কিডনি টিউমার কী?কিডনি টিউমারের ক্ষেত্রে কিডনির অ্যাবনর্মাল গ্রোথ দেখা যায়। এই টিউমার দুই ধরনের হয় – বিনাইন (নন-ক্যানসারাস), ম্যালিগন্যান্ট (ক্যানসারাস)। সাধারণত কিডনির মধ্যে সিস্টকেও বাড়তে দেখা যায়। সিস্ট কিংবা টিউমার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নন-ক্যানসারাস হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে থাকলে তার থেকে ক্যানসার হতে পারে।কী করে বুঝবেন আপনার কিডনি টিউমার আছে?খুব প্রাইমারি স্টেজে কিডনি টিউমার হলে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অন্য রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে কিডনির টিউমার ধরা পড়ে। পেটের অন্য কোনও সমস্যার জন্য আল্ট্রাসাউন্ড করা হলে ধরা পড়ে কিডনির টিউমার। এরপর সিএটি স্ক্যান ও এমআরআই করে দেখা হয় কী ধরনের সিস্ট আছে, এই সিস্ট থেকে কতটা ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আল্ট্রাসাউন্ড ও বায়োপসি করে দেখা হয় টিউমার ক্যানসারাস না কি নন-ক্যানসারাস। টিউমার ম্যালিগন্যান্ট হলে অবশ্যই জানতে হবে টিউমারের সাইজ কত, কিডনির কার্যক্ষমতা কেমন আছে, রোগীর বয়স কত, ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেসার, হার্টের সমস্যা আছে কি না।কিডনি টিউমারের লক্ষণ?কিডনি টিউমার প্রথম অবস্থায় থাকলে কোনো রকম শারীরিক সমস্যার লক্ষণ দেখা যায় না। অনেক দেরিতে কিডনির টিউমার বা কিডনি ক্যানসার ধরা পড়লে তার কিছু লক্ষণ দেখা যায় – শরীরের নীচের দিকে পেট থেকে পিছনের দিকে এক দিক দিয়ে একটা ব্যথা অনুভব হবে, পেট ফুলে ভারী ভাব, প্রস্রাব থেকে রক্তপাত, অ্যানিমিয়ার প্রবণতা, হঠাৎ করে রোগা বা মোটা হয়ে যেতে পারেন, ঠান্ডা না লাগলেও হঠাৎ হঠাৎ জ্বর হতে পারে, খিদে কমে যাবে, পা ফুলে যাবে।প্রস্রাব থেকে রক্ত পড়া মানেই কি কিডনি টিউমার?বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ইউরিন দিয়ে ব্লিডিং মানেই ক্যানসার – এমনটা নাও হতে পারে। কিডনি স্টোন, প্রস্টেট সমস্যা, ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন, কিডনিতে নন-ক্যানসারাস সিস্ট হলেও ব্লিডিং হতে পারে। তাই এই লক্ষণ দেখা দিলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লক্ষণ জানিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শমতো সঠিক চিকিৎসা করা জরুরি।কেন হয় কিডনি টিউমার?কিডনি টিউমার হওয়ার পিছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ থাকে না। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় – বংশে কারো যদি কিডনির সমস্যা বা কিডনি ক্যানসার থাকে, অতিরিক্ত ওজন, হরমোনের সমস্যা, দীর্ঘদিন কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকলে। হাই ব্লাডপ্রেসার, অতিরিক্ত মাত্রায় তামাক জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ, দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ খেলে কিডনি টিউমার হয়।কিডনি টিউমারের ট্রিটমেন্ট কী হবে?প্রথম অবস্থায় কিডনি টিউমার ধরা পড়লে বা কিডনি টিউমার নন-ক্যানসারাস হলে অবজারভেশনে রাখা হয়। এ ছাড়া ‘পার্সিয়াল নেফ্রোকটমি’—  এই পদ্ধতিতে সার্জারির দ্বারা কিডনি থেকে শুধুমাত্র টিউমার বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। অথবা, কখনও করা হয় ‘রেডিক্যাল নেফ্রোকটমি’ করে কিডনি ও টিউমার দু’টিই বাদ দেওয়া হয়। এই দুই সার্জারি হল ল্যাপ্রোস্কোপি। কোনও রোগী যদি সার্জারির জন্য যোগ্য না হয় না অন্যান্য শারীরিক সমস্যার জন্য সার্জারি করা যাবে না বা টিউমার যদি খুব ছোটো হয় সে ক্ষেত্রে করা হয় রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন (আরএফএ)। এটি এক ধরনের রে। খুব দেরিতে টিউমার ধরা পড়লে বা ক্যানসারাস টিউমার হলে টারগেটেড থেরাপি করা হয়। এটি এক ধরনের ওরাল ট্যাবলেট। কিডনি টিউমার বা ক্যানসারের ক্ষেত্রে কেমো থেরাপি বা রেডিয়েশন থেরাপি হয় না। প্রাথমিক স্টেজে ধরা পড়লে কিডনি টিউমার সারিয়ে তোলা সম্ভব।কিডনি টিউমার এড়াতে কী করা উচিত?তামাক দ্রব্য বর্জন করা উচিত, ওজন, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। রুটিন হেল্‌থ চেকআপও জরুরি। 

পরিচয় গোপন রেখে ফ্রিতে শারীরিক, মানসিক এবং লাইফস্টাইল বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন Maya অ্যাপ থেকে। অ্যাপের ডাউনলোড লিঙ্কঃ http://bit.ly/38Mq0qn


প্রশ্ন করুন আপনিও