প্রিয় গ্রাহক, আমাদের সাথে আপনার বিষয়টি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি নিজেকে কিভাবে সুখী রাখবেন সে সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। কিছুদিন আগে আপনি জানতে পেরেছেন যে আপনার স্বামী অন্য কোন মেয়ের সাথে ছবি তুলেছে এবং তা দেখে আপনার অনেক কষ্ট লেগেছে। আপনি বুঝতে পারছেন না যে কি করবেন। মেয়েটি আপনার স্বামীর বন্ধু। আপনার হাজব্যান্ড আপনার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। কিন্তু আপনি কিছু বলতে পারছেন না। অনেক কষ্ট হচ্ছে আপনার।গ্রাহক, আপনার বিষয়টি অনুভব করতে পারছি । বুঝতে পারছি যে, বান্ধবীর সাথে ছবি তোলার বিষয়টি আপনার ভালো লাগে নি। আপনি যেভাবে আপনাদের সম্পর্কের ব্যাপারে কমিটেড, আপনাকে না জানিয়ে আরেকজনের সাথে আপনার স্বামীর ছবি তোলাটা আপনাকে কষ্ট দিয়েছে। আপনি হয়ত এরকম কিছু এক্সপেক্ট করেন নি। ছেলে মেয়ে যে কারোর সাথেই ত আমাদের বন্ধুত্ত্ব হতে পারে, তাই না? শুধু কি ছবি তোলার জন্যই আপনার খারাপ লেগেছে নাকি এর সাথে আরও কোন বিষয় রয়েছে?  আমাদের সাথে কি তা শেয়ার করা যায়? আপনাদের বিয়ে হয়েছে কতদিন হলো? আপনার হাজব্যান্ড যদিও ক্ষমা চেয়েছেন তবুও আপনার অনে কষ্ট হচ্ছে। ঠিক কি কারণে কষ্ট হচ্ছে তা নিয়ে কি ভেবে দেখেছেন? আপনার কষ্টের অনুভূতিগুলো আপনার হাজব্যান্ডের সাথে শেয়ার করতে পারেন। উনার এরকমটি করার পেছনে কোন বিষয়গুলি কাজ করেছে সেগুলো নিয়ে কি ভেবে দেখেছেন? আপনাদের দাম্পত্ত্য জীবনে কি কোন সমস্যা বা গ্যাপ তৈরি হয়েছিল? উনি কি তার ইমোশন বা চাহিদাগুলি আপনার সাথে শেয়ার করতে পারছিলেন না? নিজেদের মনের কথাগুলো নিজেদের সাথে নিয়মিত শেয়ার করা, দৈনন্দিন জীবন কেমন যাচ্ছে, মানসিক অবস্থা কেমন এসব নিজেদের মধ্যে শেয়ার করার চর্চা সম্পর্ক ভালো রাখার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে আর যে কোন সম্পর্কের ক্ষেত্রেই ইমোশন্যাল বণ্ডিং একটি গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয়। নিজেদের মধ্যে যদি একটি বন্ধুত্ত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে তাহলে নিজেদের চাহিদা এবং কখন কোন ধরণের রেসপন্স একজন আরেকজনের কাছে প্রত্যাশা করছে সেটি বুঝতে সুবিধা হয়। এই বোঝাপড়ার জন্য নিজেদের মধ্যে পজেটিভ ইমোশন্যাল এটাচমেন্ট থাকাটা জরুরী। আপনার পক্ষ থেকে এসব নিয়ে আন্তরিকতা হয়ত কম ছিল না তা বুঝতে পারছি কিন্তু উনার দিক থেকে ব্যাপারগুলি কেমন ছিল?আপনি এখন কি করতে চাচ্ছেন? কি করলে আপনার কষ্ট গুলি কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করছেন? আপনার স্বামীর সাথে আপনার ইমোশন্যাল বিষয়গুলি, মনের কথাগুলি বিস্তারিতভাবে শেয়ার করার পাশাপাশি তার কথাগুলিও শুনতে পারেন। এরপর যে বিষয়গুলি সম্পর্কে সচেতন থাকলে নিজেদের সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক হবে সেসব নিয়ে হয়ত একটা সিদ্ধান্তে আসা যেতে পারে, তাই নয় কি? এর সাথে নিজেদের যে বিষয়গুলি আপনাদের পছন্দের, পার্সোনালিটি এবং কোন ধরণের ইমোশন্যাল এটাচমেন্টে আপনারা কমফোর্ট feel করেন এগুলো নিয়েও কথা বলতে পারেন। একটা ডাইরীতে আপনার মনের কথাগুলি লিখে তারপর না পড়েই কাগজগুলো ছিড়ে ফেলতে পারেন। এতে কষ্টগুলি espress করতে পারবেন এবং কিছুটা হলেও কষ্টের চাপ কমবে। মন খারাপ হলে বা কোন কারণে হতাশ থাকলে সব ধরনের কাজের প্রতি আমরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলি এবং নিজেকে আশেপাশের মানুষ এবং কাজ থেকে গুটিয়ে নেই। যদি আপনি নিজেকে সবকিছু থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন তা আপনার সমস্যার স্থায়িত্ব বাড়ানোর পক্ষেই কাজ করবে। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার ফেলে রাখা কাজগুলোকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে অল্প অল্প করে করতে পারেন। আপনার অধিকাংশ সময় মন খারাপ থাকে then আপনি আপনার পছন্দের কাজ অর্থাৎ যে কাজগুলো আপনাকে আনন্দ দেয় তার একটা তালিকা তৈরি করতে পারেন। এবং আপনার দৈনন্দিন জীবনে পছন্দের কাজ গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এই কাজগুলো যেহেতু আপনার পছন্দের সুতরাং তা আপনার মন ভাল রাখতে কার্যকর হতে পারে। পছন্দের কাজের মধ্যে যে কোন কিছুই থাকতে পারে যেমনঃ বই পড়া, গান শোনা, কোথাও ঘুরতে বের হওয়া, কাছের মানুষদের সাথে আড্ডা দেয়া। আর মন খারাপ হলে নিজেকে সবকিছু দূরে সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি আমাদের অভ্যন্তরী কিছু নেতিবাচক চিন্তাও কাজ করে। সাধারনত যখন আমাদের মন খারাপ তখন আমাদের মাথায় অনেক নেতিবাচক চিন্তা আসে আপনার মাথায় আসা এমন নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে শনাক্ত করুন। শনাক্ত করার পদ্ধতি হিসেবে ডায়েরীতে লিখতে পারেন। পরবর্তীতে এই চিন্তাগুলো কতটুকু যৌক্তিক ভেবে দেখতে পারেন। নেতিবাচক চিন্তার পরিবর্তে পজিটিভ চিন্তা করতে পারলে আপনার মনটা ভাল থাকবে বলে মনে করছি। আমাদের সবার লাইফেই কিন্তু ups and downs থাকে। নিজের সক্ষমতা এবং নেতিবাচক আবেগকে সবার সাথে share করে আমরা কিন্তু চাইলেই এরকম situation কাটিয়ে উঠতে পারি, তাই না? আমাদের সবার মধ্যেই সে সক্ষমতা রয়েছে। নিজের সক্ষমতা ও সৃজনশীলতার উপর আস্থা রাখুন। খাওয়া দাওয়া নিয়মিত করুন।আশা করি আপনার দৈনন্দিন জীবনে আমাদের টিপসগুলি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।আপনার আরও কোন প্রশ্ন থাকলে সেটিও আমাদের কাছে করতে পারেন। মায়া আপা আপনার পাশে সবসময় আছে।   

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও