প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। মৃগী রোগে খিঁচুনি হঠাৎ শুরু হয়ে কিছুক্ষণ পর এমনিতেই থেমে যায়। সাধারণত এ ধরনের অ্যাটাক আধা মিনিট বা এক মিনিট সময় ধরে হয়। প্রকৃত পক্ষে এ জন্য কোনো কিছু করার দরকার নেই। অনেকে অস্থির হয়ে রোগীর হাত-পা চেপে ধরে, মাথায় পানি দেয় আবার অস্থির হয়ে মুখে ওষুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করে, চামড়ার জুতা বা গরুর হাড় বা লোহার শিক ইত্যাদি মুখে চেপে ধরে। কিন্তু এসব কোন কিছুই করার দরকার নেই। এসবে কিন্তু কোনো কাজ হয় না, বরং ক্ষতিই বেশি হয়। রোগটি নিজে নিজেই থেমে যাবে এবং রোগী ঘুমিয়ে পরবে। কারও কারও খেত্রে, মাথাব্যথা হতে পারে। সাধারনত মৃগী রোগীর ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে হয়ঃ রোগী যেমন করছে, তেমনই করতে দিন। রোগীকে জোরে ঠেসে ধরার কোন প্রয়োজন নেই। এতে বরং রোগীর ক্ষতি হতে পারে। রোগীর চারিদিকে মানুষের ভীড় করা যাবে না৷ রোগীকে ঘুমাতে দিতে হবে৷ রোগীর আশপাশে কোন ধারালো অস্ত্র, যন্ত্রপাতি কিংবা আগুন ইত্যাদি ক্ষতিকারক কোন কিছু যেন না থাকে যাতে সে আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। রাস্তায় খিঁচুনি হলে, রাস্তার পাশে নিরাপদ কোন জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। মাথাটি পাশ ফিরিয়ে এবং সামান্য নিচের দিকে হেলান দিয়ে রাখতে হবে যেন ভালোভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারে ও মুখের ফেনা বা লালা গড়িয়ে পরতে পারে৷ যদি ১০ মিনিটেও মৃগী না থামে, তবে অবশ্যই রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে স্থানান্তর করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রোগীর জন্য করণীয় রোগীকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মেনে চলতে হবেঃ নিয়মিতভাবে ওষুধ সেবন করতে হবে। সঠিক নিয়মে এবং পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। অতিরিক্ত উত্তেজনা নিয়ন্ত্রন করতে হবে। পানিতে নামা, গাছে উঠা কিংবা গাড়ি চালানো ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে। খিঁচুনির মাত্রা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত আগুনের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে। ভ্রমণে সাথে সবসময় ওষুধ সাথে রাখুন। ধূমপান এবং মদ্যপান বর্জন করতে হবে। নিয়মিতভাবে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে। রোগীর সাথে সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শের কপি এবং বাসার টেলিফোন নম্বর রাখতে হবে। যেসব মৃগী রোগে আক্রান্ত মহিলার বয়স ৫০ বছরের নিচে অর্থাৎ রিপ্রোডাক্টিভ এজ, তাদের ক্ষেত্রে, মাসিকের সময় খিঁচুনির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। একজন মৃগীরোগী বিয়ে, সংসার, কর্মজীবন, লেখাপড়া ও সন্তান নেয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও