গ্রাহক আপনাকে ধন্যবাদ। গ্রাহক বিকাল বেলা না ঘুমানোই ভালো । আপনি যদি বিকালবেলা ঘুমান সেক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই রাতের বেলা ঘুম কম হবে । এছাড়া ভালো ঘুমের জন্য কিছু নিয়ম-কানুন বা স্লিপ হাইজিন মেনে চলা জরুরি। এই নিয়ম-কানুনগুলো মন থেকে মেনে চললে আপনার অবাধ্য ঘুম ধীরে ধীরে বাধ্য আর লক্ষ্মী হয়ে উঠবে। তবে অনেক সময় অন্য কোন রোগের উপসর্গ হিসেবেও ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে স্লিপ হাইজিনের সাথে সাথে সেই রোগের চিকিৎসাও শুরু করা দরকার।    ● আলো ও শব্দ কমানো: আমাদের মন রাতের অন্ধকারের সঙ্গে ঘুমের সম্পর্ক তৈরি করে। তাই ঘুমানোর আগে ঘরের পর্দা টেনে দিয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কোলাহলপূর্ণ পরিবেশও নির্ভেজাল ঘুমের পথে অন্তরায়।ঘুমোতে যাবার পর শোবার ঘর যতটা সম্ভব অন্ধকার করে রাখুন। ● আপনার ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসগুলো বিছানা থেকে সরিয়ে ফেলুন। ● ঘুমোতে যাবার আগ মুহূর্তে টেলিভিশন দেখা বা যেকোনো স্ক্রিনে চোখ রাখা থেকে বিরত  থাকুন। ● আপনার সমস্ত কাজ ঘুমোতে যাবার এক ঘন্টা আগে সেরে নিন।  ● বিকেলের পর থেকে চা ,কফি, চকলেট এবং কড়া মিষ্টি বা গ্লুকোজ জাতীয় খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।চিনিযুক্ত খাবার বেশি খেলে ঘুমে সমস্যা হয়। খেতে পারেন গরম দুধ, এতে মেলে প্রশান্তির অনুভূতি। রাতের খাবারে সিরিয়াল, ভাত খাওয়া উচিত। যা সেরোটনিন হরমোন তৈরি করে, ফলে ঘুম ভালো হয়।  ● রেড মিট বা প্রোটিন জাতীয় খাবার ঘুমানোর কয়েক ঘন্টা আগে গ্রহন করুন। তবে ঘুমোতে যাবার আগে হালকা ফলমূল খেতে পারেন। আর যে সমস্ত খাবারের প্রতি আপনার এলার্জি বা সংবেদনশীলতা আছে তা পরিহার করুন।  ● দীর্ঘক্ষণ দিবানিদ্রার অভ্যাস ত্যাগ করুন। একান্ত প্রয়োজন হলে দুপুরের দিকে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টার ছোট ঘুম বা বিশ্রাম নেয়া যেতে পারে। ● প্রতিদিন হাটা, ইয়োগা করা বা অন্য কোন ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ইয়োগার নির্দিষ্ট কিছু আসন বা পোজ আছে যা ভাল ঘুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যয়াম করুন,যাতে শরীরে ক্লান্তি আসে। নিজেকে সবসময় কর্মব্যাস্ত রাখার চেষ্টা করবেন,এতে আপনি ক্লান্তহবেন আর ক্লান্ত শরীরে ঘুম আসবেই। ●তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: ভালো ঘুমের জন্য শোবার ঘর এবং শারীরিক তাপমাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শোবার ঘরের তাপমাত্রা খুব বেশি বা খুব কম হলে ঘুমে সমস্যা হতে পারে। শোবার ঘরের আদর্শ তাপমাত্রা হল ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি আপনার শরীরের তাপমাত্রা কমাতেও সহায়তা করবে। * ঘুমের সঙ্গে বিছানার সম্পর্ক স্থাপন: বিছানায় শুয়ে খাওয়া, টেলিভিশন দেখা ও গেইম খেলা এড়িয়ে চলা উচিত। শোবার ঘরের বিছানাটি পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং ঘুমানো ছাড়া অন্য কোন কাজ যেমন খাওয়াদাওয়া বা অন্য কোন জিনিসপত্র রাখা ইত্যদি থেকে বিরত থাকুন।গবেষণায়  দেখা গেছে, পরিষ্কার বিছানার চাদর ভালো ঘুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকদের মতে, “বিছানার চাদর পরিষ্কার থাকলে ৭৫ শতাংশ মানুষেরই ঘুম ভালো হয়।”.*গরম পানিতে স্নান করুন: রাতে ঘুমাতে যাবার আগে হালকা গরম পানিতে স্নান সেরে নিন।দ্রুত ঘুম আসবে।*বই পডুন: ঘুমনা আসলে কোন অপছন্দের বই হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করুন।দ্রুত ঘুম চলে আসবে।*গনণা করুন: উল্টোভাবে ৩০০ হতে গুনতে থাকুন,ঘুম চলে আসবে।*.সময় মেনে চলুন: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।● আপনার পরিকল্পনা, চিন্তা বা দুশ্চিন্তাগুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বের করুন। সেসময়য়ই সেগুলো নিয়ে ভাবুন বা সমধানের চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ডায়রিতে লিখে ফেলুন যাতে ঘুমের সময় এগুলো আপনাকে জ্বালাতে না পারে। আর কালকে কি করতে চান তার লিস্ট রাতে ঘুমানোর আগেই করে ফেলুন তাহলে সকালে ঘুম থেকে উঠার জন্য চাপ বোধ করবে ও ঘুম কমাতেও সাহায্য করবে। এরপরেও ঘুম না আসলে ডাক্তার এর সাথে যোগাযোগ করুন।আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। মায়া আপনার পাশে রয়েছে সবসময়। 

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও