প্রশ্ন সমূহ
আর্টিকেল
মায়া ফার্মেসী

মায়া প্রশ্নের বিস্তারিত


মায়া আপা, একজন ছেলে। আমার হাই পেশারের সমস্যা। বিটালক ২৫ খাচ্ছি দুইবেলা। বিগত ৮ বছর যাবৎ আমার উচ্চ রক্তচাপ। আমার বয়সও বেশী না। মাএ 24 বছর। এখন সমস্যা হলো , আমি কিছু হলেই রেগে যাই। রাগ হলে অনেক সমস্যা হয়। আমি তখন বলতে গেলে হিতাহিত কান্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আমি রাগ করে অনেক মোবাইল ভেংগেছি। এমনকি কালকেও একটি ভেংগেছি। সব চেয়ে বড় কথা হলো আপা আমি রাগের মাথায় আমার বাবা মায়ের গায়েও হাত তুলতে যাই। আঘাত না করলে ধাক্কা দিয়ে ফেলি। মাঝে মাঝে এইটা সেইটা ভেংগে ফেলি, আর চুড়েও মারি ।অনেক সময় গায়ে পড়ে। এই নিয়ে অনেক ঝামেলা হচ্ছে। আমি বাবা মায়ের একমাএ ছেলে।  বলা যায় তাদের বেশী আর কিছুটা অবহেলার কারনে আমার এই অবস্থা। এখন আমি কি করবো, আপা এর প্রতিকার কি? রাগের মাথায় এই রকম করলেও আমি বাহিরে সহপাঠী অন্যদের কাছে সব সময় শুনি আমি খুব ভালো মানুষ । তারপরও কেনো আমি এই রকম করছি। আমাকে এইটা সমন্ধে ভালো ভাবে একটা সমাধান দিলে আমি খুব খুশী হবো?

প্রিয় গ্রাহক,

আপনার মনের একান্ত কষ্টের কথাগুলো আমাকে বিশ্বাস করে বলার জন্য ধন্যবাদ। আপনার রাগ প্রকাশের ধরণ নিয়ে আপনি চিন্তিত, বুঝতে পারছি। আপনি যে এই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে চাচ্ছেন এটা খুবই ইতিবাচক।এবং আপনার খারাপ দিক গুলো খুব সুন্দর করে নির্ণয় করতে পেরেছেন। 

গ্রাহক, আপনি কি কি কারণে রেগে যাচ্ছেন? এই সমস্যাটি কবে থেকে হচ্ছে? যখন আপনি রাগ প্রকাশ করে ফেলছেন ( মোবাইল ভাঙা, বাবা-মার্ গায়ে হাত তুলা) তখন আপনার কি অনুভূতি হয়? অপরাধ বোধ হয় কি? আমার সাথে শেয়ার করা যায় কি? আপনি বলেছেন বাবা মার্ একমাত্র ছেলে আপনি কিন্তু তাদের অবহেলার জন্য আপনি এমনটা হয়ে গিয়েছেন। আমাকে কি খুলে বলা যায় এই ব্যাপার টা? আপনার  ফ্রেন্ড দেড় সাথে আপনি ভালো অকারণ করেন তার মানে আপনি পারবেন আপনার রাগ কন্ট্রোল করতে। 
রাগ কে পজিটিভ ভাবে প্রকাশ করা সবার জন্য ই ভালো। পজিটিভ ভাবে বলতে বুঝায় অন্যের কোনো ক্ষতি না করে বা নিজের কোনো ক্ষতি না করে রাগ কে প্রকাশ করা।রাগ প্রকাশ করার জন্য সর্বপ্রথম কোন কোন ক্ষেত্রে আপনার রাগ হয় সেটা চিহ্নিত করার চেষ্টা করুন।রাগের ফলে কি অনুভূতি হচ্ছে সেটা বুঝার চেষ্টা করুন।রাগ হলে কিছু সময় নিন সেই স্থান টা থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন এ সময়ে ১-১০ পর্যন্ত গুনতে পারেন।এরপর আপনার যা বলার তা প্রকাশ করতে পারেন।যেমন- এভাবে বলতে পারেন আমি রাগ অনুভব করছি যেহেতু তুমি খাওয়ার পর প্লেট টা না গুছিয়ে ই চলে গেছো।এছাড়া ও রাগের সময় কিছু শারীরিক ব্যায়াম বা মেডিটেশন করা যেতে পারে।রাগ কমানোর জন্য রাগের কারন টা ডায়েরি তে লিখা যেতে পারে।এছাড়া যখন রাগ হবে তখন গান করা বা নাচা ইত্যাদি করলে রাগ কিছু টা কমে।এছাড়া ও জীবনে কিছু কিছু শব্দের ব্যবহার রাগের কারন হয়ে দাঁড়ায় যেমন-Always,must,should ইত্যাদি। এ শব্দ গুলো এড়িয়ে চললে রাগের পরিমান কিছুটা কমে।আশা করি,আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোনো প্রশ্ন থাকলে,মায়া আপা কে জানাবেন,রয়েছে পাশে সবসময়,মায়া আপা



প্রশ্ন করুন আপনিও