প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। এনাল ফিশার মানে মলদ্বারে ঘা অথবা ফেটে যাওয়া। এটি খুব সাধারণ একটি রোগ। সাধারণত ১২/১৪ বছর থেকে শুরু করে ৩০/৩৫ বছর বয়সীদের এই রোগ বেশি হয়। অনেক সময় শিশুদেরও হয়। বৃদ্ধ বয়সেও হয়। তবে এই বয়সে একটু বেশি হয়। এটি দুই ধরনের হয়। তীব্র (একিউট) ফিশার হলে রোগীর মলদ্বারে অসম্ভব ব্যথা হয়। দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) ফিশারে ব্যথার তারতম্য হয়। এটি যে কোনো বয়সে হতে পারে। সাধারণত প্রবল কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে অথবা যথাযথ প্রক্রিয়ায় মলত্যাগ করা সম্ভব না হলে শক্ত মল অথবা অতিরিক্ত চাপের কারণে পায়ুপথ সামান্য ছিঁড়ে যায়। যেহেতু পায়ুপথ অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা, সেহেতু ছিঁড়ে যাওয়ায় মলত্যাগ করতে গেলেই তীব্র ব্যথা শুরু হয়। ওই ব্যথা কারো আধা ঘণ্টা, কারো ক্ষেত্রে সারা দিন স্থায়ী হয়। ব্যথা পিন দিয়ে খোঁচা দেওয়ার মতো, ছুরি দিয়ে কাটার মতো হতে পারে। এ ব্যথা সারা তলপেটে ও পায়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে চুলকানি ও এক ধরনের অস্বস্থি হতে পারে। রোগী ব্যথার ভয়ে টয়লেটে যেতে চান না। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী সময় মলত্যাগে ব্যথা আরও বেড়ে যায়। বিষয়টি দুষ্টচক্রের মতো চলতে থকে। ব্যথা ছাড়া অন্য আরেকটি উপসর্গ হচ্ছে রক্ত যাওয়া। তবে এনাল ফিসারে রক্ত বেশি যায় না। সাধারণত মলের গায়ে লেগে কিংবা টিস্যু পেপারে দেখা যায়। দুই-এক ফোঁটা রক্ত কমডেও দেখা যেতে পারে। রক্ত, ব্যথা ছাড়া পায়ুপথে সামান্য ফোলা বা গেজ, টয়লেট আসতে দেরি হওয়া ইত্যাদি হতে পারে। চিকিৎসা : একিউট ফিশার শুরুর অল্পদিনের মধ্যেই চিকিৎসা শুরু হলে বিনা অপারেশনে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। সিজ বাথ নিলে উপকার হয়। এটির নিয়ম হচ্ছে আধ গামলা লবণ মিশ্রিত হালকা গরম পানির মধ্যে নিতন্ব ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হয়। স্থানিক অবশকারী মলম ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। এতে যদি পুরোপুরি না সারে এবং রোগটি যদি বেশি দিন চলতে থাকে তাহলে অপারেশন ছাড়া ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কমতে থাকে। সার্জিক্যাল চিকিৎসা : মলদ্বারের মাংসপেশির সম্প্রসারণ করা (এনাল ডাইলেটেশন)-এ পদ্ধতিটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য বেশির ভাগ সার্জন এটির বিপক্ষে। এ পদ্ধতির জন্য কোনো কোনো রোগীর মল আটকে রাখার ক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। মলদ্বারের স্ফিংটারে অপারেশন : এই অপারেশনে মলদ্বারের অভ্যন্তরীণ স্ফিংটার মাংশপেশিতে একটি সূক্ষ্ম অপারেশন করতে হয়। অজ্ঞান করার প্রয়োজন নেই। দুই দিনের মধ্যেই রোগী বাড়ি ফিরে যেতে পারেন। অপারেশনের তিনদিন পর স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারেন। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।

পরিচয় গোপন রেখে ফ্রিতে শারীরিক, মানসিক এবং লাইফস্টাইল বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন Maya অ্যাপ থেকে। অ্যাপের ডাউনলোড লিঙ্কঃ http://bit.ly/38Mq0qn


প্রশ্ন করুন আপনিও