আমার বর্তমান বয়স ২২ বছর ৩ মাস ১১ দিন। বিয়ে হয়েছে ২০১৮/১২/০৮।আর আমাদের লাভ + এ্যারেন্জ ম্যারেজ। সুতরাং মোটামুটি চেনাজানা ছিল আমার। তবে তখনকার বিষয়গুলোতে ওনার থেকে প্রচন্ড রকম ভালোবাসাটা আমি পেয়েছি। যদিও প্রথমদিকে ওনাকে আমার ভালো লাগতো না। যাই হোক ওনার বাবা মারা যাওয়ার আগে আমাকে খুব পছন্দ করায় পারিবারিকভাবে বিয়েটা সম্পন্ন হয়... বিয়ের একমাস পরেই জানতে পারি উনিআর ওনার এক্স প্রেমিকার সাথে আবারো ইনভলব হয়েছে। যাইহোক বিষয়টা নিয়ে মাফ চায়। তখন উনি বিদেশে ছিলেন পড়াশুনার কারনে। ২০১৯ এর মার্চ ০৬ াতারিখ উনি চলে আসে। শুরু হয় আমাদের সংসার জীবন। শুরু থেকেই ওনার কিছু বিষয় ভালো লাগতো না। যেমন- কারো বাসায় গেলে খালি হাতে যাওয়া, লোকজনদের সামনে আমায় ছোট করে কথা বলা, সবসময় আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করাটা দিনদিন প্রবল বেগে বাড়তেছিল। এদিকে উনি আমাকে একাই বিয়ে করেছিল, ওনার মা বিয়েতে যান নি। অন্য লোকজন সাজিয়ে নিয়ে গিয়েছিল যা আমার আব্বু জানতো না। বিদেশ থেকে আসার পর থেকে দেখতাম আমার সাথে কেমন একটা আজব প্রকৃতির ব্যবহার করতো। গত বছর রমজানে সে আমার গায়ে হাত তোলে, গালি দেয়, মা বাবা তুলে বাজে কথা বলে, আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলে। শুরু হয় আমার মিথ্যা চেনা মানুষটার আসল রুপ। প্রায়ই সে এমন করতো। সে তার দোষ সবসময় আমার ঘাড়ে ঠেলে দেয়। আমার আম্নুকে মাসে দুই-তিন বার আনাতো কারন সে আমার সাথে সংসার করতে পারবে না বলে। আম্মু পাগলের মত ছুটে আসতো কারন আম্মুর বাবা ছেলে বলতে আমার হাসবেন্ডকেই জানতো। প্রতিবার বিচারে আমি সব বলতাম সামনে তাকে রেখেই। যাই হোক লাস্টে সে তার ভুল বোঝার নাম করে সব ঠিক করে নেয়ার নাটকটা চালিয়ে যেতে লাগলো। এর মধ্যে সে আমার ম্যাম-স্যারদের কাছে গিয়েও অনেক নোংরা কথা বলে আসতো। গায়ে হাত তোলাটা রেগুলারে পরিনত হল। এভাবে চলতে থাকে আমার সুখের দিনগুলো। গত ২০১৯ এর অগাস্টের দিকে সে আমার আব্বুর দেখানো একটা বাড়ি কেনে। যেখানে আব্বু বলেছিল - রেজিস্ট্রি হওয়ার পরে ওই মালিক বাড়ি থেকে নামার সময় হাতে হাতে টাকা দিতে যেহেতু ৪০ লাখ টাকা আমাদের ভাড়া বাসায় ছিল। আব্বু খুব সাবধানে বাড়িটা কিনতে বলেছিল বাট সে কোন ডকুমেন্ট ছাড়াই ওই মালিককে প্রথমে ৫ লাখ ও কিছুদিন পরে ২৭ লাখ টাকা দিয়ে দেয় কাউকে না জানিয়েই। হঠাৎ করে আমার হাসবেন্ড বলে --বাড়ির মালিক বলেছে যদি তোমার নামে বা আমাদের দুজনার নামে দলিল করি তাহলে উনি রেজিস্ট্রি করবে না, তবে যদি আমার একার নামে দলিল করি তাহলেই লিখে দিবে। যেহেতু ওই মালিক কোন ডকুমেন্ট ছাড়াই ৩২ লাখ টাকা নেয়া হয়ে গেছে তাই আমি বলেছিলাম উনি যেভাবে চায় তুমি সেভাবে করে আগে বাড়িটা নেও। অবশ্য পরে ওই মালিক আমাকে জানায় যে আমার হাসবেন্ড তাকে শিখিয়ে দিয়েছিল