প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। গ্রাহক আপনার সম্পর্কে কিছু জানতে পারি? আপনি ছেলে না মেয়ে ? আপনার বয়স কত? আপনি এই বিষয়ে কি নিজের জন্য জানতে চাচ্ছেন? নাকি আপনার পরিচিত কারো জন্য? গ্রাহক,প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে ৯ ঘন্টার বেশি ঘুমানোকে অতিরিক্ত ঘুমের মানদন্ড হিসাবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।তবে প্রায় সব ঘুম বিশেষজ্ঞ অতিরিক্ত ঘুমানো নির্ণয়ে দিনের বেলা তন্দ্রা বা ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। অতিরিক্ত ঘুমানোর কারণসমূহ- অতিরিক্ত ঘুমানো অনেক ক্ষেত্রেই নানাবিধ কারণে হয়ে থাকে আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।অতিরিক্ত ঘুমানোর প্রধান প্রধান কারণসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো- - হাইপোথাইরয়েডিজম (HYPOTHYROIDISM): থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিজনিত কারণে এ রোগ হয়।হাইপোথাইরয়েডিজমের অন্যতম প্রধান উপসর্গ হলো অতিরিক্ত ঘুম,এমনকি এরা বসে থেকেও ঘুমায়।এজন্য কেউ অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার থাইরয়েড হরমোন পরিমাপের দুটো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা fT4 ও TSH করতে দেন। - লৌহ ঘাটতিজনিত রক্তাল্পতা (IRON DEFICIENCY ANAEMIA): আমাদের দেশে বাচ্চা উৎপাদনে সক্ষম বয়সী নারীদের (১৫-৪৯বছর) অধিকাংশই লৌহ ঘাটতিজনিত রক্তাল্পতা বা IRON DEFICIENCY ANAEMIA তে ভুগে থাকেন।এ ধরনের রক্তাল্পতায় আক্রান্ত ব্যক্তি অতিরিক্ত ঘুমাতে পারেন - ঘুমের মধ্যে অতিরিক্ত পা নড়াচড়ার সমস্যা: Restless Legs Syndrome(RLS) ও Periodic Limb Movement Disorder(PLMD) নামক দুটো অসুখে ঘুমের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তি অতিরিক্ত পা নাড়ায় কিংবা লাথি মারে।এ ধরনের সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের মধ্যে অতিরিক্ত ঘুমানোর প্রবণতা দেখা যায়। - স্থূলতা (OBESITY): যারা বাড়তি ওজনজনিত সমস্যায় ভুগছেন তারাও অতিরিক্ত ঘুমাতে পারেন। - রাতের বেলা অপর্যাপ্ত বা বিঘ্নিত ঘুম: রাতের বেলা যাদের নানা কারণে ঘুম ভেঙ্গে যায় বা যথেষ্ট পরিমাণ ঘুমাতে পারেন না তারাও দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুমাতে পারেন।আধুনিক জীবনে আচরণগত পরিবর্তনের কারণে মানুষ রাত জাগে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বুঝতে পারে না যে প্রয়োজনের তুলনায় কম ঘুম হচ্ছে।এ অবস্থায় Behaviorally Induced Insufficient Sleep Syndrome নামে নতুন এক অসুখের উদ্ভব হয়েছে।এর কারণেও অতিরিক্ত ঘুমানোর সমস্যা হতে পারে। - ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া বা SLEEP APNOEA: এ অসুখে রাতের বেলা ঘুমের মধ্যে প্রতিবার প্রায় ১০ সেকেন্ডের জন্য শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং তা একরাতেই ৩০বারেরও অধিকবার ঘটতে পারে।এ রোগের রোগীরা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমান।এ অসুখটি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ।এ অসুখে হার্টবিটের অনিয়ন্ত্রিত হারের কারণে বা হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মানুষ মারা যেতে পারে। - নারকোলেপসি (NARCOLEPSY): এ অসুখে আক্রান্ত ব্যক্তি দিনের বেলা এমনকি কর্মরত অবস্থাতেও ৫মি.