প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। এ বয়সটা শিশুর বাড়ন্ত সময়। এ বয়সে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির সাথে সাথে মানসিক বৃদ্ধিও ঘটে দ্রুত। অপরদিকে এই বয়সে শিশুরা চঞ্চলতা, দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা ও পড়াশোনার জন্য প্রচুর শক্তি খরচ করে। ফলে ক্যালরির প্রয়োজনও পড়ে বেশি। তাই বাড়ন্ত শিশুর জন্য সঠিক খাবার নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাড়ন্ত বয়সে শিশুর দৈনিক কর্মশক্তি বাড়াতে এবং পর্যাপ্ত শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটাতে প্রয়োজন শর্করাসমৃদ্ধ খাবার। যা খুব সহজেই পাওয়া যাবে চাল, গম, আলুতে। তাই প্রতিদিন শিশুর খাদ্য তালিকায় ভাত, রুটি ও আলুর তৈরি খাবার রাখুন। শিশুর মজবুত দাঁত ও শক্ত হাড় গঠনে বেছে নিন দুধ ও দুধ জাতীয় খাদ্য, ডিম, তিল, মাখন, চর্বিযুক্ত মাছ, শালগম, সরিষা শাকসহ নানা রকম সবুজ শাকসবজি। এগুলো শিশুর শরীরে ভিটামিন ‘ডি’ ও ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করবে। একই সাথে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি, মাংসপেশি গঠন এবং রোগ-প্রতিরোধ করতে ও মস্তিষ্কের গঠনে শিশুর জন্য বেছে নিন প্রোটিন ও আয়োডিন যুক্ত খাবার। শিশুর জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন ও আয়োডিনের চাহিদা পূরণ করতে দুধ, ডাল, ডিম, মাংস, পনির ছাড়াও শিশুকে খেতে দিন সামুদ্রিক মাছ। তেল ও চর্বি জাতীয় খাবার যেমন—ঘি, মাখনও শিশুর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ এসব খাবার শিশুর শরীরে স্নায়ু টিস্যু তৈরি করে এবং শরীরের ভেতর থেকে তাপ বের হতে বাধা দেয়। একই সাথে বাড়ন্ত শিশুর প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে নানা রকম সবুজ শাকসবজি ও মৌসুমি ফল। কারণ এগুলো শিশুর শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করে এবং বিভিন্ন হরমোন ও লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। বাড়ন্ত বয়সে শিশুদের খাবারের প্রতি অনীহা থাকে বেশি। তাই এ সময় শিশুদের একই ধরনের খাবার বারবার দিলে তাদের খাবারের প্রতি আরও বেশি অনীহা তৈরি হয়। তবে তাই বলে তো আর খাবার থেকে শিশুকে দূরে রাখা যাবেন না। তাই শিশুকে ভাত, মাছ, সবজি, ফল, ডিম, দুধ সবই খেতে দিন। তবে খাবার তৈরিতে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করুন। যেমন শিশুকে প্রতিদিন ডিম, রুটি না দিয়ে মাঝেমধ্যে রুটির সাথে ভাজি, কলিজা ভুনা, মুরগির স্যুপ দিতে পারেন। আবার ডিমের বদলে ডিমের তৈরি পুডিং, ডিম চাপ দিতে পারেন। ফল, দুধে একঘেয়েমি চলে এলে মাঝে মধ্যে কাস্টার্ড, পায়েস, ফ্রুটস কেক, হালুয়া, মিল্ক শেক, জুস বানিয়ে দিন। যা শিশু বেশ আগ্রহ সহকারে খাবে। বেশির ভাগ শিশুর সবজি খাওয়ার প্রতি অনীহা থাকে বেশি। তাই চেষ্টা করুন নানা রকম সবজিকে শিশুর সামনে একেক সময় একেকভাবে উপস্থাপন করতে। আর এক্ষেত্রে নানা রকম সবজির মিশ্রণে খিচুড়ি বেশ পুষ্টিকর। কারণ এই এক খাবারেই শিশু পেয়ে যাবে নানা রকম পুষ্টি উপাদান। তাই মাঝেমাধ্যে শিশুকে খিচুড়ি খাওয়ার অভ্যাস করুন। এছাড়া তৈরি করে দিতে পারেন সবজির পাকোড়া, স্যুপ, কাটলেট, রোল প্রভৃতি।আপনার শিশুকে নীচের খাবারগুলো দিতে পারেন :- ১.আলু সিদ্ধ ও ডাল চটকিয়ে। ২. ডালে বা দুধে ভেজানো রুটি ৩. ফলের রস ও চটকানো ফল (দেশীয় ফল যেমন কলাপেঁপে, কাঁঠাল, পেয়ারাআম, আনারস ইত্যাদি) ৬ ভাত, মুড়ি, চিড়াদুধ দিয়ে নরম করে মেখে ৭. শাক-সর্জি, চাল, ডাল ও তেল দিয়ে নরম খিচুড়ি রান্না করে ৮. টমেটো, মটরশুটি, ফুলকপি, সীম ও অন্যান্য শাকসক্তি ভাল। করে সিদ্ধ করে চটকিয়ে। ৯. পরিমাণে স্বাভাবিক খাবার। কিন্তু তাতে ঝালও মসলা কম হতে হবে ১০. এ সমস্ত খাবারের সাথে রান্না করা মাছও চটকিয়ে দেয়া যায় ১১. খাবারের সাথে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করতে হবে শিশুকে নতুন খাবার দিতে হলে কতগুলো বিশেষ দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, যেমনঃ শিশুর শারীরিক অবস্থাবয়স, ওজন ইত্যাদি। -শিশুটির বুয়সানুসারে শক্তি, আমিষ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন নির্ধারন করতে হবে। -খাবারগুলো এমনভাবে নির্বাচন করতে হবে যেন তা সহজপাচ্য, পুষ্টিমান ও সহজলভ্য হয়। শিশুকে সাধারণতঃ বাবা মায়ের সংগে বসিয়ে খাওয়াতে হবে, ফলে সে খাবারে উৎসাহ পাবে। শিশুকে কোন খাবারের জন্য জবরদস্তি করা যাবে না। শিশু ক্ষুধার্ত হলে আপনা আপনি খাবে। শিশু নুতন খাবার কতটা হজম করতে পারলো তা বোঝা যাবে তার মল দেখে ও ওজন বৃদ্ধির রেকর্ড থেকে শিশুর ক্রমবৃদ্ধির চার্ট বা কার্ড এর মাধ্যমে)। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।

পরিচয় গোপন রেখে ফ্রিতে শারীরিক, মানসিক এবং লাইফস্টাইল বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন Maya অ্যাপ থেকে। অ্যাপের ডাউনলোড লিঙ্কঃ http://bit.ly/38Mq0qn


প্রশ্ন করুন আপনিও