গ্রাহক,আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার লেখা পড়ে বুঝতে পারছি আপনি আপনার চিন্তা। অনুভূতি এবং আচরণ নিয়ে সচেতন এবং আপনার সন্তানদের ভালোবাসেন। তারা যেন আপনার কাছ থেকে কষ্ট না পায় সেজন্য নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন, তাই কি?আপনি যে চিন্তার ফলে হতাশ অনুভব করেন তা স্বাভাবিক। প্রত্যাশা পূরণ না হলে আমরা হতাশ হবে এটাই স্বাভাবিক যেমনটা আপনি অনুভব করছেন। আপনার স্বামী প্রবাসী এবং সন্তানদের পালনের দায়িত্ব আপনাকে বহন করতে হচ্ছে। যার জন্য আপনার পড়াশুনা ও ক্যারিয়ার বন্ধ আছে। আপনি এসব চিন্তা করে হতাশ অনুভব করেন ফলে যখন মন ভালো থাকে না সন্তান বিরক্ত করলে আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। আপনার প্রত্যাশা অপূর্ণের পিছনে সন্তানদের তো সম্পর্ক নেই, তাই না। তারা তো তাদের ইচ্ছায় এ পৃথিবীতে আসেনি। আমরাই তাদের নিজেদের প্রয়োজনে পৃথিবীতে আনি এবং আবার নিজেদের অনিয়ন্ত্রতিত আচরণের ফলে আঘাত করি যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে সন্তানের উপর। আপনি  হয়তো আপনার বর্তমান অবস্থাকে মেনে নিতে পারছেন না যার জন্য আপনার নেচিবাচক চিন্তা হয়, আমি কি ঠিক বলছি? আপনি যদি বারবার নিজেকে মনে করিয়ে দেন যে আমি যা করতে পারেনি তার দায়ভার আমার সন্তানের নয়। আমার চাওয়া এবং সন্তান আলাদা দিক।যখনই আপনি রিয়েকশন করতে যাবেন তখনি নিজেকে বলুন-স্টপ। তারপর লম্বা করে শ্বাস নিয়ে নিজেকে একটু স্থির/শান্ত করুন এতে করে আপনার নেতিবাচক চিন্তা চলে গিয়ে নিজের আচরণের উপর নিয়ন্ত্রণ আসবে। একদিনেই হবে এমন নয়। নিয়মিত অনুশীলনের ফলে আপনি আপনার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। আর আপনার হতাশা দূর করার জন্য যা করতে পারেন তা হলঃ  -- নিজের প্রতি আত্নবিশ্বাস রাখা-- মনের কথা বিশ্বস্ত কারো সাথে শেয়ার করা ফলে মন হালকা হয় এবং হতাশ অনুভূটি কমে আসে-- নিজের ভালো লাগে এমন কাজে ব্যস্ত থাকা-- বাস্তব এবং যৌক্তিক প্রত্যাশা রাখা নিজের প্রতি এবং অন্যের প্রতি-- কাছের মানুষের সাথে সময় কাটানো ইত্যাদি। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হয় এবং মানসিক চাপ কমে হতাশা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব।-- মেডিটেশন করা। মেডিটেশন হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শরীরকে শিথিল করে মানসিক ভাবে প্রাশান্তি এনে দেয়। দুচিন্তা,রাগ, আবেগ, হতাশা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে দীর্ঘ নিঃশ্বাস নেওয়ার ফলে মস্তিস্কে বিশুদ্ধ অক্সিজেন প্রবেশ করে মস্তিস্ককে অনেক শিথিল করে  ফলে মনে প্রশান্তি আসে। ধন্যবাদ আপনাকে।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও