প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। নিজ থেকে নেশা ছাড়তে চাইলে কাজটা সহজ হয়। তবে এটাও আপনার একটা অবশ্যই ইতিবাচক দিক যে আপনি আপনার স্বামীর নেশাটি ছাড়াতে চাইছেন বা ভেবেছেন। চেষ্টা করেও তা হয়তো পারেননি, কারণ যেকোন মাদক ছাড়ার পর যে শারীরিক ও মানসিক সমস্যা তৈরি হয়, তার যথাযথ চিকিৎসা করেননি। গ্রাহক, মাদক ছাড়ার ক্ষেত্রে সবার আগে যেটা প্রয়োজন সেটা হলো নিজের থেকে সচেতন হওয়া৷ আপনি ধৈর্য্য আর ভালোবাসার সাথে আপনার স্বামীকে ব্যাপার টা বোঝাতে পারেন৷ তার মধ্যে নেশা ছাড়ার জন্য সচেতনতা বা সম্মতি তৈরি করতে চেষ্টা করতে পারেন। যেকোনো নেশাজাতীয় মাদকের ক্ষেত্রে স্থান-কাল-পাত্র বলে একটা কথা আছে। যেমন মাদক গ্রহণকারী বন্ধুদের দেখলে; যে জায়গায় মাদক নেওয়া হয়, সেখানে গেলে এবং যে সময় মাদক নেওয়া হয়, সে সময় এলে মাদকের প্রতি প্রচণ্ড আকর্ষণ বেড়ে যায়। ফলে এসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতে হবে। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। যখনই আপনার স্বামীর মাদক নিতে ইচ্ছে করবে তখনই তাকে অন্য কোন ইতিবাচক চিন্তাভাবনা বা কাজে ব্যস্ত করে ফেলতে চেষ্টা করতে বলতে পারেন। হাতের নাগালে কোন ধরনের মাদক দ্রব্য রাখবেন না। প্রিয়জনের হিসেবে আপনি যথাসম্ভব কাছে থাকবেন। পরিবারকে অন্যান্য সদস্যদের জানাতে পারেন । এখানে লজ্জার কিছু নেই। এটা একটা রোগ। অন্য কোনো রোগ হলে কি আপনি লুকিয়ে রাখতেন? তাই পরিবারের সদস্যদের থেকে সাহায্য চাইতে পারেন। শরীরের যে ক্ষতির কথা ভাবছেন তা ভালোভাবে জানার জন্য এখনই একজন চিকিৎসকের সাহায্য নিতে পারেন। শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে যাতে নিশ্চিত হয়ে যেতে পারেন। তাছাড়া নিকটস্থ মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে থেকেও সাহায্য নিতে পারেন। তাকে ড্রাগ কাউন্সেলিং সেবা গ্রহণের মাধ্যমে নেশা ছাড়াতে পারেন। পাশাপাশি আপনি নিজের প্রতি এবং তার প্রতিও যত্নশীল থাকুন। নেতিবাচক কিছু মনে আশ্রয় না দিয়ে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করার চেষ্টা করতে পারেন। একইভাবে চিন্তা করতে তাকেও উৎসাহ দিতে পারেন। আপনার স্বামীকে দৈনিক শারীরিক ব্যায়াম ও মেডিটেশন চর্চা করতে বলতে পারেন। এতে তার শরীর ফিট থাকবে, মনও ভালো থাকবে। নিজের সবকিছুর মতো অন্যের চাওয়া, প্রত্যাশা গুলোর প্রতিও সহানুভূতিশীল থাকবার চেষ্টা করতে বলতে পারেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রতিও গুরুত্ব দিতে উৎসাহ দিতে পারেন। তার এধরণের আচরণ আপনাদের পরিবারের উপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে সেই ব্যাপারে তার সাথে খোলাখুলি ভাবে ও যুক্তিসঙ্গত ভাবে আলোচনা করে নিতে পারেন। তার মন ভালো থাকে এমন কাজ করতে পারেন একসাথে। এতে আপনাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়বে। তার পরিমিত ঘুম ও বিশ্রাম নিশ্চিত করতে চেষ্টা করুন। আপনার ও আপনার পরিবারের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও