আমার জেন্ডার ফিমেল।বয়স ২১।আমি আমার রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।আমার বয়ফ্রেন্ড আছে।তার কোনো কাজ যদি আমার মন মতো না হয় আমি রেগে যাই।আর সে মুহূর্তে আমি কি করি সে ব্যাপারে আমার কোনো হুঁশ থাকে না।নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ি।গালিগালাজ করি,মাঝে মাঝে গায়ে হাত তুলে ফেলি।কিন্তু যখন রাগ কমে যায় স্বাভাবিক হই তখন তার জন্য ভীষণ অনুতপ্ত বোধ হয়। আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। আমার পরিবারে বাবা সবসময় ডমিনেটিভ ছিলো।সে আমার মা কে ফিজিক্যাল অ্যাবিউজ করতো।আমি এ ব্যাপারটাকে মন থেকে ঘৃণা করি।কিন্তু নিজেই যখন এমনটা করি তখন নিজের উপর ভীষণ ঘৃণা জন্মে। আমি কি মেন্টালি সিক হয়ে যাচ্ছি??? আমার কি কাউন্সিলিং এর প্রয়োজন??

প্রিয় গ্রাহক, আপনার ব্যাক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি যে আপনার এই সমস্যাটি নিয়ে চিন্তা করছেন এটা খুবই প্রশংসনীয়। আনন্দ, হাসি, কান্নার মত রাগও একটি স্বাভাবিক আবেগ। রাগ প্রত্যেকটা মানুষেরই হয় কিন্তু আপনাকে সঠিক ভাবে সেটা প্রকাশ করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। প্রথমত, আপনি যে সব ঘটনা বা বিষয়গুলোর কারণে রেগে যাচ্ছেন সে সব ঘটনা বা বিষয়গুলো চিহ্নিত করুন। যখন আপনি আপনার রেগে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে সজাগ থাকবেন তখন আপনি সহজেই সেগুলো থেকে দূরে থাকতে পারবেন বলে মনে করি। চিহ্নিত করার পদ্ধতি হিসেবে আপনি সেগুলো ডায়েরীতে লিখতে পারেন। রাগের ফলে আপনার কি ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে সেটাও খেয়াল করতে পারেন। যখন আপনার মনে হচ্ছে আমি রেগে যাচ্ছি তখন কিছু সময়ের জন্য বিরতি নিতে পারেন। বিরতি নিয়ে পরবর্তীতে বিষয়টা নিয়ে গুছিয়ে কথা বলতে পারেন যাতে আপনার আশে পাশে থাকা মানুষগুলো কষ্ট না পায় আর সম্পর্কগুলোও ভাল থাকে। গ্রাহক খেয়াল করবেন আপনি সব বিষয়ে সমান পরিমানে রাগ হন না আবার একই বিষয়ে সব সময় একই মাত্রার রাগ হন না। সেক্ষেত্রে এটা স্পষ্ট যে রাগের ক্ষেত্রে আমাদের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় কাজ করে যেমনঃ কোন একটা বিষয় এমনই হতে হবে এটা কাজ করে (always, should, must)। এই always, should, must থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে আপনি আপনার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন বলে মনে করছি।  এছাড়া ব্যায়াম, মেডিটেশন কিংবা পছন্দের কোন কাজও করতে পারেন। সুতরাং আপনি নিজের রাগকে কন্ট্রোল করার জন্যঃ ১। যে যে কারণে রাগ হয় তা চিহ্নিত করা যাতে পরবর্তীতে সচেতন থাকা যায়, ২। যখন রাগ হয় তখন একটু থেমে নিজেকে সময় দিন, ৩। লম্বা ও গভীর শ্বাস নেয়া, ৪। এক গ্লাস শীতল পানি পান করা, ৫। জায়গাটি ত্যাগ করে নিজের মনোযোগ অন্যদিকে সরানো, ৬। ইয়োগা কিংবা মেডিটেশন করতে পারেন। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আরো কোন প্রশ্ন থাকলে মায়াকে জানাবেন। আপনার পাশে মায়া সবসময় আছে।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও