আমার মানুষিক অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। আমার ছোট মেয়ে হওয়ার পর থেকে সাভাবিক নিয়মে মাসিক শুরুর কথা ছিলো মেয়ে হওয়ার ছয় মাস পর মাসিক শুরু হয়। এরপর নিয়মিত হয়নি এখনো। দুই তিন মাস পর হয়। হলে 10/15  দিন থাকে এবং অনেক ব্লিডিং হয়।  ওজন নিয়ন্ত্রনে নেই। ওজন বেশি। তলপেট নিচের দিকে ঝুলে গেছে ভারি হয়। হাজব্যান্ডের সাথে শারিরিক মেলামেশা করতে একেবারেই ইচ্ছে হয়না। অনেকটা ইচ্ছের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে থাকা হয়। কাজের এনার্জি পাইনা। মেজাজ অল্পতেই খারাপ হয়ে যায়। হাজব্যন্ড ও অনেক বদ মেজাজে। রাগ বেশি সে বেশি রেগে গিয়ে প্রায়ই গায়ে হাত তুলে বা গাল মন্দ করে। এতে তার প্রতি দিন দিন আমি আরো বিরক্তি হয়ে যাচ্ছি। অনেক সময় মিটমাট করি সেও করে তবে তা স্থায়ী হয়না বেশি দিন। বাচ্চাটা এভাবেই বড় হচ্ছে। প্লিজ আমাকে হেল্প করেন।

গ্রাহক,আপনার মনের কথা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। আপনার নিজের প্রতি যে সচেতনতা এবং সুস্থ পরিবেশ রাখার যে আগ্রহ তা অনেক ইতিবাচক মনোভাব।আপনার প্রশ্ন থেকে আমি যা বুঝতে পারছি তা হলঃ- আপনার প্রেগন্যন্সি জার্নির পর হরমনের পরিবর্তন যার ফলে শারীরিক ও মানসিক চেঞ্জ হচ্ছে,- স্বামীর সাপোর্ট না পাওয়া এবং নিজেকে বুঝার জন্য সময় দেওয়া না দেওয়া ফলে দাম্পত্য কলহ যা আপনার মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে বাঁধা দিচ্ছে।-ইতিবাচক পরিবেশের অভাবে সন্তান যেভাবে বড় হচ্ছে তা নিয়ে উদ্বেগ।আমি কি ঠিক বলেছি গ্রাহক?যদি এমন কিছু হয়ে থাকে তাহলে প্রথমে নিজের পরিবর্তনকে বুঝার চেষ্টা করা। কি হচ্ছে নিজের মাঝে এবং কি চাইছেন আপনি। আপনার শারীরিক যে অসুবিধা হচ্ছে তার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ জরুরি। কারণ শারীরিক সুস্থতার উপর মানসিক সুস্থতা নির্ভর করে।নিজেকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করা এবং স্বামীর প্রতি কি রকম প্রত্যাশা/ দাম্পত্য সম্পর্কের প্রতি যে চাওয়া তা  এবং অনুভূতি শেয়ার করতে পারেন। আমরা নিজেদের চাহিদা পূরণের জন্য অনুরোধ করতে পারি কিন্তু আদেশ করতে পারি না। কোনভাবে সুর যদি আদেশের মত হয় তখন অন্যরা রেগে যায়/ বিরক্ত হয়। তাই ভাষা প্রকাশে সচেতন হতে হবে।  অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে  নিজের/অন্যের কোন ক্ষতি না হয় এমন করে নিজের কথা প্রকাশ করা। সন্তান জন্মদানের পর অনেকের শারীরিক সম্পর্ক করতে ইচ্ছে হয় না যা স্বাভাবিক। তাই স্বামীর সাথে এ বিষয়ে কথা বলে পারষ্পারিক বোঝাপড়া বাড়ানো।সন্তানের সামনে নেতিবাচক আচরণ করা থেকে বিরত থেকে নিজেরা আলাদা সময়, ঘরে আলোচনা করে নিতে পারেন যা সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের জনু জরুরি।ধন্যবাদ আপনাকে।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও