প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।আপনি অলসতা দুর করার উপায় জানতে চেয়েছেন।আপনার সচেতনতার জন্য সাধুবাদ গ্রাহক। আমাদের মস্তিষ্কে Dopamine নামক একটি হরমন ক্ষরিত হয় যেটা আমাদের যে কোন কাজ করার জন্য ইচ্ছাশক্তিকে ভিষন ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এই Dopamine সিস্টেমকে মস্তিষ্কের Reward সার্কিটারিও বলা হয়। ভেবে দেখুনতো ফেইফবুকিং, ইউটিউবিং করতে কি আমরা কখনো অলসতা অনুভব করি? অবশ্যই না! ঘন্টার পর ঘন্টা কোন পরিশ্রম ছাড়াই আমরা অনর্গল এগুলো চালাতে পাড়ি। কিন্তু পড়ার ব্যাপারে? সে ক্ষেত্রে যেন ৫ মিনিটও ৫ ঘন্টার সমতুল্য বলে মনে হয়, তাই না? একবারও কি ভেবেছেন এমন কেন হয়? আমরা যখন ফেইফবুকিং করি বা ইউটিউবিং করি তখন আমাদের Reward সার্কিটটি একটিভেট হয়ে যায় কেননা এখান থেকে আমরা নতুন নতুম জিনিশ দেখতে পাই এবং এই কাজটা আমাদের ভালো লাগে। কিন্ত কাজের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা আমারা ঘটাতে পারি না। তাই অলসতা আমাদের গ্রাস করে ফেলে। আর কর্মজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। নিচের ১০ টি উপায় আপনার অলসতাকে দূর করে দিতে সহায়তা করতে পারে- ১। এক্সারসাইজ এক্সারসাইজ বা শরীরচর্চা আপনার অলসতাকে দূর করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকারী মাধ্যম। আমরা অনেকেই অলসতার কারনে সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি করি। যার কারনে প্রত্যেকদিন আমরা আমাদের অনেক মূল্যবান সময় হারিয়ে ফেলি। যা আমাদেরকে আমাদের লক্ষ হতে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। সময়ের অপব্যবহার করলে ফলাফল যে আশা অনুরূপ হয় না, সে কথা আমাদের অজানা নয়। তাই আমাদের সকালে ঘুম থেকে উঠে কমপক্ষে ১ ঘন্টা এক্সারসাইজ করা প্রয়োজন। তার ফলে আমাদের অলসতা দূর হবে। এবং অলসতা দূর হওয়ার পাশাপাশি আমাদের শরীরও সুস্থ এবং সবল থাকবে। ২। বিছানা এড়িয়ে চলুন বিছানা অলসতা আয়নের ক্ষেতে একেবারে ওস্তাদ। বিছানায় যাবেন আর অলসতা অনুভব করবেন না এমনটা কখনোই হয় না বললেই চলে। কেননা আমরা সারাদিন যত কাজ করি তার মধ্যে ৯০% এরও বেশি কাজ নিয়ন্ত্রিত হয় আমাদের সাবকন্সিয়াস মাইন্ডের দ্বারা। অর্থাৎ আমাদের সে কাজ গুলো ভেবে ভেবে করতে হয় না। আমরা অটোমেটিক সেগুলো করে ফেলি। তাই যেই বিছানায় আপনি ঘুমান, সেই বিছানাতেই যদি আপনি সারাদিন শুয়ে বয়ে কাটান তাহলে সারাদিনই আপনার মস্তিষ্কের কাছে সিগনাল যেতে থাকে এটা বোধয় ঘুমানোর সময়। যার ফলে আপনার সাবকন্সিয়স মাইন্ড কনফিউজড থাকে আর সে সিগনাল দিতে থাকে ঘুমের জন্য। যে কারনে আপনি সারাদিন অলসতা অনুভব করেন। তাই ঘুম থেকে উঠার পর এবং পুনরায় ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনাকে বিছানা এড়িয়ে চলতে হবে, এবং আপনাকে বিছানার বিকল্প পদ্ধতি খুজে নিতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি মেঝেতে মাদুর বা কারপেট জাতীয় কিছুতে বসে যে কোন কাজ করুন। মেঝেতে বসে কাজ করলে আপনি যে শুধু অলসতাকেই বিদায় করবেন তা নয় তার সাথে সাথে আপনি অনেক উপকারও পাবেন। ৩। একটি নির্দিষ্ট লক্ষ নিয়ে কাজ করুন লক্ষবিহীন কাজ কখনো এগোয় না। আর সেই কাজের মাঝে অনেক ফাক থাকে, তাই আপনার সেই কাজের ক্ষেত্রে তিক্ততা চলে আসে যেটা পরে অলসতায় রূপান্তরিত হয়। আর এই অলসতাই আপনার আত্মবিশ্বাস কে গুড়িয়ে দিতে একাই যথেষ্ট। কিন্তু আপনার কাজে যদি একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ মজুত থাকে তাহলে আপনার সেই কাজের ক্ষেত্রে আপনা আপনই একটা ঝোক চলে আসবে। সেটা কাজ করার জন্য অত্যন্ত জরুরী। আর আমরা জানি যে লক্ষই হল সাফল্য লাভের প্রথমম ধাপ। তাই কাজে সাফল্য আয়নে যেমন এইটা আপনাকে সাহায্য করবে, ঠীক তেমনি লক্ষটাকে ছোঁয়ার প্রয়াস আপনার অলসতাকে দূর করবে। ৪। বড় কাজগুলোকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিন বড় কোন কাজের ক্ষেত্রে সময়টা একটু দীর্ঘায়িত হয়ে থাকে। যার ফলে অনেক সময় নিয়ে কাজ করতে হয়। যেটা আপনার কাজে একঘেয়েমি মনভাব তৈরী করে। আর এই একঘেয়েমি মনভাব অলসতা সৃষ্টিতে সহয়তা করে। যার ফলে আপনার কাজে অলসতার অশুভ ছায়া পরবে। যেটা আপনার কাজে ব্যাঘাত ঘটবে।অপর দিকে আপনি যদি এই বড় কাজটিকে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করে কাজ করেন সে ক্ষেত্রে আপনার কাজে কখনই একঘেয়েমিটা আসবে না এবং আপনি আনন্দের সাথে কাজটিকে শেষ করতে পারবেন। তাই আমাদের অলসতাকে বিদায় জানাতে বড় কাজগুলোকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নেয়াই ভালো। ৫। ইতিবাচক ফলাফল আশা করুন কাজের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল আশা করা আপনার আত্মবিশ্বাসকে চাঙ্গা করে তোলে। আপনাকে ব্যাপক ভাবে অনুপ্রেরিত করে। আর আপনার ভিতরে যদি এই দুইটা জিনিশ বিদ্যমান থাকে তাহলে সেই স্থানে অলসতার কোন ঠাই থাকে না। এবং আত্মবিশ্বাস এবং অনুপ্রেরণা থাকলে সে কাজে সাফল্য আসিবেই। যার যাদের সাফল্য লাভের তাড়না থাকে তারা কখনো অলসতাকে প্রশ্রয় দেয় না। অন্যদিকে যাদের ফলাফলের আগেই তাদের কাজের ফলাফলের প্রতি নেতিবাচক চিন্তা করে তাদের অনুপ্রেরণা এবং আত্মবিশ্বাস এই দুটোই হারিয়ে যায় ফলে তারা কাজ শুরুর করতে পারে না। এবং তাদেরকে অলসতা নিজ চাদরে মুড়িয়ে নেয়। তাই অলসতার প্রাচীর ভাঙতে আপনাকে অবশ্যই আপনার কাজের ফলাফল নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। ৬। নিজেকে সময় বেধে দিন আমাদের মস্তিষ্ক ক্রিয়াশীল রাখতে তাকে তাড়া দেওয়া প্রয়োজন। আর তার জন্যই কোন কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে গেলে আপনাকে নিজেকেই একটা সময় বেধে দেওয়া প্রয়োজন। এবং সংকল্প করা প্রয়োজন যে এই সময়ের মধ্যেই আপনাকে কাজটা শেষ করতে হবে। তাহলে কাজ করতে কাজটা যেমন অনুপ্রেরণা পাওয়া যায় যেমনি অলসতাও ভয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু আপনি যদি সময় বেধে না দেন তাহলে আপনার কাজে ডিসিপ্লিন থাকবে না। মনে হবে আজ থাক, কালকে ঠিক কাজটা করে নেব, আবার কালকেও মনে হবে আজ থাক কালকে করে নেব। এই কালটা কখনই আসে না, কিভাবেই বা আসবে আপনাকে যে অলসতা নামক রোগে তার সুতায় পেঁচিয়ে ফেলেছে। যার ফলে কাজটা আপনার অসম্পূর্ণই থেকে যায়। তাই আপনার কাজটাকে অলসতামুক্ত ভাবে সম্পন্ন করতে হলে আপনার অবশ্যই এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। ৭। নিজের ভালোলাগার কাজগুলো করুন নিজেদের ভালোলাগার কাজগুলো করলে অলসতা আমাদের গ্রাস করে না। এবং সে কাজগুলো আমরা অনর্গল করে যেতে পারি। তাই এমন ভালোলাগার কাজ গুলো খুজে নিন যা দ্বারা আপনি এবং আমাদের সমাজ উপকৃত হতে পারে। আমাদের সবার মাঝেই এক বা একাধিক সুপ্ত প্রতিভা লুকিয়ে আছে। সেগুলোকে খুজে বের করুন এবং সেই কাজগুলো করলে আপনার ভালো লাগবে এবং আপনি অলসতাও অনুভব করবেন না। ৮। নিজের কাজ নিয়ে চিন্তা করুন যে কাজটি করতে যাচ্ছেন সে সম্পর্কে আগে থেকে চিন্তা করুন। যেমন- আপনি কাজটি কিভাবে করতে যাচ্ছেন, কিভাবে করলে ভালো হবে, কিভাবে করলে সফল হবেন, সফল হলে কি হবে, ইত্যাদি। এটি আপনার জীবনে চলার পথে সাহায্য করবে। কেননা এই ধারনের চিন্তা আপনার মনের ভেতর এক ধরনের ছবি সৃষ্টি করবে। আর এই ছবিগুলোই আপনার মনের মধ্যে কাজটি শুরু এবং শেষ করার ক্ষেত্রে স্পৃহা যোগাবে। আর এই অদম্য স্পৃহা আপনার মন থেকে দূর করে দেবে সকল অলসতা। ৯। নিজেকে পুরস্কৃত করুন এটাকে ইংরেজিতে Reward ও বলা হয়। অর্থাৎ কোন কাজের বিনিময়ে কোন পুরস্কার পাওয়া। আমরা তখনই একটা কাজ মন দিয়ে করি যখন ওই কাজের বিনিময়ে আমরা কিছু লাভ করি। সেই কাজের ক্ষেত্রেও আমাদের মনযোগ তুঙ্গে থাকে। তাই কোন কঠিন কাজকে সহজে সম্পন্ন করতে হলে আপনি নিজেকে নিজে পুরুস্কার দিতে পারেন। তাহলে আপনার কাজে উৎসাহ আসবে। ধরুন আপনার পড়তে একদমই ভালোলাগে না কিন্তু আপনি যদি নিজেকে নিজে প্রমিস করেন প্রতিদিন ১ টা চ্যাপ্টার শেষ করতে পারেন তাহলে আপনি ওই সপ্তাহের শুক্রুবার আপনার একটি পছন্দের জিনিশ খেতে যাবেন। ধরুন আপনার পছন্দের খাবার বিরিয়ানি। তারমানে প্রত্যেকদিন যদি আপনি একটা চ্যাপ্টার শেষ হয় তাহলে আপনি ওই সপ্তাহের শুক্রুবার বিরিয়ানি খেতে যাবেন। এই পদ্ধতি আপনার কাজে গতি আনবে এবং অলসতা জানালা জিয়ে পালাবে। ১০। এগিয়ে যান এইটাই আসলে আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। কোন কিছুর কথা ভেবে যদি আপনি সেই কাজটায় ঝাপিয়ে না পরে বসে থাকেন তাহলে আপনাকে অলসতার ঘুণপোকা কুড়ে কুড়ে খাবে। বিস্তার করতে থাকবে তার অশুভ শক্তি। অকেজো করে তুলবে আপনাকে। তাছাড়া এটি আপনাকে প্রতিষ্টিত করবে ব্যার্থ মানুষ হিসেবে। আপনি অবশ্যই এই তকমা কপালে নিয়ে বেচে থাকতে চাইবেন না, তাই না? তাই কোন কিছু ভেবে বসে থাকবেন না, এগিয়ে যান সঠিক পদক্ষেপ দ্বারা। তাহলে সাফল্যের সাথে সাথে আপনার অলসতাও দূর হবে। উপরের ১০টি কৌশল সঠিকভাবে রপ্ত করতে পারলে আপনার জীবনে অলসতা নির্মূল হবে এবং কর্মক্ষেত্রে আপনি হয়ে উঠবেন সফল ব্যক্তিত্ব। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও