প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। প্রসবের পর একজন নতুন মায়ের আগের শারীরিক অবস্থা ফিরে পেতে সময় লাগে অন্তত আট সপ্তাহ। আর গর্ভাবস্থায় একজন মহিলার কিছু অতিরিক্ত শারীরিক ওজনও বৃদ্ধি পায়। অনেকেই এ অতিরিক্ত ওজন খুব দ্রুত ঝেড়ে ফেলতে চায়। কিন্তু এ সময়টি একজন নতুন মায়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ সময় একজন নতুন মায়ের চাই উচ্চ ক্যালরি যুক্ত ডায়েট চার্ট। এ সময় এমন সব খাবার খেতে হবে যা শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতেও সাহায্য করবে।  দুগ্ধজাত খাদ্য : দই, পনির, দুধ, ইত্যাদি দুগ্ধজাতীয় খাদ্য একজন নতুন মায়ের স্বাস্থ্যের জন্য অতি উপকারী। দুধ ক্যালসিয়ামেরও একটি ভাল উৎস। এ জাতীয় খাদ্য মা ও নবজাতক শিশুর শারীরিক পুষ্টি চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। লাল চালের ভাত : একজন মহিলা চায় গর্ভাবস্থায় তিনি যে অতিরিক্ত ওজন অর্জন করেছে তা যেনো খুব দ্রুত কেটে যায়। এজন্য তাকে কিছু ডায়েট করতে হয়। কিন্তু এর ফলে নবজাতক শিশুটির খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।কিন্তু লাল চালের ভাতের পুষ্টিগুণ সাধারণ চালের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি । তাই এ সময় একজন নতুন মা লাল চালের ভাত গ্রহণ করতে পারেন। ডিম : ডিম আপনার দৈনন্দিন প্রোটিনের চাহিদা পূরণে অপরিহার্য উপাদান। প্রসবের পর একজন নতুন মায়ের খাদ্য তালিকায় ডিম রাখা উচিত। যেহেতু এ সময় শরীরের পুষ্টি চাহিদা বেশি থাকে তাই প্রতিদিন নিয়ম করে একটি ডিম খাওয়া উচিত। মটরশুঁটি ও শিম : শীতের সবজি হিসেবে আমরা প্রায় সকলেই শিম ও মটরশুঁটি খেয়ে থাকি। কিন্তু জানেন কি এ সকল সবজি উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের একটি বড় উৎস। বিশেষ করে যদি আপনি একজন নিরামিষভোজী হন তাহলে এ সকল সবজি থেকে আপনার প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে পারেন। কমলালেবু : কমলালেবু এবং অন্যান্য সাইট্রাস খাবার একজন নতুন মায়ের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। কমলালেবু শারীরিক ক্ষত সারাতে এবং শক্তির মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। আর একজন গর্ভবতী মহিলার তুলনায় একটি নতুন মায়ের ভিটামিন সি দরকারও বেশি থাকে। সবুজ শাকসবজি : প্রসব পরবর্তীকালে একজন মায়ের খাদ্য তালিকায় সবুজ শাকসবজি ও ব্রোকলি যোগ করা উচিত। কারণ এসব সবুজ শাকসবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। যা শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। প্রতিদিনই একজন নতুন মায়ের খাদ্য তালিকায় সবুজ শাক সবজি রাখা উচিত।  পানি : প্রসবের পর একজন নতুন মাকে বেশি পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এ সময় শরীরে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। কারণ এ সময় মায়ের শরীরের পানির চাহিদার পাশাপাশি নবজাতকের চাহিদাও পূরণ করতে হয়। এ বিষয়টি সবসময় একজন নতুন মায়ের মাথায় রাখা উচিত। তবে জুস ও দুধ খেয়েও এ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে এ সময় ক্যাফেইন জাতীয় যতটা সম্ভব এড়িয়ে উচিত। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও