গ্রাহক পিউরিন ভাঙার ফলেই ইউরিক এসিড উৎপন্ন হয়। পিউরিন শরীরে উৎপন্ন হয় এবং আমরা যে খাবার খাই তাতেও থাকে পিউরিন। কিডনি শরীর থেকে ইউরিক এসিড ভালোভাবে বের করে দিতে না পারলে শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন কারণে শরীরে ইউরিক এসিড জমা হতে থাকে। যেমন- অতিরিক্ত ওজন, অনেকবেশি অ্যালকোহল পান করা, পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, হাইপোথাইরয়ডিজম, মূত্রের অপ্রতুলতা, ইমিউন-সাপ্রেসিং ড্রাগ, কিছু মূত্রবর্ধক ইত্যাদি।রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা অনেক বেশি হলে তাকে হাইপারইউরেসেমিয়া বলে। ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে গেটে বাত এবং আরথ্রাইটিসের মত রোগ হতে পারে। ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধির প্রধান অপরাধী প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। কম পিউরিন যুক্ত খাবার গ্রহণ করাই এই সমস্যা থেকে মুক্ত থাকার প্রধান উপায়।শরীরে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধির জটিলতাকে এড়িয়ে যাওয়ার ঔষধ গ্রহণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াও জরুরী। এমন কিছু খাবার আছে যা ইউরিক এসিডের মাত্রাকে কমতে সাহায্য করে, সেরকম কিছু খাবারের কথাই জেনে নিন আজ।১। অ্যাপল সাইডার ভিনেগারআপেলের ম্যালিক এসিড ইউরিক এসিডের মাত্রাকে কমিয়ে রাখতে সাহায্য করে। ৮ আউন্স কুসুম গরম পানিতে ১-৩ চা চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার পান করার পরামর্শ দেয়া হয়। তাজা আপেল খেলেও একই রকম ফল পাওয়া যায়।২। অলিভ অয়েলঅলিভ অয়েল ইউরিক এসিডের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জলপাই বা জলপাই এর তেলের অ্যান্টিইনফ্লামেটরি গুণ আছে। আপনি আপনার সবজিতে, সালাদে বা পাস্তায় অলিভ অয়েল যোগ করতে পারেন।৩। বাদামকাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও আখরোটের মত বাদাম ইউরিক এসিডের মাত্রাকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। কারণ এ বাদামগুলোতে ৪০ মিলিগ্রামের ও কম পিউরিন থাকে। তবে চিনাবাদাম খাওয়া এড়িয়ে যেতে হবে, কারণ ১ কাপ চিনাবাদামে ৮০ মিলিগ্রামের কাছাকাছি পিউরিন থাকে।৪। লেবুর রসবৃদ্ধিপ্রাপ্ত ইউরিক এসিডের মাত্রা কমানোর সবচেয়ে ভালো প্রতিকার হচ্ছে সাইট্রিক এসিড। লেবু ভিটামিন সি ও সাইট্রিক এসিডের চমৎকার উৎস। ১ গ্লাস উষ্ণ পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন দিনে ২/৩ বার।৫। পানিদৈনিক প্রচুর পানি পান করা ইউরিক এসিডের মাত্রা কমায় এবং ইউরিক এসিডের স্ফটিক জমার কারণে সৃষ্ট ব্যথা কমতে সাহায্য করে। দৈনিক ১০-১২ গ্লাস পানি পান করুন। এছাড়াও তরল খাবার ও পানি বেশি আছে এমন ফল বেশি করে খান।৬। বেকিংসোডা গবেষণায় দেখা গেছে যে, ইউরিক এসিডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে বেকিংসোডা। এটি শরীরকে ক্ষারীয় অবস্থায় রাখতে সাহায্য করে, যা ইউরিক এসিডকে অনেক বেশি দ্রবণীয় হতে সাহায্য করে এবং এর রেচনেও সাহায্য করে।৭। ভিটামিন সি উচ্চমাত্রার ইউরিক এসিডকে কমতে সাহায্য করে ভিটামিন সি। যারা ইউরিক এসিডের উচ্চমাত্রার সমস্যায় ভুগছেন তাদের ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যেমন- পেয়ারা, কিউই, কমলা, টমেটো ইতাদি ফল খাওয়া উচিৎ।এর সাথে আপনি ডাল জাতীয় খাবার, লাল মাংস খাবেন না।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও