প্রশ্ন সমূহ
আর্টিকেল
মায়া ফার্মেসী

মায়া প্রশ্নের বিস্তারিত


প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার বয়স কত ? কতদিন ধরে আপনার এই সমস্যা হয়েছে? আপনার কি কানে পানি ঢুকেছিল ? আপনার কানে ব্যথা আছে ? আপনি কি এরজন্য কোন চিকিৎসক এর পরামর্শ নিয়েছেন? আপনার সাথে সর্দি- কাশি আছে? আপনার পূর্বে কখনো এমন কান পেকেছিল? আমাদের বিস্তারিত জানান। কানপাকা দুই ধরণের হয়ে থাকে।
একটি হল-
সাধারণ বা নিরাপদ কানপাকা রোগ, যা সাধারণত কোনো মারাত্মক জটিলতা তৈরি করে না এবং এ ক্ষেত্রে সাধারণত দুর্গন্ধবিহীন, পাতলা পুঁজ কান থেকে বের হয়। অন্যটি হল, অনিরাপদ কান পাকা রোগ, যা জীবন হানিকর জটিলতা তৈরি করতে পারে। এক্ষেত্রে কানে দুর্গন্ধযুক্ত, ঘন পুঁজ কান থেকে বের হয় ও সেখানে সাধারণত কোলেস্টেটোমা উপস্থিত থাকে। কোলেস্টেটোমা এমন একটি জিনিস, যেটি কানের আশেপাশের হাড় এবং অন্যান্য নরম কোষকলাকে সহজেই ধ্বংস করে কানের প্রদাহ মস্তিষ্কের বাহিরে ও ভিতরে ছড়িয়ে দিতে পারে। ফলে অনিরাপদ কানপাকা রোগে মধ্যকর্ণের প্রদাহ ইহার অস্থি প্রাচীর ভেদ করে মধ্যকর্ণের সাথে নিবিড় সম্পর্কযুক্ত শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেমন- মস্তিষ্কের ঝিল্লী, মস্তিষ্ক, মস্তিষ্কের রক্তবাহী সাইনাস, ফেসিয়াল নার্ভ ও অন্তঃকর্ণ ইত্যাদিতে প্রদাহ সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে; যার পরিণতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। যেহেতু, আপনাকে আমরা পরীক্ষা করে দেখতে পারছি না। তাই, আপনার এই সমস্যার জন্য আপনাকে একজন ইএনটি ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ওষুধ খেতে হবে এবং ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ বা নিরাপদ কানপাকা রোগে সাধারণ এন্টিবায়োটিক, এন্টিহিস্টামিন, কানে জীবাণুনাশক ড্রপ ব্যবহার করলেই অস্থায়ীভাবে কান থেকে পুঁজ পড়া বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া, আপনার এই সমস্যার জন্য আপনাকে সবসময় কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।
যেমন ঃ
অযথা কান খোঁচাবেন না, ম্যাচের কাঠি, মুরগির পাখনা, ক্লিপ, নখ ইত্যাদি দিয়ে কান চুলকাবেন না। রাস্তা-ঘাটে যেখানে সেখানে কান পরিষ্কার করানোর জন্য বসে পড়বেন না। সর্দি, কাশি, ঠাণ্ডা, জ্বর, নাক বন্ধ, গলা ব্যথা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলবেন। কান পাকা রোগের জন্য ভবিষ্যৎ এ অবশ্যই কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে ঃ
(১) গোছলের সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যাতে কোনোভাবেই কানে পানি ঢুকতে না পারে। প্রয়োজনে ইয়ারপ্লাগ দিয়ে গোসল করবেন। তা না হলে তুলা তেলে ভিজিয়ে অতিরিক্ত তেল চিপড়িয়ে ফেলে দিয়ে তুলা কানে দিয়ে গোছল করবেন।
(২) পুকুরে/নদীতে ডুব দিয়ে গোসল করবেন না।
(৩) ফ্রিজের পানি, আইসক্রিম, ঠাণ্ডা পানীয় ইত্যাদি পরিহার করে চলবেন। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়াকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া


প্রশ্ন করুন আপনিও