প্রিয় গ্রাহক,আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।ঊত্তর দিতে বিলম্ব হবার জন্য দুঃখিত আপু।চুলপড়ে যাওয়ার সমাধান খুজতে যাওয়ার আগে আসলে দেখা উচিত চুল পড়ছে কেন? বংশগতকারণ, মাথার ত্বক পরিষ্কার না রাখা, কমঘুম, শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের ঘাটতি থাকা, পানিরসমস্যা ইত্যাদি কারনে চুল পড়ে।তাই শ্যাম্পু বদলে ফেলা, বানতুন কন্ডিশনার ব্যবহার করা, বানতুন কোন হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করার চাইতে আগে নিজের জীবন যাত্রা প্রণালী পরিবর্তনের চেষ্টা করুন।পর্যাপ্ত ঘুমান, মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখুন, শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি পূর্ণ করুন।দিনে দুবার করে চুল আঁচড়াবেন, সপ্তাহে ২-৩বার চুলে অয়েল ম্যাসাজ দিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলবেন।মাথায় খুশকি থাকলে, বা চুলকালে নখ দিয়ে চুলকাবেন না।খুব জোরে চিরুনি দিয়ে মাথা আঁচড়াবেন না।এতে চুল পড়ে গেলে ওই জায়গার কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।তখন আর ওই কোষ থেকে নতুন চুল গজায় না।তাই মাথার ত্বক খুব জোরে জোরে নখ দিয়ে চুলকানো, চিরুনি দিয়ে জোরে আঁচড়ানো থেকে বিরত থাকুন।নতুন কোন হেয়ার প্রডাক্ট ব্যবহার করার চাইতে কিছুদিন ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্ন নিয়ে দেখতে পারেন।চুল পড়া বন্ধ করতে মাথায় কিছু ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা বলতে আমরা কেবল শ্যাম্পু করা আর কন্ডিশনার লাগানোকে বুঝি।মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা কিন্তু এর থেকেও অনেক বেশি কিছু।নিজের জন্য আলাদা চিরুনি এবং গামছা/ তোয়ালে ব্যবহার করুন।নিজের চিরুনি, গামছা/তোয়ালে, বালশের কভার সপ্তাহে ১ দিন ধুয়ে দিন।আপনার মাথার ত্বক তেলতেলে হলে, খুশকিথাকলে গরম পানি দিয়ে ধুবেন।ভিজা চুল আঁচড়াবেন না, ভিজা চুল নিয়ে শুবেন না।খুব জোরে জোরে মাথা ঘষে ভিজা চুল মুছবেন না।আলতো হাতে চেপে চেপে মাথার ত্বক থেকে পানি মুছে ফেলুন।নরম কাপড় দিয়ে মাথা মুছবেন।১। মেহেদিঃ আপনার প্রয়োজনমত মেহেদি বাটা নিয়ে তাতে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মাথায় দিন।৩০-৪৫মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।এই ভাবে সপ্তাহে ১-২বার করে ব্যবহার করুন।২। দূর্বা ঘাসঃ দূর্বা ঘাস ও কাঁচা বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।এছাড়া আপনার বাসার আশে পাশেই পাওয়া যাবে, বাংলাদেশেএই খুব সহজেই পাওয়া যায়।দূর্বা ঘাসের রস মাথায় দিয়ে ৩০-৪৫মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।সপ্তাহে ১-২বার ব্যবহার করুন।৩। পেঁয়াজ বাটা/ রসঃআধা কাপ পেঁয়াজ বাটা ১ টেবিল চামচ লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে আপনার মাথার ত্বকে লাগান।৩০-৪৫মিনিট রাখুন, এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন।সপ্তাহে ১-২বার ব্যবহার করুন।৪। লেবুর রস/ সাদাভিনেগার এবং গ্লিসারিনঃ লেবুর রস আর ভিনেগার, গ্লিসারিন- এরা সবাই খুব ভালো কন্ডিশনার।আপনার মাথার ত্বক যদি তেলতেলে হয় তবে লেবুর রস বা ভিনেগার- এই দুটির যে কোনটি আপনি কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।আর মাথার ত্বক যদি স্বাভাবিক বা শুষ্ক হয় তবে গ্লিসারিন ব্যবহার করতে পারেন।শ্যাম্পু করার পর এক মগ পানিতে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস/ভিনেগার/গ্লিসারিন মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।লেবুর রস ব্যবহার করলে তা ছেকে নিবেন।এরপর আবার পানি দিয়ে মাথা ধোয়ার দরকার নেই।৫। ভিটামিন ইঃ সপ্তাহে এক দিন নারিকেল তেল বা আপনি যে তেল ব্যবহার করেন তাতে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে মাথা হাল্কা ম্যাসাজ করবেন।ভিটামিন ই ক্যাপসুল খুব সহজেই আপনার বাসার সামনের ওষুধের দোকানেই পাবেন।মেহেদিএবং দূর্বা ঘাস আপনার চুলের গোড়া শক্ত করে, আরপেঁয়াজ বাটা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।এছাড়াও আপনি নারিকেল তেলে জবা ফুল/আমলকিইত্যাদি ফুটিয়ে বা রোদে শুকিয়ে সেই নারিকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন।এইসবব্যবহার করার পাশাপাশি প্রোটিন ও ভিটামিন ই যুক্ত খাবার বেশি করে খান।দরকার হলে ভিটামিন ই ক্যাপসুল সপ্তাহে ১-২টি করে খাবেন।কেনার আগে জিজ্ঞেস করে নিবেন, কারন খাওয়ার জন্য এবং চুলে দেওয়ার জন্য আলাদা ভিটামিন ই ক্যাপসুল পাওয়া যায়, আপনিচাইলে খাওয়ারটাই চুলে ব্যবহার করতে পারেন।চুল ভেজা থাকলে চুল বেধে রেখে ঘুমাবেন্না।আশাকরছি আপনার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।এরপরও যদি চুল পড়া না কমে তবে আপনি একজন ডার্মাটোলজিস্ট দেখাবেন।আর কোন সাহায্য লাগলে আমরা তো আছিই!আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি।আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন,রয়েছে পাশে সবসময়,মায়া আপা ।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও