লিঙ্গ:পুরুষ বয়স: ২৬ মাস্টার্সে পড়াকালীন সময়ে একটি ট্রেনিং সেন্টারে কোর্স করতে গিয়ে, একটি বিবাহিত মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি, খুব সুন্দর সব কিছু চলছিলো, ওর হাজব্যান্ড ওকে একদমই কেয়ার করতো না, চাকরির জন্য ঢাকার বাইরে থাকতো, আর ও বাবা-মা এর সাথে, আমরা প্রতিদিন রাতে ফোনে কথা বলতাম, আস্তে আস্তে আমরা ভার্সিটির কথা বলে দুজনে পার্কে ঘুরতে যেতাম, তারপর একসাথে বাসায় ফিরতাম,ওকেও বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিতাম, আমার আর ওর পরীক্ষার ডেট চলে আসাতে আর দেখা করা সম্ভব হলো না,  তারপর ও ফোনে যোগাযোগ হত, এরপর একদিন ওর বাসায় ফোন নিয়ে ধরা পড়ে যায় তারপর থেকে আর রাতে কথা বলতে পারে না, ফেসবুক মেসেজে যা কথা হতো, মেয়ের এই অবস্থা দেখে ওর বাবা-মা ওর জামাইকে ওকে এখান থেকে নিয়ে যেতে বলে অন্য কোথাও বাসা নিয়ে থাকতে, এটা শুনে আমি প্রচন্ড রাগ হয়ে গালমন্দ করে ফেলি, আর উল্টাপাল্টা বলে ফেলি, এর আগেও অনেক রাগারাগি হইছে সম্পর্ক চলাকালিন কিন্তু ওগুলা আমরা নিজেরাই মিটিয়ে ফেলি, কিন্তু এই শেষবারের মত ও আর কিছুতেই আমার রাগটা মেনে নিতে পারলো না, এর পর ওর হাজব্যান্ড ওকে নিয়ে চলে গেল, আমাকে কিছু বলেও গেল না, সব দোষ আমাকে দিচ্ছে, আমি নাকি ওকে ব্যবহার করেছি, আরো কত কিছু, আমি এরকম করলে নাকি ওকে এভাবে আসতে হতো না, অথচ আমি ওর কাছে হাত জোড় করে কত ক্ষমা চেয়েছি তার হিসাব নেই, কিন্তু ও কিছুই বুঝলো না, অথচ আমাদের প্ল্যান ছিল ও হাজব্যান্ডের কাছ থেকে ডিভোর্স নিয়ে আমাকে একসেপ্ট করবে, আমিও এতটা সেক্রিফাইস করেছিলাম, ভালবাসায় অন্ধ হয়ে গেছিলাম। সেই অনেকদিন হল যোগাযোগ সব বন্ধ, ও তার হাজব্যান্ডের সাথেই আছে, ভাল আছে কিনা খারাপ সেটা জানি না। আর আমার রাতের পর রাত ঘুম নষ্ট হচ্ছে, কাদতে কাদতে পাথর হয়ে গেছি, প্রতি মূহুর্তে সেই সুন্দর সময়গুলা চোখে ভাসে, ভেতরে এত যন্ত্রণা বোধ হয় বোঝাতে পারবো না,  রাতে হঠাত জেগে উঠলে প্রচন্ড কাদি, কিছুতেই ভুলতে পারছি না সেসব। বাসার মানুষের মধ্যে শুধু আমার আম্মু জানে,  উনি বলেছেন এরকম পরিস্থিতিতে তার কিছুই করার নেই। সত্যি আমি পারছি না এত মানসিক যন্ত্রনা সহ্য করতে, কি করবো ভেবে পাই না, যদি সম্ভব হয় আমার এই কঠিন অবস্থার সমাধান করুন চিরকৃতজ্ঞ থাকবো, ধন্যবাদ।

প্রিয় গ্রাহক,ঈদ মোবারক। আপনার মনের অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। আপনার কথা থেকে বুঝতে পারছি আপনার একজন বিবাহিত মেয়ের সাথে সর্ম্পক ছিল।কিন্তু কোন একটা কারনে তার পরিবার এটা বুঝতে পারায় তাকে তার স্বামির কাছে পাঠিয়ে দেয় এবং সে এমন আপনার দোষ দেখিয়ে এর যোগাযোগ করছেন না। আসলে সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছু পালটিয়ে যায় এবং মানুষের মাঝেও পরির্বতণ আসতে পারে। যেহেতু আপনি অনেকবার তাকে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন, ক্ষমা চেয়েছেন তার মানে আপনি আপনার যথা সাধ্য চেষ্টা করেছেন। তাই নিজের জায়গা থেকে কিন্তু আপনি আপনার সর্বোচ্চ দিয়েছেন তাই না? জোর করে তো এর কেউ কে ফিরিয়ে আনা যায় না তাই না? আসলে তার সাথে কাটানো কিছু স্মৃতি থাকতেই পারে।আর তা মনে পড়াটাই স্বাভাবিক।কিন্তু সব সময় সে গুলো স্মৃতিচারণ করতে থাকলে একসময় আপনার মাঝে ডিপ্রেশন আসা টাই স্বাভাবিক। তাই বারবার তার কথা গুলো মনে না করে নিজেকে কিছু সৃজনশীল কাযে যুক্ত করা, একা একা না থেকে বন্ধুদের সাথে বা আত্নীয়দের সাথে সময় কাটানোর চেষ্টা করা।আপনার কষ্টের কথাগুলো একটি কাগজে লিখে ফেলতে পারেন।তারপর তা অবশ্যই ছিড়েো ফেলবেন।কাছের কারো সাথে মনের কথা শেয়ার করতে পারেন যে আপনার কথার গোপনীয়তা রাখবে।খুব খারাপ লাগলে যদি কান্না আসে তবে নিজেকে কাঁদতে দিন।কান্না মনকে হালকা করে।মন ভালো করতে নিজের পছন্দের কাজগুলো বেশি বেশি করতে পারেন।কোথাও প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘুরে আসতে পারেন।প্রকৃতি আমাদের মনে প্রশান্তি দেয়।এছাড়াও আপনি রিলাক্সেশান টেকনিক ব্যবহার করতে পারেন।অতিরিক্ত চিন্তার সময় নিজেকে relax রাখার জন্য relaxation বা deep breathing করতে পারেন। মেডিটেশন বা Relaxation হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শরীরকে শিথিল করা যায়। মানসিক ভাবে প্রাশান্তি লাভ করা যায়। দুচিন্তা,রাগ, আবেগ, হতাশা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে দীর্ঘ নিঃশ্বাস নেওয়ার ফলে মস্তিস্কে বিশুদ্ধ অক্সিজেন প্রবেশ করে মস্তিস্ককে অনেক শিথিল করে যার ফলে পরবর্তীতে আর ও ভাল ভাবে সমস্যা নিয়ে চিন্তা করা যায়।নিম্নের ভিডিও লিঙ্ক টি দেখলে আপনি মেডিটেশন বা relaxation সম্পর্কে আরও ভাল করে জানতে পারবেন। https://www.youtube.com/watch?v=JEg5t0WCILQ&feature=share                                                                                                                                                                           আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও