প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। কারো ডিপ্রেশন বা বিষন্নতা আছে এটা বলার জন্য নির্দিষ্ট কিছু সিম্পটম থাকার প্রয়োজন হয়। নিম্নবর্তী ৯ টি সিম্পটমের মধ্যে যদি ৫ টি সিম্পটম দু সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে তখন তার ডিপ্রেশন আছে বলা যেতে পারেঃ ১. প্রতিদিন প্রায় প্রতিটা সময় মন খারাপ থাকা, ২. কোন কাজে ভাল লাগার অনুভূতি না পাওয়া, ৩. বড় মাপের ওজনের পরিবর্তন, ৪. Insomnia বা ঘুমের সমস্যা ৫. প্রায় প্রতিদিনই বিরক্তি, ৬. ক্লান্তি বা কম এনার্জি অনুভব করা, ৭. অসহায়ত্ব বা অপরাধবোধে ভোগা, ৮. চিন্তা বা মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতা হ্রাস বা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা, ৯. মৃত্যুর চিন্তা আসা। গ্রাহক, আপনি কি আপনার ভিতরে এই সিম্পটম গুলো দেখতে পাচ্ছেন? আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন শুধুমাত্র মন খারাপ থাকাই ডিপ্রেশনের লক্ষন না।আপনি কি অনুগ্রহ করে জানাবেন যে আপনার এই মন খারাপের বিষয়টা কবে থেকে হচ্ছে? সাধারণত মন খারাপ থাকলে আমরা সব ধরনের কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি এবং নিজেকে আশেপাশের মানুষ এবং কাজ থেকে গুটিয়ে নেই। গ্রাহক, আপনার ক্ষেত্রেও কি এমন কিছু ঘটছে? যদি আপনি নিজেকে সবকিছু থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন তা আপনার মন খারাপের স্থায়িত্ব বাড়ানোর পক্ষেই কাজ করবে। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার ফেলে রাখা কাজগুলোকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে অল্প অল্প করে করতে পারেন। যেহেতু আপনার অধিকাংশ সময় মন খারাপ থাকছে, আপনি আপনার পছন্দের কাজ অর্থাৎ যে কাজগুলো আপনাকে আনন্দ দেয় তার একটা তালিকা তৈরি করতে পারেন। এবং আপনার দৈনন্দিন জীবনে পছন্দের কাজ গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এই কাজগুলো যেহেতু আপনার পছন্দের সুতরাং তা আপনার মন ভাল রাখতে কার্যকর হতে পারে। পছন্দের কাজের মধ্যে যে কোন কিছুই থাকতে পারে যেমনঃ বই পড়া, গান শোনা,কোথাও ঘুরতে বের হওয়া, কাছের মানুষদের সাথে আড্ডা দেয়া ইত্যাদি। আনন্দের কাজগুলোর পাশাপাশি আপনি নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টাও করতে পারেন। যে সব বিষয়ে আপনি আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে ইচ্ছুক সে বিষয়গুলোতে দক্ষতা অর্জন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আপনি যদি ধীরে ধীরে আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হন তা আপনার মধ্যে একটা ভাল লাগার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।  মন খারাপ চলমান রাখার জন্য কাজ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি। আমাদের অভ্যন্তরীন কিছু নেতিবাচক চিন্তাও কাজ করে। সাধারনত যখন আমাদের মন খারাপ তখন আমাদের মাথায় অনেক নেতিবাচক চিন্তা আসে যেমনঃ আমার কেও নাই, আমাকে কেও পছন্দ করে না, আমাকে কেও ভালবাসে না, আমি জীবনে কিছু করতে পারি নি ইত্যাদি। আপনার মাথায় আসা এমন নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে শনাক্ত করুন। শনাক্ত করার পদ্ধতি হিসেবে ডায়েরীতে লিখতে পারেন। পরবর্তীতে এই চিন্তাগুলো কতটুকু যৌক্তিক ভেবে দেখতে পারেন। নেতিবাচক চিন্তার পরিবর্তে পজিটিভ চিন্তা করতে পারলে আপনার মনটা ভাল থাকবে বলে মনে করছি। যদি এমন কেও থাকে যে আপনার মনের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং গোপনীয়তা বজায় রাখবে তার সাথে শেয়ার করতে পারেন।আপনারপড়াশুনার এই সমস্যাটা কখন থেকে হচ্ছে অনুগ্রহ করে আমাদের জানাবেন কি? গ্রাহক, পড়াশুনা আপনার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ তা আপনি জানেন কি? যে যে কারণে পড়াশুনা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তা একটি কাগজে লিখে ফেলুন। পড়াশুনা আপনাকে কিভাবে আপনার কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিবে সেটাও লিখে ফেলুন। কাগজটি আপনার সামনে বা টেবিলে রাখুন যাতে আপনি তা সব সময় দেখতে পারেন।শুরুতে আপনি এক সপ্তাহ টানা প্রতিদিন কয়েক ঘন্টা করে পড়ুন। একেবারে না পড়ার চাইতে এটা অন্তত কিছু পড়া হলো। সহজে মেনে চলতে পারবেন এরকম একটা রুটিন করে রাখুন। দিনে ২/৩ ঘণ্টা করে প্রতিদিন পড়লেই কিন্তু অনেক পড়া হয়, ভালো ফলাফল লাভ করা যায়। প্রথম সপ্তাহের পর দ্বিতীয় সপ্তাহে সময়টা ১ ঘণ্টা বাড়িয়ে ফেলুন। প্রতি ৩০ মিনিট পরপর বিরতি নিতে পারেন। নিজেকে একটা টার্গেট দিবেন, যেমন এই সপ্তাহে বাংলা দুটা কবিতা পড়তে হবে। টার্গেট পূরণ করলে নিজেকে উপহার দিন। সেটা বন্ধুদের সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দেওয়া, নতুন গল্পের বই পড়া, পছন্দের কিছু খাওয়া বা আপনার পছন্দের যে কোন কিছুই হতে পারে। সপ্তাহে ১ দিন পুরো সপ্তাহের পড়াগুলো রিভাইস করুন, মাসে দুবার পুরো মাসের পড়াটা রিভাইস করুন। পড়ার পাশাপাশি বারবার লিখে লিখে জিনিসগুলো প্র্যাকটিস করুন। এতে পড়া বেশ মনে থাকে। পড়তে বসার সময় ফোন, ল্যাপটপ সব দূরে রাখুন। বন্ধুরা কেউ কল/ টেক্সট করলে সেটার উত্তর পরেও দিতে পারবেন। পড়ার সময়টা শুধু পড়ার জন্যই রাখুন। দেখবেন কিছুদিনের মধ্যেই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে, পড়তেো তেমন খারাপ লাগবে না।অনেক সময় পড়তে বসলে আমাদের মাথায় বিভিন্ন চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে। চিন্তাগুলো করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় সেট করুন এবং ঐ সময়ের জন্য চিন্তাগুলো করার জন্য রেখে দিয়ে পড়ায় মনোযোগী হউন। প্রথম প্রথম দেখবেন চিন্তাগুলো তারপরও আস্তে থাকবে। নিয়মিত প্রাকটিস করলে চিন্তাগুলো আসা কমে যাবে।আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে মায়াকে জানাবেন। আপনার পাশে সব সময় আছে মায়া।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও