আমি অল্পতেই খুব ঘাবরে যাই...যেমন, আমার বস যদি আমাকে কোনো কাজের নির্দেশ দেয় তাহলে সাথে সাথে আমার মধ্যে একটা অস্থিরতা কাজ করে...কাজটা কিভাবে করতে হবে, কি কি জিনিস মাথায় রেখে কাজটা করতে হবে তা তখন আমার মাথায় কাজ করে না...এই সমস্যাটা সবচেয়ে বেশী হয় তখন যখন আগে থেকে আমি একটা প্লান করে রাখি যে আজকে আমি এই এই কাজগুলা করবো...যখন আমার প্লানের বাইরে এক্সট্রা কাজ দেয়া হয় তখন আমার মধ্যে একটা তারাহুরা ও অস্থিরতা কাজ করে...মনে আমার শরীরটা কেমন যেনো সংকুচিত হয়ে আসছে...ঘাড়ের দিকে এবং মেরুদন্ডে প্রচন্ড চাপ লাগে...যতক্ষন না পর্যন্ত ওই কাজটা শেষ করতে পারি ততক্ষন পর্যন্ত এরকম চাপ অনুভব করি...যদিও আমার বস কথার মাধ্যমে চাপ তৈরী করতে পারে...উল্লেখ্য আমি একটু গুছিয়ে এবং প্লান করে কাজ করতে পছন্দ করি...মুলত আমি প্লান অনুযায়ী কাজ করতে না পারলেই উপরোক্ত সমস্যা হয়...

আপনি খুব সুন্দর করে গুছিয়ে বিষয়গুলো বলেছেন, এথেকে বুঝতে পারলাম আপনি গুছিয়ে এবং পরিকল্পনা করে কাজ করতে পছন্দ করেন । এটি সত্যি খুব ভালো একটি গুণ । সময় ও কাজ নিয়ন্ত্রনের জন্য যে অভ্যাসগুলো প্রয়োজন তার মধ্যে এটি অন্যতম । আপনার বস যখন কোন কাজ দেয় তখন আপনার মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি হয় যার ফলে আপনি কস্ট অনুভব করেন । এটা অস্বাভাবিক না , দুটো কারণে ; প্রথমত, যেকোন কাজ করার আগে আমাদের মধ্যে দুশ্চিত্না কাজ করে কীভাবে কাজ করবো তা নিয়ে, কি হবে তা নিয়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে কীভাবে হবে তা নিয়েও । দ্বিতীয়ত, বসের কাছ থেকে কাজ আসা মানে এর গুরুত্ব বেশী ভাবা যা খুব স্বাভাবিক এবং তাকে কাজটি না দেয়া পর্যন্ত মাথায় এর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানারকম চিন্তা করা । প্রথম অংশটি সবার হয় এবং সব কাজের ক্ষেত্রেই হয় । ভাবুন আপনার রাতের খাবার নিয়ে কেমন ভাবনা হয় যদি তা না হতো হয়তো খাওয়ার ব্যাপারে সচেতনই হতেননা । তাই কাজের আগে চিন্তা স্বাভাবিক । তবে এটি দ্বিতীয় কারণ দিয়ে প্রভাবিত হয়ে দুশ্চিন্তায় পরিণত হচ্ছে । যা সত্যি খুব কষ্টকর । এবার সমাধান নিয়ে ভাবা যাক । আপনার পরিকল্পনার বাইরে কাজ আসলে আপনার দুশ্চিন্তা হচ্ছে এবং সেই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুশ্চিন্তা চলতে থাকছে । দুশ্চিন্তাগুলো কোন বিষয়গুলো ভেবে হচ্ছে তা চিহ্নিত করতে পারেন । আমাদের মস্তিস্কে অনেক চিন্তা আসে যা সবসময় বাস্তব সম্মত না । অনেক অবাস্তব চিন্তা আমাদের মনে আসতে পারে যেমন - কাজটি ঠিক মতো করতে না পারা, কাজটি ভালো না হওয়া, বসের পছন্দ না হওয়া ইত্যাদি । আপনার মন থেকে এই চিন্তাগুলো দূর করতে চেস্টা করলে কাজে দুশ্চিন্তা কমে আসবে । আপনি এখন পর্যন্ত সঠিকভাবেই কাজগুলো করে আসছেন তা বলা যায় । কিছু কিছু ভুলতো আমাদের সবারই হয় সেটুকু মেনে নিয়েই বলছি । আবার এর সাথে অন্য কাজ জমে যাচ্ছে সেগুলো কখন করবেন সেই চিন্তাও মনে আসতে পারে । সেক্ষেত্রে আপনার পরিকল্পনা করা কাজ ও বসের দেয়া কাজ এই দুটোর মধ্যে তুলনা করে অপেক্ষাকৃত গুরুত্বপূর্ণ কাজ বেছে নেয়ার ব্যাপারটি ভেবে দেখতে পারেন । আপনার বসকে কাজের তুলনাটি বুঝিয়ে কাজ বেছে নিতে পারেন । অফিসের কাজগুলো কিন্ত কোন না কোনভাবে বসের সাহায্যের জন্যেই করা তাইনা ? কাজের সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য নমনীয়তা খুব প্রয়োজন তাই আগের পরিকল্পনা করা কাজের সাথে নতুন আসা কাজটি কীভাবে মানিয়ে নিয়ে করা যায় সেটি ভেবে দেখতে পারেন । কাজের ধরন অনুযায়ী পরিকল্পনা আপনার সুবিধার্থেই বদলানো লাগতে পারে তা ভেবে দেখতে পারেন এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে পারেন । আপনার বস বা ম্যানেজার বা সুপারভাইজার কারো সাথে আপনি যে বিষয়গুলোতে সমস্যা অনুভব করছেন সেটি নিয়ে কথা বলা যায় কিনা তা ভেবে দেখতে পারেন । এছাড়াও আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যার জন্য একজন কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানীর সাথে কথা বলতে পারেন । 

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও