সম্মানিত গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। দৈনন্দিন জীবনের চাপকে অনেকে স্ট্রেস বলে থাকে।কিন্তু স্ট্রেস শুধু দৈনন্দিন জীবনের চাপ নয়। যদি মানসির চাপের মাত্রা দৈনন্দিন জীবনের চাপের মাত্রা ছাড়িয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌছায় তখন আমরা তাকে স্ট্রেস বলতে পারি। কর্মক্ষেত্রের চাপ, যেমন, কম সময়ে বেশি কাজ করা, কাজে নির্ভুল থাকার চাপ, প্রতিকূল পরিবেশে কাজ বা তীব্র মানসিক আঘাত/অশান্তির মধ্যে কাজ, ব্যক্তির নিজস্ব অনুভব (যা ব্যক্তিবিশেষে বিভিন্ন রকম হতে পারে) ও তার আচরণে বদল ইত্যাদি আমাদের স্ট্রেস তৈরি করতে পারে। আপনার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় মানসিক চাপ তৈরি করছে জানাবেন কি?স্ট্রেস-এর প্রভাব আমাদের জীবনে যেভাবে পড়ে তাকে তিনভাগে ভাগ করা যায়:মানসিক, শারীরিক এবং সামাজিক। স্ট্রেস-এর ফলে মানসিক অশান্তি, অল্পেতেই মেজাজ হারানো, খিটখিটে ভাবের উৎপত্তি, কাজে উৎসাহ না পাওয়া থেকে শুরু করে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া, কাজের ক্ষেত্রে ভুল করা, হাল ছেড়ে দেওয়া ভাব এমনকি নিজেকে আঘাত করা বা আত্মহত্যার চিন্তাও আসতে পারে। স্ট্রেস-এর প্রভবে শারীরিক সমস্যাও হতে পারে। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা থেকে শুরু করে ঘুম একদম না হওয়া, সর্বদা অবসন্ন লাগা, খিদে কমে যাওয়া, সহজে হজম না হওয়া, এমনকি asthma, গ্রন্থিতে ব্যাথা, ইত্যাদি রোগগুলির বেড়ে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়। সামাজিক ক্ষেত্রে স্ট্রেস-এর প্রভাব বোধহয় বেশি পড়ে। সম্পর্কে জটিলতা থেকে ক্রমাগত সম্পর্কের ভেঙ্গে যাওয়া, বন্ধুহীনতা, পরিবার ভেঙ্গে যাওয়া, অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া এবং সহজেই নেশার কবলে পড়ে যাওয়া ইত্যাদি। আপনার মানসিক চাপের প্রভাব আপনার কোন কোন ক্ষেত্রে পরছে জানাবেন কি?স্ট্রেস থেকে নিজেকে দূরে রাখার জন্য প্রব্লেম ফোকাসড কোপিং বেশ সাহায্য করে। কোপিং বা মানিয়ে নেওয়া তখনি হেল্পফুল হয় যখন স্ট্রেস-এর সময় স্ট্রেস-জনিত অনুভূতিকে বাদ দিয়ে কারণটিকে দেখতে আমরা সমর্থ হই এবং সেই কারণটিকে কিকরে কমানো যায় বা দূর করা যায়, তাতে মনোনিবেশ করি। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একেই প্রব্লেম ফোকাসড কোপিং বলে। অর্থাৎ, শুধু আবেগের দ্বারা চালিত না হয়ে কারণটি সমাধানের চেষ্টা করলে অসুবিধাআর তার সাথে থাকা অনুভূতি, দুইটার সমাধানই করা সম্ভব। এছাড়া, খেলাধুলা ও কায়িক পরিশ্রম করা, পর্যাপ্ত ঘুম, নিজের পছন্দের বিষয়গুলি নিয়ে সময় কাটানো, সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা, নেশা থেকে দূরে থাকা, রিলাক্সেশন বা মেডিটেশন করা, পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখাও সাহায্য করে। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে মায়াকে জানাবেন। মায়া আপনার পাশে সব সময় আছে।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও