সম্মানিত গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। একটি বাচ্চা দিনে দুই থেকে তিনবার পায়খানা করার পর তার যদি অস্বস্তি অনুভব না করে, সেটা তার জন্য স্বাভাবিক। আবার একটি বাচ্চা দিনের মধ্যে তিন থেকে চার বার পায়খানা করছে, তারপরও যদি সে সুস্থবোধ না করে, পায়খানা পরিষ্কার না হয়, তাহলে সেটি কোষ্ঠকাঠিন্য। এ জন্য কোষ্ঠকাঠিন্যর ব্যাপ্তি অনেক।আসলে পায়খানা শক্ত হলে একে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে। এই পায়খানা যেন কষা না হয়, নরম থাকে এবং সহজে পায়খানা পেট থেকে বেরিয়ে যায় তার জন্য সবজি খেতে হবে। অনেক কারণে শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। কিছু কিছু মেডিকেল কারণে হয়, কিছু কিছু সার্জিক্যাল সমস্যার কারণে হয়। যেমন : বাচ্চাদের যদি হাইপোথাইরয়েডিজম থাকে, বাচ্চারা যদি পানি কম খায়, যদি মাংস জাতীয় খাবার বেশি খায়, ফাস্টফুড খায়, তাহলে তাদের কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এ ছাড়া কিছু কিছু সার্জিক্যাল কারণ রয়েছে যার জন্য কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। আমরা একে এনাল ফিসার বলি,পাইলস বলি, হেমোরয়েডস বলি, রেক্টাল স্টেনোসিস বলি- এই রকম অনেক সমস্যা রয়েছে যার জন্য বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। বাচ্চাদের মাংস জাতীয় খাবার কম খাওয়াতে হবে। আঁশ জাতীয় খাবার, যেমন : শাকসবজি বেশি করে খাওয়াতে হবে। দুধ, শাকসবজি,ফল- এগুলো থাকলে শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হবে না। পায়খানার সময় কষ্ট হবে না। কোষ্টকাঠিন্য হলে পায়খানার রাস্তা চিরে যায়। এনাল ফিসার হয়। যখনই এনাল ফিসার হয়, তখন পায়খানা করতে গেলে তার ব্যথা হয়।সেজন্য সে আরো চেপে রাখে। যখনই পায়খানা আসে, সে ঘরের মধ্যে দৌঁড়াদৌড়ি করে। শিশু পায়খানা করতে চায় না। কিছুক্ষণ পর আবার যখন পায়খানা আসছে সে বসছে ঠিকই, তবে ব্যথার জন্য আবার দৌঁড়াদৌড়ি শুরু করে দেয়। পায়খানা না করলে যত সময় যাচ্ছে তখনই তার পায়খানা আরো শক্ত হচ্ছে। এরপর যখনই সে পায়খানা করতে যায় তার আরো কষ্ট হয়। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের উপায় হচ্ছে তাকে শাকসবজি বেশি করে খাওয়াতে হবে। গরম দুধ, ফলের জুস এগুলো খাওয়াতে হবে। শিশুকে শান্তভাবে মলত্যাগ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শিশু যেন ব্যথা না পায় এবং মা-বাবা যেন চিন্তামুক্ত থাকেন, অস্থিরতায় না ভোগেন সেদিকে লক্ষ্য রাখা দরকার। যদি এসবে পায়খানা না হয়, তাহলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও