প্রিয় গ্রাহক,আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।নাক নানা কারণে ডাকে। নাকের বিভিন্ন অসুখে, নাকের পার্টিশনের হাড় বাঁকা থাকলে, নাকে পলিপ বা কোনো টিউমার থাকলে, অ্যালার্জি বা নাক বন্ধ থাকলেও নাক ডাকে। গলার বিভিন্ন অসুখেও নাক ডাকে। যেমন – টনসিল, বড় জিভ, লম্বা আলজিভ, ছোট চোয়ালের হাড়, তালুতে প্যারালাইসিস, সিস্ট, পলিপ ইত্যাদি। এছাড়াও অতিরিক্ত মেদ, মদ্যপান, ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, মাদকাসক্তি, থাইরয়েডের অসুখ, স্নায়ুঘটিত রোগ, ইত্যাদি কারণেও মানুষ নাক ডাকে। নাক ডাকা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু উপায় -সত্যি বলতে আমি আপনাদের কে এমন কোন পদ্ধতির কথা বলতে পারবো না যেটি ফলো করলে আপনার এই সমস্যাটি একেবারে সমাধান হয়ে যাবে। তবে হ্যাঁ এতটুকু বলতে পারি যে, আপনি যদি নিয়মিত এই অভ্যাস গুলো গড়ে তুলতে পারেন তবে আপনার এই সমস্যাটি অনেকটাই কমে যাবে।-মুখ বন্ধ করে ঘুমানোর অভ্যাস করবেন।রাত্রে ঘুমনোর সময় যেকোনো এক পাশ ফিরে ঘুমোতে হবে-সাধারণত আপনি যখন সোজা অর্থাৎ চিত হয়ে ঘুমোতে যাবেন তখন আপনার পাকস্থলিতে অনেক চাপ পড়বে। আর এটি নাক ডাকার অন্যতম একটি কারন। তাই চেষ্টা করুন রাত্রে ঘুমনোর সময় যেকোনো এক পাশ হয়ে সুতে।শরীরের বাড়তি ওজন কমানোর চেষ্টা করুন-অনেক সময় শরীরে অতিরিক্ত ওজনের কারনে আপনার নাক ডাকার সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রতিদিন সামান্য ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন। বিশেষ করে ঘাড়ের কাছে গলায় অতিরিক্ত ফোলা থাকলে নাক ডাকার সমস্যা বেশী হয়। চেষ্টা করুন প্রতিদিন রুটিন মাফিক হাটা চলা বা জগিং করার।নেশা বর্জন করুন-নিয়মিত এলকোহল বা ঘুমের ওষুধ গ্রহনে আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ নার্ভ সিস্টেমের উপর চাপ সৃষ্টি করে। এটি নিয়মিত গ্রহন করলে আপনার গলা ও চোয়ালের উপড় প্রেশার ফেলবে এবং পরবর্তীতে আপনার নাক ডাকার অন্যতম একটি কারন হবে এটি। এলকোহল বা ঘুমের ঔষধ যে শুধু মাত্র আপনার নাক ডাকার সমস্যা সৃষ্টি করবে তা ঠিক না। এটির আরও অনেক অনেক খারাপ সাইড ইফেক্ট আছে। তো যদি নিজের ভালো চান তবে এখনি এটি বাদ দিন।আপনার শরীরে কি এলার্জির কোন কোন সমস্যা আছে কিনা-আপনার যদি কোনো কিছুতে এলার্জি থাকে বিশেষ করে নাকে তাহলে দ্রুত তার চিকিৎসা করুন। কারন নাকের এলার্জির কারনে নাক বন্ধ থাকলে ঘুমের সময় নিশ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। ফলে নাক ডাকা রোগ হতে পারে। তাই ঘুমানোর পূর্বে নাকে প্রয়জনীয় স্প্রে অথবা নেসাল ক্লীপ ব্যাবহার করুন।ধূমপানের অভ্যাস থাকলে এখনি সেটি ত্যাগ করুন-আমাদের অন্যতম কু-অভ্যাস হল ধূমপান করা। এটি শরীরের শ্বাসতন্ত্রের অনেক ক্ষতি করে। ধূমপানের করার কারনে ফুসফুসের উপর অনেক চাপ পড়ে। ফলে আপনার স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হবে এবং পরবর্তীতে নাক ডাকা শুরু হবে। তাই অতিরিক্ত ধূমপান থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।প্রতিদিন রাত্রে ঘুমনোর একটি রুটিন তৈরি করুন-অনিয়মিত ঘুমের কারনে এই সমস্যাটি বেশী দেখা দেয়। চেষ্টা করুন প্রতিদিন একই সময় ঘুমনোর। যেমন রাত ১১ টার মদ্ধে ঘুমিয়ে পরলেন আবার সকাল ৭টা বা ৮টার দিকে উঠে পরলেন এমন। আপনার প্রতিদিনকার ঘুম যদি নিরবিচ্ছিন হয় তবে দেখবেন আপনার শরীরটাও অনেক ভালো থাকবে আর এই সমস্যা থেকেও অনেকটা মুক্তি পেয়ে যাবেন।আপনার মাথার নিচের বালিশটা যেন একটু উঁচু হয়-আপনি যখন ঘুমোতে যাবেন তখন আপনার শরীরের ও মাথার উচ্চতা যদি একই হয় তবে এই সমস্যাটি বেশী দেখা যাবে। তাই চেষ্টা করেন একটু উঁচু বালিশ মাথার নিচে দিয়ে ঘুমনোর।আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি।আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন,রয়েছে পাশে সবসময়,মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও