও চাইছেনা আবার সেভাবে গ্রহণও করছেনা। সে কোনো চাকরিও করছেনা।  মামারা খরচ দদিকে বা ওঠিয়ে নিতে বললে ওর ফ্যামিলি বলে ছেলের চাকরি হলে দেখা যাবে। স্বামী অামার সাথে না করে দেখা, দূর থেকে না দেয় মানসিক প্রশান্তি, না দেয় আর্থিক সহায়তা। খালি বলে ওর এবিলিটি নাই। আবার চাকরিরও চেষ্টা নাই। এখন আমি কি করবো আপা..??? আপা আপনাদের দীর্ঘ মূল্যবান সময় নষ্ট করলাম। আসলে এক জীবনের চরম কষ্ট পাওয়া কাহিনী অল্পতে শেষ করতে পারিনি। সে জন্য ক্ষমাপ্রার্থী...। দয়া করে বিস্তর সমাধান দিন...।

উত্তর করেছেন : Maya Apa

  2 বছর পূর্বে

উত্তর করেছেন : AR Rahman

  2 বছর পূর্বে

প্রশ্ন করুন আপনিও