প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। থাইরয়েড প্রজাপতির মত দেখতে একটি গ্রন্থি, যেটা গলায় থাকে, গলার কলার বোন বা বিউটি বোন নামক হাড্ডির উপরে। এটি একটি এন্ড্রোক্রাইন গ্রন্থি যা হরমোন তৈরি করে। থাইরয়েড দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি। থাইরয়েড হরমোনের কাজ হলো শরীরের বিপাককে ব্যবস্থাপনা করা। সাধারণত গলগণ্ড, হাইপার থাইরয়েডিজম বা হরমোনের আধিক্য, হাইপোথাইরয়েডিজম বা কম হরমোন বের হওয়া ইত্যাদি এই গ্রন্থির বিভিন্ন সমস্যা। হাইপোথাইরয়ডিজমঃ যখন শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে কম থাইরয়েড হরমোন নিঃসৃত হয় এমন অবস্থা। কিছু কিছু উপসর্গ আছে, যা দেখে আপনি ধারনা করতে পারবেন যে, আপনি হয়ত এই রোগে ভুগছেন। ১) কাজ করতে এনার্জি না পাওয়া বা ক্লান্তবোধ করা। ২) খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া। ৩) পর্যাপ্ত খাবার না খাওয়ার পরেও শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া। ৪) ঠান্ডা একদমই সহ্য করতে না পারা। ৫) চুল ও ত্বক শুকনো ও মোটা হয়ে যাওয়া। ৬) মেয়েদের মাসিকের সময় প্রচুর রক্ত যাওয়া ও অনিয়মিত মাসিক হওয়া। ৭) মুখ ফুলে যাওয়া। ৮) হতাশাগ্রস্থ হওয়া। ৯) মাংসপেশীতে ব্যথা। ১০) পায়খানা কষা হয়ে যাওয়া। ১১) বন্ধ্যাত্বতায় ভোগা। ১২) মানসিক অবসাদে ভোগা। ১৩) যৌন চাহিদা কমে যাওয়া। ১৪) হার্ট এর গতি কমে যাওয়া। ১৫) থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যাওয়া বা গোটা গোটা উঠা। যাকে মেডিকেল ভাষায় Goitre বলে। এই সমস্ত লক্ষণ কয়েকটা একসাথে দেখা দিলে ডাক্তার এর শরনাপন্ন হবেন। ডাক্তার আপনাকে কিছু পরীক্ষা করতে দিবে। পরীক্ষার ফল দেখে ডাক্তার নিশ্চিন্ত হবেন আসলেই আপনি হাইপোথাইরয়েডিজম এ ভুগছেন কিনা? এরপর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিবেন ডাক্তার। এই রোগের চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে সোজা। মুখে খাবার জন্য হরমোন এর পিল দেয়া হয়। যেটা নিয়ম মত খেয়ে যেতে হয়। তবে নিয়মিত ডাক্তার এর পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে হরমোন এর মাত্রা পরীক্ষা করা জরুরি, রিপোর্ট অনুযায়ী তাহলে ওষুধ এর ডোজ কম বেশি করে নিলে সুস্থ থাকা সম্ভব। হাইপারথাইরয়েডিজমঃ শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি থাইরয়েড হরমোন ক্ষরিত হলে এই রোগ হয়। উপসর্গগুলো হলো- ১) খাবারের রুচি বেশ ভালো থাকার পরেও শরীরের ওজন কোন কারণ ছাড়াই কমে যাওয়া। ২) প্রচুর ঘামা, গরম একেবারে সহ্য না করতে পারা। ৩) হাতের তালু ঘেমে যাওয়া। ৪) মাংস পেশীতে শক্তি না পাওয়া। ৫) হাত পা কাঁপা। ৬) অনিয়মিত মাসিক হওয়া। ৭) ঘুমে সমস্যা হওয়া। ৮) ডিস্টার্ব ও নার্ভাস থাকা। ৯) চোখে ঝাপসা দেখা। ১০) পাতলা পায়খানা ঘন ঘন হওয়া। ১১) বুক ধুকপুক ধুকপুক করা,ও হার্ট বিট বেড়ে যাওয়া। ১২) উচ্চ রক্তচাপ হওয়া। ১৩) চুল পাতলা হয়ে যাওয়া। ১৪) থাইরয়েড গ্লান্ড ফুলে গেলে বা বড় হলে।ইত্যাদি। হাইপারথাইরয়েডিজম এর চিকিৎসা ৩ ভাগে বিভক্ত এর চিকিৎসা। রোগীর অবস্থা, বয়স, নডিউল এর সাইজ, টক্সিসিটি ইত্যাদি এর উপর নির্ভর করে ডাক্তাররা ৩ ধরনের চিকিৎসা দেন। ১. মুখে খাবার ওষুধঃ একটা নির্দিষ্ট ডোজ এ। । ২. অপারেশন এর মাধ্যমে চিকিতসা করা হয়। ৩. রেডিও থেরাপি: দিয়ে করা হয়। তবে নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও