প্রশ্ন সমূহ
আর্টিকেল
মায়া ফার্মেসী

মায়া প্রশ্নের বিস্তারিত


আমি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি।বিবাহিত জীবন 6 বছরের।আমার মা মারা যান 2008 সালে।তারপর থেকে পারিবারিক ও ব্যক্তি জীবন নষ্ট হতে শুরু করে।2009 এ বাবা নতুন বিয়ে করে কিন্তু সেটা টিকে নি।সেই বিয়ে নিয়ে আমার প্রথম অস্থিরতা শুরু হয়।বাবার সাথে আজীবন আমি একটু দূরত্ব রাখি।কারণ 4 বছর বয়স থেকে আমি বাবা মা ছেড়ে নানা বাড়িতে বড় হয়েছি।আজীবন আমি একটু চুপচাপ।মা মারা যাবার পর,hsc তে আমি ফেল করি।যেখানে আমি ক্লাস 5 ও 8 এ ট্যালেন্টপুলে scholarship পেয়েছিলাম,ও ssc যে gpa5 পেয়েছিলাম 2007 এ।তারপর নিজ চেষ্টায় hsc পাস করে ইডেন কলেজ এ ভর্তি হলাম।পারিবারিক ও সামাজিক অপমান সহ্য করতে না পেরে সম্পূর্ণ নিজ চেষ্টায় আমি পুনরায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চেষ্টা শুরু করলাম।ঢাকা থেকে এলাকায় যাওয়া আসা মিলিয়ে সব আমি একা নিজ হাতে করেছি।আমার বাবা কোনোদিন দেখতে আসেনি আমি কেমন আছি,কোথায় আছি।কিন্তু সে টাকা দিয়েছে।আসতে আসতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার সুযোগ পেলাম।সমাজ একটু হলেও মূল্য দিতে শুরু করলো।তার ভেতর প্রেমে জড়িয়ে গেলাম।ছেলেটা শান্ত এবং ভদ্র ছিল।কোনো বদ অভ্যাস ছিল না।আমার ও মানুষিক সাপোর্ট দরকার ছিল তাই আমি সেদিকে খুব involve হয়ে গেলাম।বাড়ি থেকে যখন জানতে পারলো,দেখে 1 মাসের ভেতরই বিয়ের ডেট ফিক্সএড করে ফেললো।কারণ মা ছিল না,বাবা র ও কোনো ঠিক নাই তাই হয়তো দ্রুতই পাড় করতে চেয়েছিল।প্রথম প্রথম স্বাভাবিক ই ছিল সব।হঠাৎ দেখতে শুরু করলাম আমাকে শ্বশুরবাড়ির মানুষজন,আসে পাশের বাড়ির লোকজন বিভিন্ন কারণে কথা শোনায়।কিন্তু আমার স্বামী কখনো কোনো প্রতিবাদ করে নাহ,উপড়ুনত আমাকে দোষারোপ করে।আমি চাইতাম ও প্রতিবাদ না করুক হয়তো আমাকে একটু সান্তনা দিবে।কিন্তু আজ 6 বছরে সেটা হয়নি।ওর বোন ওর মা সব কিছু নিয়ে অনেক অশান্তি হয়েছে।আমার বাড়িতে নালিশ ,দু পরিবার এর ঝগড়া।অনেক কিছুই।আস্তে আস্তে দূরত্ব বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন তার বাড়ির লোকদের সাথে আমার কোনো যোগাযোগ ই হয় না।আমার বাড়ির লোকজন তাও তাদের বাড়িতে যায় কিন্তু কোনো উপলক্ষেও আমার শশুর বাড়ী লোকজন আমার বাবার বাড়ির সাথে যোগাযোগ করেনা।আমার স্বামীর সঙ্গে আমার দূরত্ব বাড়তে থাকে।রাতে ওর শরীরে হাত দিয়ে শুলে ওর বিরক্তি লাগে,ও আমার দিকে ফিরে শুতে পারেনা।প্রত্যেকটা কাজে ও ভুল করলে বা মন মত না হলে সাথে সাথেই আমাকে দোষারোপ করে।এ বিষয়গুলো দেখতে দেখতে আমি মানুষিক ভাবে অনেক দূরে সরে গেসি।একসময় বাধ্য হয়ে চলতাম।কিন্তু আসতে আসতে আর পারিনা।এভাবে চলতে চলতে আমি মানুষিক ভাবে একটা ছেলের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ি।তাকে আমি সেটা জানিয়েও দি।সে আমাকে বলেছিল সব ঠিক হয়ে যাবে।আমিও ভেবেছিলাম হয়তো আমার কারোর প্রতি দুর্বলতা শুনে সে নিজের কিছু জিনিসকে বদলে নিবে।কিন্তু ফলাফল যা ছিল তাই।সে তাকে বদলায় নি।বরং দোষ দেয়া ও দায়িত্বহীনতার পরিমান বেড়েছে।তবে আমার খাওয়া ও পড়ার বিষয়ে সে যতটা পারে আমাকে দেয়।আমার বাবার সাথে আমার যোগাযোগ নেই।সেই আমার বয়সী এক হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করে আমাকে ত্যাগ করেছে।এদিকে সংসারে আমি এক বিন্দু স্থির হতে পারিনা।আমি সব সময় খুব হীনমন্যতায় ভুগি।বেশ কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছি আমি রাতে ঘুমাতে পারিনা।খেতে পারিনা।কাউকে সহ্য করতে পারিনা।কোনো হাসি আনন্দ উল্লাস আমার ভালো লাগে না।কারোর সাথে কথা বলতে ভালো লাগে না।প্রেসার up down করে অতি মাত্রায়।সব সময় মনে হয় নিজেকে শেষ করে দি।শরীরে প্রচন্ড জ্বালা পড়া হয়।আমি সামান্য চিন্তা ও করতে পারিনা,করলে নিঃশাস নিতে পারিনা,বুক  প্রচন্ড ব্যাথা করে।মাথা ব্যাথা করে শরীরের এক পাশ অবস হয়ে আসতে চায়।এই মুহূর্তে আমার কিভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত আমি বুঝতে পারছিনা।

প্রিয় গ্রাহক,

এতো সুন্দর করে আপনার মনের অনুভূতি গুলো জানানোর জন্য ধন্যবাদ।

ছোটবেলা থেকে অনেক কষ্টের মধ্যেই বড় হয়েছেন। নিজ উদ্যোগে, স্বইচ্ছায় পড়ালেখা করেছেন। হঠাৎ মা মারা যাওয়াতে আপনার পড়ালেখায় ক্ষতি হয়, তবে আপনি সেটা কাটিয়ে উঠেছেন। তার পর সম্পর্ক থেকে বিয়ে করলেও এখন সেখানে আর মানিয়ে উঠতে পারছেন না. আপনার স্বামী বা কেউ আপনাকে সাপোর্ট দে না। আসলেই এটা অনেক কষ্টের বিষয়।  একটা সময় আপনি হয়তো অনেক অসহায় অনুভব হয়। আপনার পরিবারে এখন কে কে আছে? সেটা জানাবেন কি? কি কারণে আপনার শশুর বাড়ি এবং স্বামী খারাপ আচরণ করে? কোন কিছু কি হয়েছিল যার পর থেকে এমনটি করছে? 

আপনার স্বামী কে আপনার অনুভূতিটা জানাতে পারেন, আপনার স্বামী কি চাচ্ছ সেটা জেনে নিতে পারেন। আপনাদের সম্পর্কের ভবিষৎ কি তার মতে সেটাও জেনে নিতে পারেন। দুজন কথা বলার মাদ্ধমে একটা মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং এ আস্তে পারেন। এতে আপনাদের সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে। 

পারিবারিক কলহের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যে এর প্রভাব পড়তে পারে। মেজাজ খিটখিটে হওয়া, অতিরিক্ত রাগ. ইত্যাদি হতে পারে। তাই এই অবস্থায় কিভাবে নিজেকে ভালো রাখা যায় সেটা নিয়ে কাজ করতে পারেন। আপনার ভালো লাগার কোন কাজ করতে পারেন। সেটা যত অল্প সময়েই হোক. এতে আপনার ভালো লাগার অনুভূতিটা বাড়বে। এছাড়া ইতিবাচক চিন্তা করতে পারেন। হয়তো সামনে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে আপনার জীবনে। 

মায়া 





প্রশ্ন করুন আপনিও