যেন আমার বা আমাদের নামে বাড়িটা রেজিস্ট্রি না হয়, হলে শুধুমাত্র ওনার একার নামেই হবে। যাই হোক, কথাগুলো শোনার পরে শকড হয়েছি বাট খুশি ছিলাম যে ডকুমেন্ট ছাড়া টাকাগুলো উনি মারে নি। আলহামদুলিল্লাহ। ডিসেম্বর ২০১৯ এ নতুন বাড়িতে আসলাম। জানুয়ারী - ফেব্রুআরি ২০২০ এ উনি নতুন এক মেয়ের সাথে উনি ফিজিক্যাল ও মেন্টালি সম্পর্কে জড়িয়ে পরেন। আমি বুঝতে পারতাম কারন তার বাইরে থাকা, আমার সাথে খারাপ আচরন করা, বিষয়গুলো আগের থেকে আরো বাড়িয়ে করছে। যাই হোক, কিছুদিন পরে তার সব সামনে আসলো। পরে জানতে পারি, ওই মেয়েটা একজন পতিতা। সে টাকার বিনিময়ে সব করছে। যাই হোক, এসব জানার পর দুই পরিবারের একসাথে বসে সব মিটমাট করে নিয়ে ফেব্রুয়ারিটা গেলো। মার্চের ২৫ তারিখে আমি সহ উনি আমার আব্বুর বাসায় গিয়েছি করোনা ও লক ডাউনের কারনে। যেহেতু এই বাসায় আমরা দুজন থাকি আর আমার হাসবেন্ডকে আমি কোন কথা শুনাতে পারি না তাই আব্বু আমাদের দুজনকেই আগে আগে বাসায় নিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য। বাসায় থাকাকালিন এপ্রিলের ২ তারিখ আমি তাকে ওই মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলতে হাতে নাতে ধরে ফেলি। আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না যে আসলেই সে ওইদিন পর্যন্ত ওই পতিতা মেয়ের সাথে সম্পর্কটা চালিয়ে যাচ্ছিল। সেদিনও সে আমাকে আমার পরিবারের সবার সামনে মা বাবা তুলে গালি দেয় সাথে অনেক মারে। আমি জানতে চেয়েছিলাম আমার সাথে এমন বিশ্বাসঘাতকতা করার কারন কি! সে আবারো আমার দোষ দিয়েই যাচ্ছিল। আমি তাকে এ্যানাল সেক্স করতে দেই না তারপর আমার পিরিয়ড চলাকালিন সময়ে সে আমার সাথে সেক্স করতে পারে না সেজন্য সে ওই মেয়ের সাথে পরোকিয়ায় যুক্ত হয়েছে। যাই হোক, তার বাড়াবাড়ি দেখে আমি তার মাকে সব জানালাম। সে তার মতোই কথা বললো। যাইহোক লক ডাউনের কারনে ওনার মা কুমিল্লাতে আটকে আছেন। ওই বিষয়টার পরে তার কল লিস্ট, ম্যাসেন্জ্ঞারে, ইমো চেক করে দেখি ওই মেয়ের সাথে তার সবকিছুই খুব ভালো ভাবে চলছিল যা আমার অগোচরে ছিল। খুব শকড ছিলাম এইটা নিয়ে। ভাগ্য বলে ইসলাম একটা কথা বলে। সব কিছুকে ভাগ্যের উপর ফেললাম। এপ্রিলের ৬ তারিখে ওই মেয়ের ভালোবাসাময় এসএমএস দেখে মাথা নস্ট হয়ে গেলো। ওনার ফোন থেকেই কল দিলাম। ভদ্রভাবে কথা বলতে চাইলাম কারন সে পতিতা, তার সাথে ভদ্রভাবে কথা নয় বরংচ তাকে আমি মেয়েমানুষ বলে সম্মান করে কথা বলতে চেয়েছি। সালাম দিলাম, উত্তরটা দিয়েছিল।পরে আমি বুঝতে পেরে কিসব বস্তি টাইপের গালি দিল আমি শুধু মুখ বন্ধ করে শুনেছিলাম। কিছু বলতে পারি নি কারন ওই শব্দগুলোর প্রতিউত্তরে কি হয় তা আমি জানি না। যাইহোক, শাশুড়িকে সব জানিয়েছিলাম। সে এবার মাথা নত করে নি। তার কোন অনুশোচনাই হলো না। যাই হোক, পরেরদিন রাতে সে আমাকে খুব মেরেছিল কারনটা আমি ঠকেছি ভেবে কান্না কেন করছিলাম তাই। যাই হোক, আমার আব্বুর বাসায় মান সম্মান বলতে অবশিষ্ট কিছুই ছিল না। একমাস দুইদিন থাকার পরে তিন রমজানে চলে আসলাম। সবসময়ই এমনটাই চলতেছে। মাঝে এক বান্ধবির সাথে দেখে করবো বললাম সে নিয়ে যেতে চাইলো। হঠাত করেই আবারো আজব টাইপের আচরন শুরু করছে। আমি তাকে বললাম - আমি তুমি ছাড়া বাইরে যাই না তার মানে বাইরে যেতে পারি না এটা ভেবো না, আমি তোমার উপর নির্ভরশীল তুমি তাও ভেবো না। আমি যাই না কারন আমি চাইনা তাই। যাই হোক, তার উদ্ভদ আচরন দেখে আমি তার সামনে থেকেই বের হলাম। বাট সে রাস্তায় আমার পিছন পিছন আসতে লাগলো ইট মারছিল। দারালাম এসে রাস্তার মধ্যেই আবারো মেরেছে। আর ফিরবো না বলে বান্ধবির সাথে দেখা করতে গেলাম। যেতে না যেতেই আমার সাইডের সবাইকে কল দিয়ে বলতে লাগলো আমি কোথায় যেন চলে গিয়েছি ইত্যাদি ইত্যাদি। যাই হোক, পরিস্থিতি সব ঠিক হল.... এভাবেই চলছে আমার সময়। তবে আগে ওর মুখে অন্য কারো কথা শুনলে কলিজাটা মোচড় দিতো এখন আর দেয় না, কষ্ট পাইনা আর। তবে এই দুইদিন খুব কস্ট পাচ্ছি নিজে নিজে।।। একা একা বুঝাই নিজেকে যে কেন তার মত মানুষের জন্য আমি আমার ক্যারিয়ার নস্ট করবো! সবই বুঝি কিন্তু সময়ে সময়ে সব এলোমেলো লাগে। জানি না এবার কেন জানি নিজেকে কিছু দিয়েই আর বুঝাতে পারছি না। কোথাও একটা লুকিয়ে পড়তে ইচ্ছে করছে ওনার থেকে। ওনার বাড়ি গাড়ি, টাকা পয়সা কিছু ভালো লাগে না। আমি চাইতাম ওনাকে, ওনার টাকা না। বিয়ের পরে যখন উনি বিদেশে ছিলেন তখন পুরো ৪০,০০০০ লাখ টাকা আমার নামে ছিল। খারাপ হলে তো তখনি টাকাগুলো উঠায়া বেটার অপশন খুঁজতে পারতাম। সততার মুল্য হয়তো এমনি....... সমাধান চাই এসব থেকে। নিজেকে খুব ভালোবাসতে চাই. যদিও ভালোবাসি তবে সেই ভালোবাসাটা আরোও বাড়াতে চাই

প্রিয় গ্রাহক, আপনার মনের অনুভূতি গুলো শেয়ার করা জন্য ধন্যবাদ। আপনার স্বামির সাথে আপনার সর্ম্পক ভাল যাচ্ছেন এবং আপনার স্বামির বিষয় গুলো আসলে কষ্ট দেয়ার মতন ই। তবে আপনি যে আসলেই সচেতন তা আপনার কথা থেকেই বুঝতে পারছি। তাই আপনি এখন নিজেকে ভালবাসতে চান এবং নিজেকে ভাল রাখার চেষ্টা করছেন। একজন মানুষ কতটা পজিটিভ হলে এটা সম্ভব সেটাই কিন্তু ভাবার বিষয়। আসলে কঠিন সমস্যায় নিজে কে ভালবাসা ছাড়া ভাল থাকা অনেক কঠিন।তাই সেলফ কেয়ার করতে পারেন। নিজেকে একটু সময় দেয়া, সাজগোজ করা, বন্ধুদের সাথে কথা বলা এবং আত্নীয়দের সাথে কথা বলা। মনের কষ্টের কথা ডায়রিতে লিখা ছিঁড়ে ফেলা তাহলে কষ্ট টা অনেক টাই কমে যায়। এছাড়া মাইন্ডমেডিটেশন, রিলাজেশন এক্সারসাইজ করতে পেরেন। তাহলে নিজে ভাল থাকতে পারবেন বলে আশা করছি।আশা করি কিছু টা সাহায্য করতে পেরেছি।আর কোন প্রশ্ন থাকলে মায়াকে জানাবেন। আপনার প্রয়োজনে রয়েছে পাশে সব সময় মায়া ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও