প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। গর্ভাবস্থায় আপনি তলপেটে ব্যাথা বা কোমরে ব্যাথা বা হাতে পায়ের জয়েন্টে ব্যাথা অনুভব করতে পারেন। দেখা যায় কারো কারো তলপেটে ব্যাথা আগে দেখা দেয়, কারো কোমরে ব্যাথা আগে দেখা দেয়। তাই সবগুলো বিষয়ে আপনার স্পষ্ট ধারনা থাকা উচিত। গর্ভধারণের শুরু থেকেই শরীরের কিছু হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এর মধ্যে প্রজেস্টেরন এবং রিলাক্সিন হরমোন সন্তান জন্মদানের প্রস্তুতি হিসেবে কোমরের বিভিন্ন জয়েন্ট, হাতে পায়ের জয়েন্ট এবং লিগামেন্ট এর উপর বিশেষ প্রভাব রাখে বিশেষ করে সন্তান জন্মদানের আগে এবং গর্ভাবস্থায়। এর ফলে মায়ের শরীর অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে, জয়েন্টের ভার বহন ক্ষমতা কমে যায় এবং হাঁটার সময়, অনেক বসে থাকলে, চেয়ার থেকে ওঠার সময়, বা কোন কিছু তোলার সময় শরীরের নানা জায়গায় ব্যাথা অনুভূত হয়।এছাড়াও গর্ভাবস্থায় জরায়ু বড় হওয়ার সাথে সাথে মায়ের শরীরের ভর-কেন্দ্রও পরিবর্তিত হয় এবং পেটের পেশীগুলো সম্প্রসারিত ও দুর্বল হয়ে যায়। এর ফলে মায়ের Posutre আক্রান্ত হয় এবং পিঠের উপর অতিরিক্ত চাপ পরে। এ ছাড়াও যেহেতু মায়ের শরীর এ সময় অতিরিক্ত ওজন বহন করে তাই এ সময় মায়ের শরীরের পেশী এবং জয়েন্টগুলোর উপর চাপ বেশী থাকে। এই কারণে গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যাথা দেখা দিতে পারে।মেয়েদের পেলভিসে একজোড়া লিগামেন্ট থাকে যা রাউন্ড লিগামেন্ট নামে পরিচিত। এগুলোর কাজ হলো জরায়ুকে সঠিক স্থানে ধরে রাখা। গর্ভধারণের আগে এ লিগামেন্টগুলো পুরু এবং ছোট থাকে। গর্ভধারণের পড়ে জরায়ুর আকার বাড়ার সাথে সাথে এ লিগামেন্টগুলো রাবার ব্যান্ডের মত প্রসারিত হয় এবং পাতলা হয়ে যায়। এ কারণে গর্ভাবস্থায় লিগামেন্টগুলো টান টান অবস্থায় থাকে এবং এতে হঠাৎ কোন চাপ পড়লে ব্যাথা অনুভূত হতে পারে। এ ধরনের ব্যাথাকে রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন বলে।গর্ভবতী মায়েরা যখন হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন করেন তখন সাধারণত রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন অনুভূত হতে পারে, যেমন- বিছানা বা চেয়ার থেকে ওঠার সময়। কাশি দেয়ার সময় বা বিছানায় নড়াচড়া করার সময়ও এ ব্যাথা হতে পারে। রাউন্ড লিগামেন্ট পেইনের কারণে শারীরিক ধকল গেলেও চাপা ব্যাথা অনুভূত হতে পারে।গর্ভাবস্থায় কোমরে ব্যাথা হওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে সায়াটিক নার্ভের উপর অতিরিক্ত চাপ। গর্ভাবস্থায় বড় হয়ে যাওয়া জরায়ুর চাপ যখন শরীরের দুটি সায়াটিক নার্ভের উপর পড়ে তখন কোমরে, নিতম্বে বা উরুতে ব্যাথা হতে পারে। এ ধরনের ব্যাথাকে বলে সায়াটিকা ।এ ধরনের ব্যাথা সাধারণত কোমর বা কোমরের উপরে পিঠের মাঝ বরাবর হয়। এ ব্যাথা কখনো কখনো পায়ের দিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়। কিছু কিছু কারণে এ ব্যাথা বেড়ে যেতে পারে, যেমন- একটানা অনেকক্ষন বসে থাকলে বা দাঁড়িয়ে থাকলে বা ভারী কিছু উঠালে। রাতের দিকে এ ধরনের ব্যাথা বেশী অনুভুত হয়। গর্ভাবস্থায় সায়াটিকার হওয়া স্বাভাবিক। গর্ভাবস্থায় আরেকটি লক্ষন খুব বেশি দেখা যায় তা হল পেটে ব্যাথা। গর্ভবস্থায় হালকা পেটে ব্যাথা হতে পারে।এ সময় আপনার জরায়ু ক্রমাগতভাবে বড় হয় এতে জরায়ুর সাথে অবস্থিত লিগামেন্ট, টেনডন, মাংসপেশি তে টান পরে এতে করে ব্যাথা সৃষ্টি হয়। আবার এ সময়ে গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা আরও বেড়ে যায়। ব্যাথা গ্যাস্ট্রিক থেকেও হতে পারে। আপনার যদি পায়খানা শক্ত হয় তাহলেও ব্যাথা হয় তবে তা উপরের পেট এ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যাথা ফলস লেবর পেইন হতে পারে। একে Braxton Hicks contraction বলে। এতে ভয় পাবার কিছু নেই। এটি আপনার শরীরকে ডেলিভারির জন্য তৈরী করে। Braxton hicks contraction স্বাধারনত প্রেগনান্সির শেষের দিকে হয়। তলপেটে এবং কোমরে ব্যাথার আরেকটা কমন সমস্যা প্রস্রাবে ইনফেকশন। এতে আপনার প্রস্রাব পরীক্ষা করে এন্টিবায়োটিক খেলে সমস্যা ঠিক হয়ে যায়। তবে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে ব্যাথার সাথে অন্য কোন উপসর্গ যেমন রক্ত যাওয়া, পানি ভাংগা ইত্যাদি উপসর্গ আছে কিনা। প্রেগনান্সিতে যেকোন ব্যাথা অবহেলা করা উচিত নয়। তাই ব্যাথার কারন জানতে আপনি একজন গাইনী ডাক্তার এর কাছে চেক আপে যান। যদি ব্যাথাটা স্বাভাবিক ব্যাথা হয় এতে বাচ্চার কোন ক্ষতি হবে না। ডেলিভারির সাথে সাথে ব্যাথা কমে আসে। এজন্য আপনাকে ডাক্তার এর দেয়া ঔষধ এবং ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গুলো নিয়ম মত খেতে হবে । শারীরিক কোণ সমস্যা না থাকলে আপনি প্রতিদিন ২০ মিনিট হাটলেও আপনার অনেক ব্যাথা কমে আসবে । আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়াকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও