প্রিয় গ্রাহক আপনাকে প্রশ্নর জন্য ধন্যবাদ। গ্রাহক আগুনের তাপে এমনটা মনে হয়। আমাদের সুবিধার্থে কিছু প্রশ্ন জানা প্রয়োজন। নিয়মিত চেকআপ এ যাচ্ছেন? যখন কোন মা গর্ভবতী হচ্ছেন, তখন থেকে তার প্রসব হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত অর্থাৎ অন্তর্বর্তীকালীন যে সময় সেটিই হলো গর্ভকালীন অবস্থা. একে সাধারণত অ্যান্টিনেটাল পিরিওড বলা হয়ে থাকে. । আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো চারটি ভিজিটের কথা বলা হয়। ১৬ সপ্তাহে, ২৪ সপ্তাহে, ৩২ সপ্তাহে এবং ৩৬ সপ্তাহে. গর্ভকালীন অ্যান্টিনেটাল চেকআপ করাতে হবে. এছাড়াও কেউ যখন গর্ভবতী হবে, তার মাসিক বন্ধ হবে এবং সে মনে করছে গর্ভে সন্তান ধারণ হয়েছে, তখনই সে চিকিৎসকের কাছে যাবে. এরপর প্রতি মাসে একবার করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে. শেষের দিকে ১৫ দিন পরপর চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে.। গর্ভের সন্তান পুষ্টি পায় তার মায়ের কাছ থেকে। অনাগত সন্তান আর মায়ের ভবিষ্যৎ সুস্থতাও অনেক ক্ষেত্রে গর্ভকালীন খাবারের ওপর নির্ভর করে। প্রোটিন বা আমিষজাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হবে দৈনিক ৯০-১০০ গ্রাম। অর্থাৎ অন্য ব্যক্তিদের চেয়ে বেশি। এই পরিমাণ প্রোটিন পাওয়া যায় মাঝারি আকারে তিন টুকরা মাংস থেকে। প্রোটিন আসতে পারে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম, শিমের বিচি থেকে। প্রোটিন গর্ভস্থ শিশুর কোষ ও মস্তিষ্কের সঠিক গঠনে সহায়তা করে। মায়ের স্তনকোষ বাড়ায়। শ্রোণিচক্রকে সন্তান জন্মদানে উপযোগী করে। চর্বিজাতীয় খাবার শক্তির ভালো উৎস। এগুলো চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনকে কাজে লাগায়। আর এসব ভিটামিন স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক গঠন নিশ্চিত করে। চর্বি পাওয়া যায় ঘি, মাখন, তেল, মাংসের চর্বি থেকে। শর্করাজাতীয় খাবারও শরীরে শক্তি জোগায়। শর্করা পাওয়া যায় ভাত, রুটি, চিঁড়া, মুড়ি, খই, আলু, চিনি, মিষ্টি ও গুড় থেকে। অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলতে হবে। ভিটামিন ‘এ’ ও ভিটামিন ‘বি কমপ্লেক্স’ শিশুর দেহ গঠনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া গর্ভকালীন রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে বলে গর্ভের শেষদিকে ভিটামিন ‘কে’ খুবই প্রয়োজন। শিশুর হাড় গঠনের জন্য ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি ভিটামিন ‘ডি’ প্রয়োজন। কারণ এই ভিটামিন খাদ্যের ক্যালসিয়ামকে শোষণ করতে সাহায্য করে। ভিটামিন ‘সি’ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য খুবই প্রয়োজন তাঁর নিজের ত্বক ও নবজাতকের ত্বক এবং চুলের জন্য। যেসব খাবার থেকে এ ধরনের ভিটামিন পাওয়া যাবে সেগুলো হলো দুধ, মাখন, ডিম, ছানা, কডলিভার অয়েল, ইলিশ মাছ, টমেটো, গাজর, পালংশাক, বিট, লালশাক, মাংস, বিভিন্ন ধরনের ডাল, আলু ইত্যাদি। বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি যেমন কমলালেবু, টমেটো, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, আমলকী, পেয়ারা, বরই ইত্যাদি থেকে। দৈনিক ৮০ থেকে ১০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন গ্রহণ করা উচিত। মেয়েদের গর্ভকালীন সময়ে কিছু আয়রন এবং ক্যালসিয়াম খেতে বলা হয়। কারন মায়ের শরির থেকে একটি বাচ্চা তৈরি হয়। আয়রন/লৌহ জাতীয় খাদ্য : গর্ভস্থ শিশুর জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ এবং শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ২৭ মি. গ্রাম আয়রন জাতীয় খাবার খেতে হবে। আয়রন জাতীয় খাবারের উল্লেখযোগ্য উৎস হচ্ছে- ডিমের কুসুম, ডাল, মাছ, কলিজা, মুরগীর মাংস, ব্রকলি, পালংশাক, কুমড়া, সয়াবিন, মিষ্টি আলু, আঙ্গুর, কমলা, তরমুজ, বাদাম ইত্যাদি। আয়রন যাতে ঘাটতি না পড়ে তাই সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ট্যাব্লেট দেয়া হয়। ক্যালসিয়াম : শিশুর হাড়ের গঠনে এবং মায়ের হাড়ের ক্ষয়রোধে নিয়মিত ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে হবে। ক্যালসিয়াম হাড় গঠন ছাড়াও গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা হলে তা দূর করে। গর্ভাবস্থায় এবং শিশু জন্মের পর- প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ১০০০ মি. গ্রাম ক্যালসিয়াম খেতে হবে। একজন গর্ভবতী মায়ের দিনে অন্তত ৩ গ্রাম লো-ফ্যাট দুধ খাওয়া উচিৎ। ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার হলো-দুধ, ডিম, দই, সামুদ্রিক মাছ, বাদাম, পালংশাক, ব্রকলি, মাংস ইত্যাদি।আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আপনার আর কন জিজ্ঞাসা থাকলে প্রশ্ন করুন।মায়া সবসময় আপনাদের পাশে আছে।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও