প্রোটিনঃ খাদ্য আমাদের চালিকা শক্তি। খাদ্যে ছয়টি উপাদান রয়েছে যার মধ্যে প্রোটিন বা আমিষ অন্যতম।প্রোটিন সকল জীবের একটি গাঠনিক উপাদান। প্রোটিন বা আমিষ হল বৃহৎ জৈব অণু বিশেষ। তাই প্রোটিনকে জীব কোষের প্রাণ ও বলা হয়। তাই প্রোটিন ছাড়া জীবের অস্তিত্বই কল্পনাতীত।২০ টি বিভিন্ন রকম এমাইনো এসিড এর সংযোগে গঠিত হয় এক একটি আমিষ বা প্রোটিন অনু। এদের মধ্যে ১০টি অত্যাবশ্যকীয় যা শরীরে তৈরি হয়না, খাদ্য দেয়া পূরণ করতে হয়। অপর ১০টি এই ১০টি হতে তৈরি হতে পারে।তাই প্রোটিন কে পুষ্টিগত দিক থেকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।১. সম্পূর্ণ প্রোটিন: যে সকল প্রোটিন জাতীয় খাদ্যে ১০টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিডই থাকে তাদের কে সম্পূর্ণ প্রোটিন বলে। সকল প্রাণীজ প্রোটিন গুলোই হল সম্পূর্ণ কারণ এখানে এই ১০টি অ্যামাইনো এসিড সুষম ভাবে থাকে। যেমন – ডিম, দুধ, মাছ, মাংস ইত্যাদি এগুলোই সম্পূর্ণ প্রোটিন।২.অসম্পূর্ণ প্রোটিন: যে সকল প্রোটিন জাতীয় খাদ্যে ১০টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিডের যেকোনো একটি বা একাধিক অনুপস্থিত থাকে তাদের কে অসম্পূর্ণ প্রোটিন বলে। সকল উদ্ভিজ্জ প্রোটিন অর্থাৎ উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন অসম্পূর্ণ প্রোটিন। যেমন -ডাল, বাদাম, বীচি, শস্য, ফল, সবজি ইত্যাদি এগুলো হল অসম্পূর্ণ প্রোটিন।দৈনন্দিন জীবনে প্রতিদিন আমিষ জাতীয় খাবার খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত। দুধ, দুধ জাতীয় খাবার ( টক দই, পনির), ডিম, ডাল, শীমের বীচি, মটরশুঁটি, আম, কলা, কমলা, পেয়ারা, মাশরুম, ব্রকলি ইত্যাদি খাবার প্রোটিন এর ভাল উৎস।একজন মানুষের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ০.৮ গ্রাম থেকে ১গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন RDA বা Recommended Dietary Allowance অনুযায়ী। অর্থাৎ একজন ৬০ কেজি ওজনের ব্যাক্তির দৈনিক নূন্যতম ৪৮ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। প্রতি ১ গ্রাম প্রোটিন থেকে প্রায় ৪ কিলো ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। দৈনিক ক্যালরি চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ প্রোটিন থেকে মেটানো যায়।তবে প্রোটিন মাত্রানুযায়ী গ্রহণ করতে হবে। নতুবা এর সুবিধা এবং অসুবিধা দুটোই পরিলক্ষিত হয়।১. মানব দেহের প্রতিটি কোষের একটি অন্যতম গাঠনিক উপাদান প্রোটিন। দৈহিক বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, ও কোষ গঠন প্রোটিনের প্রধান কাজ।৩. প্রোটিন এন্টিবডি তৈরি করে, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ এ সহায়তা করে। ৪. দেহের এনজাইম, হরমোন ইত্যাদি প্রোটিনের মাধ্যমে তৈরি হয়।৫. প্রোটিন পেশি, হাড় ও রক্ত তৈরিতেও সহায়তা করে।৬. প্রোটিনের অভাবে শিশুদের ম্যারাসমাস, কোয়াশিয়রকর ইত্যাদি রোগ হয় ফলে শিশুরা ক্ষীণ ও খর্বাকৃতি হতে পারে।৭. নখ সাধারণত গোলাপি বর্ণের হয়ে থাকে, কিন্তু প্রোটিনের অভাব হলে সাদা হয়ে যায়।৮. প্রোটিন জাতীয় খাবার দিয়ে অনেকেই ওজন নিয়ত্রন করে থাকেন, তবে দক্ষ্য পুষ্টিবিদের সাহায্য ছাড়া এই চেষ্টা করতে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও