প্রিয় গ্রাহক,গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের শরীর ও মনে অনেক ধরনের পরিবর্তন আসে।এসময় গর্ভবতী মায়ের সঠিক যত্ন নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।এক্ষেত্রে আপনি নিচের উপদেশ মেনে চলুন- গর্ভাবস্থায় খাদ্য - গর্ভবতী মায়ের জন্য দরকার সুষম খাদ্যতালিকা, যাতে করে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত হয় ও খাদ্যঘাটতি দূর হয়। এ সময় প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ, প্রচুর পরিমাণে মওসুমি ফল ও শাক-সবজি খেতে হবে। এ সময় প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। অতিরিক্ত তেলযুক্ত,ভাজাপোড়া,মসলা যুক্ত খাবার না খাওয়াই ভালো। পরিমিত হালকা কাজ নারীর গর্ভকালীন সময়ে অতিরিক্ত পরিশ্রম না করে হালকা হাঁটাচলা করা উচিত। ভারী জিনিস বহন করা বা তোলা যাবে না। পিচ্ছিল স্থানে বা উচু নিচু ভাঙ্গা রাস্তায় হাঁটা যাবে না এবং সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশ্রাম এ সময় দিনের বেলা কমপক্ষে দু-ঘণ্টা ঘুম বা বিশ্রাম এবং রাতে কমপক্ষে আট ঘণ্টা ঘুম আবশ্যক। ঘুমানো বা বিশ্রামের সময় বাঁ-কাত হয়ে শোয়া ভালো। পোশাক গর্ভবতী মায়েদের অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, আরামদায়ক ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা উচিত। সঠিক মাপের এবং নরম জুতো পরতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই হিল পরিহার করা উচিত। ভ্রমণ গর্ভকালীন প্রথম তিন মাস ও শেষ তিন মাস দীর্ঘ ভ্রমণে না যাওয়াই ভালো। উঁচু-নিচু পথ কিংবা ঝাঁকির আশঙ্কা আছে এমন যানবাহনে ভ্রমণ করা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। মন ভালো রাখার জন্য প্রতিদিন সকালে ও বিকালে ছাদে অথবা পার্কে হাটতে পারেন। টিটেনাস টিকা গর্ভধারণের পূর্বে টিটি টিকার ৫ টি ডোজ সম্পূর্ণ না হলে গর্ভাবস্থার ৫-৭ মাসের মধ্যে ২ মাসের ব্যবধানে দুইটা টিটি টিকার ডোজ অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা - গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন গোসল করা উচিত।পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন।এ সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে। তাই ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাম, চিকেন পক্স, কমন কোল্ড ইত্যাদি ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত রোগী থেকে দূরে থাকতে হবে। বিশেষ সতর্কতা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, ভয়, রোগ-শোক ইত্যাদি গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর, তাই এসব এড়িয়ে চলুন। ভালো চিন্তা করুন সহবাস - প্রথম তিন মাস ও শেষ তিন মাস স্বামীর সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে।এছাড়াও যদি পূর্বে কোনো গর্ভপাত,যমজ বাচ্চা,প্রী টার্ম বেবি হওয়ার ইতিহাস থাকে এবং এই প্রেগন্যান্সিতে গর্ভফুল নিচের দিকে থাকে সেক্ষেত্রে অবশ্যই প্রেগন্যান্সির পুরো সময়ে সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে। ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতা - চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করা যাবে না নিয়মিত চেক আপ - গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য এবং সব ধরনের ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞ গাইনী চিকিৎসকের কাছে নিয়মিত চেক আপ করুন। ভালো থাকবেন।পাশে আছে সবসময়,মায়া।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও