চোখ ব্যথার কথা যদি বলতে হয় তবে প্রথমেই আমাদের চোখ বা চোখের আশেপাশে কোন ব্যথা হলে প্রাথমিক পর্যায় চোখ ব্যথাকে মাথা ব্যথা থেকে পার্থক্য করতে হবে।কোন রোগ ছাড়াও ব্যথা হতে পারে।সেক্ষেত্রে যদি চশমার প্রয়োজন হয়।সেক্ষেত্রে চোখ পরীক্ষ করে প্রয়োজন মত চশমা ব্যবহার করা উচিত।কোন মানসিক চাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রন বা চিকিৎসা করতে হবে।অনেক রোগের কারণেই চোখ ব্যথা হতে পারে। যেমন- চোখ ওঠা, চোখের মণির কোনো রোগ, আঘাতজনিত কোনো রোগ, চোখের ভেতরের রোগ ইত্যাদি। শরীরের রোগের মধ্যে মাইগ্রেন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি কারণে চোখ ব্যথা হতে পারে। চোখ ব্যথার সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে আছে—1.কনজাংটিভাইটিস বা চোখ উঠলে চোখ লালচে হয়, চুলকায়, জ্বালাপোড়া করে। সাধারণত অ্যালার্জি থেকে চোখের আবরণীর এই প্রদাহ দেখা দেয়। তবে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণেও হতে পারে। 2.চোখের পাতায় প্রদাহ হলেও চোখ ব্যথা করতে পারে। 3.কর্নিয়ায় আঘাত বা কিছু ঢুকলে তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে তীব্র ব্যথা হয়।4.যাঁরা কনটাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, তাঁদের এই ইনফেকশন বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।5.গ্লুকোমা চোখের একটি রোগ, যাতে প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না। চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ বেড়ে গিয়ে রোগটি হয়। লক্ষণ হিসেবে থাকতে পারে তীব্র চোখ ব্যথা, বমি ও বমি বমি ভাব, মাথা ব্যথা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া ইত্যাদি। দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা না করলে এ থেকে অন্ধত্বও হতে পারে।সাধারণত চোখ ব্যথার সঙ্গে এই উপসর্গগুলো দেখা যায়। যেমন—দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, চোখ দিয়ে পানি বা পিঁচুটি পড়া, চোখের ভেতর কিছু আটকে আছে এমন অনুভূতি হওয়া, মাথা ব্যথা, আলোর দিকে তাকাতে অস্বস্তিবোধ, চোখে ব্যথা বা চাপ অনুভব করা, বমি ও বমি বমি ভাব, চোখের মণি লালচে বা গোলাপি হয়ে যাওয়া, অনবরত পানি ঝরা, ঘুম থেকে ওঠার পর পিঁচুটি জমে চোখ বন্ধ হয়ে থাকা।চিকিৎসা:চোখ ব্যথার পাশাপাশি যদি হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, চোখে অসহনীয় ব্যথা হয়, মাথা ঘোরানো থাকে—এ ধরনের কোনো অসুবিধা হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ৬ বছর বয়সের পূর্বে কোন সমস্যা থাক বা না থাক অবশ্যই একবার চক্ষু পরীক্ষা করতে হবে।এছাড়া যাদের কখনও চোখের সমস্যা হয় নাই কিন্তু বয়স ৩৫ এর নীচে তাদের ডায়বেটিক বা হাইপারটেনশন অথবা কোন ঔষধ দীর্ঘদিন ধরে সেবন করছেন তাদের অবশ্যই নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করতে হবে।আবার যাদের বয়স ৪০ উর্ধ্ব তাদের চোখের অভ্যন্তরীন চাপ(ইন্ট্রা অকুলার প্রেসার) এদের পাওয়ার পরীক্ষা করতে হবে এবং এসব ক্ষেত্রে সমস্যা না হলে কমপক্ষে ২ বছর পরপর চক্ষু পরীক্ষা করাতে হবে।কিন্তু যাদের অন্য কোন অসুখ যেমন ডায়বেটিক হাইপারটেনশন ইত্যাদি থাকলে বছরে কমপক্ষে ১ বার চক্ষু পরীক্ষা করাতে হবে। সেইসাথে দীর্ঘ ক্ষণ ল্যাপটপ/কম্পিউটারে কাজ করা যাবে না। আধা ঘণ্টা পর পর বিরতি নিতে হবে। অন্ধকারে বই পড়া , ল্যাপটপে কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।সাধারণ যে কারণগুলোর জন্য চোখ ব্যথা হয়, চিকিৎসকের পরামর্শে সেগুলোর যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি।আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়াকে জানাবেন,রয়েছে পাশে সবসময়,মায়া ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও