প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। গ্রাহক,আপনি কত সপ্তাহের প্রেগন্যান্ট? গ্রাহক,গর্ভাবস্থায় মায়েদের পেট ব্যথা হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়, বেশ স্বাভাবিক ব্যপার। কারণ এসময়ে নারীদের দেহের অনেক অঙ্গের মাঝে পরিবর্তন ঘটে, জরায়ু আকারে বড় হয়ে যায়, লিগামেন্ট টান টান হয়ে যায়। এছাড়া সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মর্নিং সিকনেস তো আছেই। কিন্তু যখন এই ব্যথা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন অবশ্যই চিন্তার কারণ রয়েছে ও সেক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। গর্ভাবস্থায় পেটে ব্যথার কিছু স্বাভাবিক কারণ :- · জরায়ুর আকার বড় হয়ে যাওয়া · লিগামেন্টের ব্যথা ( জরায়ুর চারপাশের পর্দার মতন আবরনে এমনি এমনিই ব্যাথা হয় তাকে রাউন্ড লিগামেন্ট পেইন বলে), · কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাস . বাচ্চার নড়াচড়ার জন্য ও পেট ব্যথা হতে পারে . ব্র্যাক্সটন হিক্স কন্ট্রাকশান (জরায়ুতে হাল্কা সংকোচন প্রসারন হয় যেটির কারনে অনেকের ব্যাথা হতে পারে- এর কারন অজানা) . প্রস্রাবে ইনফেকশনের কারনেও তলপেটে ব্যথা হতে পারে।তবে সেক্ষেত্রে ইউরিন ইনফেকশনের অন্যান্য লক্ষ্যন ,যেমন - প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া,জ্বর বা জ্বর- জ্বর ভাব থাকবে।যদি এই ধরনের লক্ষ্যন থাকে ,তবে দেরী না করে আপনার গাইনী বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করুন। .কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য ও পেট ব্যথা হতে পারে।গর্ভাবস্থায় অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন৷ অনুপযুক্ত খাবর গ্রহণ, প্রয়োজনমতো পানি পান না করা ও অনিয়মিত পরিশ্রমের ফলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়৷ প্রতিকারের জন্য প্রয়োজন :- ১৷ প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা৷ ২৷ প্রচুর পরিমাণ শাক-সবজি ও টাটকা ফল খেতে হবে৷ যেমন - কলা, আম, গাছপাকা পেয়ারা, খেজুর, পেঁপে, আপেল ইত্যাদি৷ এছাড়াও দুধ-ভাত, কলা কিংবা আটার রুটি ও দুধ খাওয়া যেতে পারে৷ ৩৷ নিয়মিত ঘরের কাজ ও হাঁটাচলা করতে হবে ৪৷ প্রয়োজনে চিকিত্‌সকের পরামর্শ অনুযায়ী ইসবগুলের ভুষি খেতে পারেন৷ এরকম কারণে পেটে ব্যথা হলে চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু এখন যে লক্ষ্যনগুলো বলতে যাচ্ছি, সেগুলোর কোনটা আপনার মাঝে বর্তমান থাকলে, যদি আপনি সন্তান সম্ভবা হয়ে থাকেন তবে আপনার অবশ্যই এগুলোর ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে হবে।এরজন্য নিচের বিপদ চিহ্ন গুলো মাথায় রাখবেন : *চোখের পাতা, জিভ, দাঁতের মাড়ি, হাতের তালু ফ্যাকাশে হয়ে গেলে৷ সব সময় ক্লান্তি অনুভব করলে এবং ঘনঘন শ্বাস নিলে বা শ্বাসকষ্ট হলে * সন্তান প্রসবের আগে ব্যথাহীন বা ব্যথাসহ যে কোনও অতিরিক্ত রক্তস্রাব শুরু হলে * উচ্চ রক্তচাপ (১৪০/ঌ০ মিলিমিটার পারদ চাপের চেয়ে বেশি হলে) * অতিরিক্ত মাথাব্যথা হলে, ঝাপসা দেখলে এবং চোখে অস্পষ্ট দেখলে * গোড়ালি, হাত, মুখ ফুলে গেলে * শরীরে খিঁচুনি হলে অথবা অজ্ঞান হয়ে গেলে৷ * জন্ডিসে চোখ হলদেটে হয়ে গেলে এবং প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ বা লালচে হয়ে গেলে * মাত্রাতিরক্তি বমি করলে * প্রচন্ড জ্বর (স্থায়ী জ্বর, ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে)-৩ দিনের বেশি থাকলে * তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা করলে * যোনিপথ দিয়ে কোন তরল পদার্থ বা রক্ত বের হলে * নির্দিষ্ট তারিখের ৩ সপ্তাহ বা তারও আগে পানি ভেঙে গেলে (গর্ভকালের ৩৭ সপ্তাহের আগে) আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও