আপনাকে ধন্যবাদ।  গর্ভধারণের প্রাথমিক পর্যায়টা প্রতিটি নারীর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই সময়ে একটু অসাবধানতার কারণে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। অকাল গর্ভপাতের ঘটনা যে কোনো নারীকেই মানসিক-শারীরিক ভাবে বিপর্যস্ত করে দেয়।মিসক্যারেজ বা অকাল গর্ভপাত হল কোনো কারণে গর্ভে থাকা ভ্রুণের অকাল মৃত্যু।ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার পর পরবর্তী পাঁচ মাসের (২০ সপ্তাহ) মধ্যে যে কোন সময়ে গর্ভপাত হতে পারে।এটি নানা কারণে হতে পারে এবং একবার হলে বারবার হবার সম্ভাবনাও থাকে।ঠিক কি কারণে এই অকাল গর্ভপাতের মতো দুর্ঘটনা ঘটে তা সবসময় বোঝা সমভব নয়, তবে কিছু সাধারণ কারণ কে এর জন্য দায়ী করা যেতে পারে, যেমন-শুক্রাণু বা ডিম্বাণুর ক্রোমোজমাল বা গঠনগত কোন ত্রুটি।সার্ভিকাল ইনকম্পিটেন্স বা জরায়ুর মুখ যদি ভ্রূণকে জরায়ুর ভেতর ঠিকভাবে ধরে না রাখতে পারে।গর্ভাবস্থায় যদি মায়ের রক্তচাপ অনেক বেড়ে যায় তবে ভ্রূণেরও রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে গর্ভপাত হতে পারে।গর্ভবতী মায়ের যদি আগে থেকেই ডায়াবেটিস থেকে থাকে এবং তা যদি অনিয়ন্ত্রিত থাকে তবে অনেক সময় গর্ভপাত হতে পারে।যদি মা গুরুতরভাবে ম্যালেরিয়া, সিফিলিস, হাম বা কলেরা রোগে আক্রান্ত হন তবে এর জীবাণুর কারণে গর্ভপাত হতে পারে।মায়ের যদি থাইরয়েড-এর সমস্যা থাকে তাহলে ভ্রূণের বিকাশে ব্যাঘাত ঘটে গর্ভপাত হতে পারে।গর্ভাবস্থায় মা যদি প্রচন্ড মানসিক দুশ্চিন্তা বা কষ্টে থাকেন তখন ভ্রূণের হৃদস্পন্দনের ভারসাম্যহীনতার কারণে গর্ভপাত হতে পারে।গর্ভাবস্থায় পড়ে গিয়ে পেটে প্রচন্ড আঘাত পেলে কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণের কারণে গর্ভপাত হতেপারে।গর্ভপাতের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন- যাদের এর আগে দুই বা ততোধিক বার গর্ভপাত হয়েছে।মায়ের বয়স যদি ৩৫ বা তার বেশী হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে গর্ভপাতের ঝুঁকিও বাড়তে থাকে।মা যদি সিগারেট, অ্যালকোহল বা অন্য কোনও নেশায় আসক্ত থাকেন, তাহলেও ঘটে যেতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাত।মা যদি গর্ভাবস্থায় কোন ক্ষতিকর ক্যামিকেল-এর সংস্পর্শে আসে তবে গর্ভপাতের ঘটনা ঘটতে পারে।মায়ের শরীরে যদি অতিরিক্ত চর্বি থাকে এবং মায়ের বডি ম্যাস ইন্ডেক্স যদি ৩০ বা তার বেশী হয় তাহলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেশী থাকে।এছাড়াও পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম-এর কারণেও গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।গর্ভধারনের পর শুরুতে বা যেকোন সময় রক্তপাত হলে, তা কি পরিমানে হচ্ছে, অন্য কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা দেখতে হবে। রক্তপাত, রক্তের দলা বা চাকা গেলে বা যেকোন সমস্যা মনে হলে বিলম্ব না করে গাইনী ডাক্তার দেখিয়ে নিয়তে হবে, এসময় অবস্থা যাচাই করে ডাক্তার প্রয়োজনীয় চিকিতসা দিয়ে থাকবেন। গর্ভপাতের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য শারীরিক কিছু পরীক্ষা করার পর আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা এবং রক্তের কিছু টেস্ট দিতে পারেন।বেশিরভাগ গর্ভপাত জেনেটিক সমস্যার কারণে হয়। দূর্ভাগ্যবশত এগুলো প্রতিরোধ এর উপায় নেই। তবে যেসব অন্য কারণে হয়, সেগুলো প্রতিরোধ করা যেতে পারে। যদি একবার হয়ে থাকে গর্ভপাত, তাহলে সম্ভব হলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করন, গর্ভপাতের কারণটা জানার চেষ্টা করুন। পরবর্তী গর্ভধারণের আগে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ আছেন কিনা তা দেখার জন্য তাদের শারীরিক চেকআপ দরকার৷ ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো রোগ থাকলে সেটা আগে থেকেই সারিয়ে নেয়া ভালো।পরবর্তী কনসিভের আগে ডাক্তার দেখিয়ে আসবেন। নিয়মিত চেক আপে যাবেন কনসিভ করলে।  সহবাস থেকে তখন পুরোপুরি বিরত থাকবপন৷         আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। যে কোন প্রশ্ন থাকলে জানাবেন মায়াকে। রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও