প্রিয় গ্রাহক, প্রশ্ন করার জন্য ধন্যবাদ। আপনাকে শুভেচ্ছা আপনি মা হতে চলেছেন। আপনার ও আপনার বাচ্চার সার্বিক সুস্থতা কামনা করছি। প্রথমত, ৪০ সপ্তাহ হিসাব করা হয় আপনার শেষ মাসিকের প্রথম দিন হতে। হিসাব অনুসারে ৪০ সপ্তাহ মানে ১০ মাস। কিন্তু প্রকৃতভাবে একজন পূর্ন শিশু গর্ভে ৯ মাস ২ সপ্তাহ সময় অতিবাহিত করে। ৩৮ সপ্তাহের পরেই বাচ্চা পুরোপুরি ম্যাচিউর হয়ে যায়। গ্রাহক, বাচ্চা কবে কিভাবে ডেলিভারি হবে তা সম্পূর্ন নির্ভর করে মা এর স্বাস্থ্য, বাচ্চার স্বাস্থ্য, বাচ্চার পজিশন, কোন জটিলতা আছে কিনা, পানি ভেংগে গেছে কিনা তার উপর। এর সাথে ছেলে বাচ্চা বা মেয়ে বাচ্চার কোন সম্পর্ক নেই। যে কেউ ই আগে পরে হতে পারে। দ্বিতীয়ত, প্রেগন্যান্সির সময় নিজেকে সচল রাখতে চেষ্টা করবেন। অনেকেই হয়তো আপনাকে পরামর্শ দেবে শুয়ে থাকতে এবং বেড রেস্টে থাকতে, কিন্তু আপনার যদি সুস্হ প্রেগন্যান্সির অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে অবশ্যই এ সময় যে ব্যায়ামগুলো করা সম্ভব সেগুলো করে নিজেকে সুস্হ রাখবেন।  নিয়মিত হাটা একটি ভাল ব্যায়াম। অনেকেই জন্ম দানের আগে yoga করে। নিয়মিত ব্যায়াম এবং নিজেকে সচল রাখার মাধ্যমে আপনি সুস্হ প্রেগন্যান্সির অভিজ্ঞতা লাভ করবেন এবং এটা আপনার নরমাল ডেলিভারিকেও সহজ করে দেবে। অতিরিক্ত ২০০-৩০০ ক্যালরি খাবার বেশি খাওয়া প্রয়োজন এ সময়ে। সাধারণত একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে বা মহিলার দৈনিক ২২০০ ক্যালরি খাদ্য প্রয়োজন হয়। তাই আপনি গর্ভবতী হলে দৈনিক ২৫০০ ক্যালরি খাওয়া প্রয়োজন। এ সময়ে ভিটামিন ডি ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড খেতে হয় প্রচুর। কারণ এ সময়ে ব্রেন বা মস্তিষ্কের ও চোখের গঠন হয় আর এই গঠন সঠিকভাবে হওয়ার জন্য এই পুষ্টিগুলো খুব দরকার। ভিটামিন ডি পাবেন সূর্যের আলোতে, দুধে, দইয়ে, বাদামি চালে ও গমে। ওমেগা ৩ এর জন্য সামুদ্রিক মাছ ও খাবার খেতে হবে। তিসির তেলে ওমেগা ৩ থাকে। সালাদে ২ চামচ তিসির তেল মিশিয়ে সালাদ খাবেন। প্রচুর মাছ খাবেন। এ সময়ে আয়োডিন খাবেন পর্যাপ্ত পরিমাণে। কেননা, এ সময়ে বাচ্চার থাইরয়েড গ্ল্যান্ড কাজ করা শুরু করে আর থাইরয়েডের জন্য আয়োডিন অতীব প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। শুধু আয়োডিনযুক্ত লবণ খেলেই হবেনা, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ আকারেও আয়োডিন খাওয়া যেতে পারে। এ সময় ক্যালসিয়াম খান প্রচুর পরিমাণে। কারণ এটি বাচ্চার হাড়, মাংস ইত্যাদি তৈরিতে সাহায্য করে। ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় দুধ, দই, আইসক্রিম, চীজ ইত্যাদিতে। সাধারণত এ সময়ে আয়রণ ৪০ মিলিগ্রাম লাগে দৈনিক। এজন্য আয়রণ ট্যাবলেট খাবেন ডাক্তারের পরামর্শমত। এ সময়ে কিছু মিনারেল ও ভিটামিন বেশ কিছু পরিমাণে খেতে হয়।নীচে সেগুলোর নাম দেয়া হলো।ক্যালরি – পাওয়া যায় প্রোটিন, ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট থেকেপ্রোটিন – মাছ, মাংস, ডিম, দুধে থাকেআয়রন  – মাছ, ডিম, কচুতে থাকেক্যালসিয়াম – দুগ্ধজাত খাদ্যে থাকেজিংক – মাছ, ডিম ও সামুদ্রিক খাবারে থাকেআয়োডিন – আয়োডিনযুক্ত লবণ ও সামুদ্রিক খাদ্যে থাকেভিটামিন এ –, শাক সবজি, কলিজা ও হলুদ ফলে থাকে ভিটামিন ডি – দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যে থাকেথায়ামিন –ঢেঁকিছাটা চালে থাকেরিবোফ্লাবিন – মাংস, কলিজা থাকেনিকোটিনিক এসিড – মাংস, বাদাম ও শস্য দানাতে থাকেএসকরবিক এসিড – টক জাতীয় ফলমূলে ও টমটোতে থাকে ফলিক এসিড – , সবুজ শাকসবজি ও কলিজাতে থাকেভিটামিন বি১২ – , প্রাণীজ প্রোটিনে থাকে। আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে জানাবেন। মায়া আপা।

সমস্যা নিয়ে বসে থাকবেন না !

পরিচয় গোপন রেখে ফ্রি বিশেষজ্ঞ পরামর্শ পেতে

প্রশ্ন করুন এখনই

মায়া অ্যাপে পড়ুন