-৩০মি. এর জন্য ঘুমিয়ে পড়েন যা দিনে একাধিকবার ঘটতে পারে।এ অসুখটি চল্লিশ বছর বয়সের আগেই বেশি দেখা যায়। -  ব্রেনের বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ: পারকিনসন্স রোগ (এ রোগে শরীর বিশেষত হাত-পা কাঁপে), অ্যালজেইমার্স রোগ (এ রোগে স্মৃতি হারাতে থাকে), এনকেফালাইটিস (ব্রেনের প্রদাহজনিত রোগ), হাইড্রোসেফালাস (ব্রেনে পানি জমা), ব্রেন টিউমার সহ ব্রেনের নানাবিধ অসুস্থতায় একজন মানুষ অতিরিক্ত ঘুমাতে পারেন।মাথায় আঘাত (Head Injury) পাওয়ার পরবর্তী ৬মাস থেকে ১৮মাসের মধ্যে অতিরিক্ত ঘুমানোর সমস্যা দেখা দিতে পারে। - বিষণ্নতা (DEPRESSION): যদিও বিষণ্নতায় ভোগা রোগীদের একটা বড় অংশ নিদ্রাহীনতার সমস্যায় ভোগেন,তারপরেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিষণ্ন মানুষ (প্রায় ১৫%) অতিরিক্ত ঘুমাতে পারেন। - চিকিৎসারত মৃগী রোগী:চিকিৎসারত মৃগী রোগীরা অতিরিক্ত ঘুমায় মূলত মৃগীরোগের ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়। - দীর্ঘমেয়াদী অবসন্নতা (CHRONIC FATIGUE SYNDROME): এ ধরনের রোগে কোন কারণ ছাড়াই রোগী অতিরিক্ত অবসন্নতা অনুভব করেন।এ অসুখের অন্যতম প্রধান উপসর্গ হলো অতিরিক্ত ঘুমানো।যদিও এই অতিরিক্ত ঘুম রোগীর দূর্বলতা বা অবসন্নতা কাটাতে কোন ভূমিকা রাখে না। - ফাইব্রোমায়েলজিয়া(FIBROMYALGIA): অজ্ঞাত কারণের এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অতিরিক্ত ঘুমানোর সমস্যায় ভুগে থাকেন। -কিডনির অসুখ ও ডায়ালাইসিসঃ দীর্ঘমেয়াদী কিডনির অসুখে (Chronic Kidney Diseases) ভোগা একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীদের মধ্যে অতিরিক্ত ঘুমের প্রবণতা দেখা যায়।এমনকি ডায়ালাইসিসরত রোগীদের বেশ বড় একটা অংশ অতিরিক্ত ঘুমজনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন। -AUTOIMMUNE DISEASES- লুপাস(LE), গেঁটে বাত (Rheumatoid Arthritis), Celiac disease, Morvan’s syndrome ইত্যাদি রোগে দেহের ভিতরেই নিজ দেহের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।এসব রোগে ভোগা অনেক রোগী অতিরিক্ত ঘুমানোর সমস্যায় ভুগেন। -সংক্রমণ পরবর্তী অতিরিক্ত ঘুম: বেশ কিছু ভাইরাস সংক্রমণের (যেমন- Acute Guillain-Barre Syndrome, HIV, Mononucleosis…) কয়েকমাস পর অতিরিক্ত ঘুমানোর সমস্যা দেখা দিতে পারে। -ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়: অস্থিরতানাশক ঔষধ (Anxiolytics), বিষণ্নতাবিরোধী ঔষধ (Anti-depressant), এন্টিহিস্টামিনিক (Anti-histaminics), মৃগীরোগের ঔষধ (Anti-epileptics), ঘুমের ঔষধ (Sedative-hypnotics) ইত্যাদি ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অতিরিক্ত ঘুম হতে পারে। -মাদকাসক্তি: যারা মাদক দ্রব্য যেমন মদ, ফেনসিডিল, মরফিন, হেরোইন ইত্যাদি সেবন করেন তাদেরও অতিরিক্ত ঘুম হয় বিশেষত দিনের বেলায়। -জেনেটিক (GENETIC)- কিছু জেনেটিক রোগ রয়েছে যার অন্যতম প্রধান উপসর্গই হলো অতিরিক্ত ঘুম।এ ধরনের অসুখের মধ্যে রয়েছে PRADER-WILLI SYNDROME,NORRIE DISEASE,NIEMANN-PICK DISEASE(TYPE-C) ইত্যাদি। -অজ্ঞাত বা IDIOPATHIC HYPERSOMNIA: এ ধরনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘুমানোর কোন সুনির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায় না। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও