ওজন কমে যাওয়া আসলে কোন রোগ নয়। রোগের উপসর্গ। তবে সবসময় জটিল রোগের কারণে ওজন কমে যায় তাও সঠিক নয়। খাদ্যাভ্যাসের ত্রুটির কারণেও ওজন কমতে পারে। আবার ১ বছরে যদি ১ কেজি ওজন কমে তাহলে তাকে বড় সমস্যা ভাবার কারণ নেই। ওজন কমানোর সক্রিয় প্রচেষ্টা, যেমন: খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম বা ওষুধ ছাড়াই যদি ছয় মাসের মধ্যে আপনার ওজন আগের চেয়ে পাঁচ শতাংশের বেশি কমে যায় বা হঠাৎ অন্তত ১০ পাউন্ডের বেশি কমে যায়, তবে অবশ্যই চিন্তিত হওয়া উচিত। কেননা এই আকস্মিক ওজন হ্রাস হতে পারে মারাত্মক কোনো লুকানো রোগের লক্ষণ।বিভিন্ন কারণে ওজন কমতে পারে। সচরাচর যেসব কারণে ওজন কমে তার মধ্যে আছে-- পেটের বিভিন্ন সমস্যা :খাদ্য হজমের গোলমালে ওজন কমে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। লক্ষ করুন, ইদানীং প্রায়ই হজমে গোলমাল হচ্ছে কি না, দীর্ঘদিন ডায়রিয়া বা আমাশয় ছিল কি না, মাঝেমধ্যে পেটে ব্যথা হয় কি না। বিপাকক্রিয়ার জটিলতা থাকলে ওজন হ্রাসের সঙ্গে নানা আনুষঙ্গিক উপসর্গ থাকবে, যেমন: চর্বিযুক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত মল, ভিটামিনের অভাবে মুখে জিবে ঘা, খসখসে ত্বক ইত্যাদি। অন্ত্রের কোনো সংক্রমণ, অগ্ন্যাশয়ে বা যকৃতের রোগে হজমে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা ও ওজন হ্রাস পায়।- ওষুধপত্র ও মানসিক সমস্যা :নানা রকম ওষুধের অপব্যবহার, নেশাদ্রব্য ও মাদকাসক্তির কারণে ওজন কমবে। মানসিক রোগ, বিষণ্নতায় ও অপরিকল্পিত খাদ্য নিয়ন্ত্রণেও ওজন কমে। সঠিক কারণটি চিহ্নিত করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। স্বাস্থ্য ভেঙে যাওয়াকে অবহেলা করবেন না। যক্ষ্মাকে ভুলবেন না আমাদের দেশে যক্ষ্মার ব্যাপক বিস্তার ও প্রকোপ বিবেচনায় আনবেন অবশ্যই। আর মনে রাখবেন, যক্ষ্মা ধনী-গরিব সবারই হয় এবং ফুসফুস ছাড়াও যেকোনো জায়গায় হতে পারে। তাই কেবল জ্বর-কাশিই এর প্রধান লক্ষণ নয়। লক্ষ্য করুন, দীর্ঘদিনের ঘুষঘুষে জ্বর, বিশেষ করে রাতে জ্বর ও ঘাম, অরুচি আছে কি না। সঙ্গে কাশি, কফের সঙ্গে রক্ত, পেটে গোলমাল, লসিকা গ্রন্থি ফুলে ওঠা, হাড়ে ব্যথা ইত্যাদিও খেয়াল করুন।- ডায়াবেটিস ও হরমোন রোগ :অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে ওজন কমে যেতে পারে। বেশি পিপাসা পাওয়া, বেশি প্রস্রাব হওয়াও ডায়াবেটিসের লক্ষণ। আবার থাইরয়েড হরমোনের আধিক্যে দ্রুত ওজন কমে, বুক ধড়ফড় করে, প্রচুর ঘাম হয়। মহিলাদের মাসিকে সমস্যা হয়। অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির হরমোন কমে গেলেও ওজন কমে, রক্তে লবণের তারতম্য ঘটে, রক্তচাপ কমে যায়।- ক্যানসার :যেকোনো ক্যানসারের প্রথম ও প্রধান লক্ষণ হতে পারে অকারণ ওজন হ্রাস। চল্লিশের পর ওজন হ্রাসের সঙ্গে অরুচি আর রক্তশূন্যতা থাকলে সাবধান হোন। পেট, যকৃৎ ও অন্ত্রের ক্যানসার দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন কারণে ওজন কমতে পারে। - এলকোহল গ্রহণ-যারা নিয়মিত এলকোহল গ্রহণ করেন তাদের ওজন কমতে থাকে।- ইটিং ডিজঅর্ডার। দু’রকমের আছে এনোরেক্সিয়া নার্ভোসা ও বুলিমিয়া নার্ভোসা। এনোরেক্সিয়া নার্ভোসাতে ওজন কমে যায়।যে কারণেই ওজন কমুক না কেন প্রথমে কারণ বের করতে হবে। তারপর চিকিত্সার ব্যবস্থা। এজন্য চিকিত্সক ভালভাবে ইতিহাস নেবেন ও শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করবেন। সুতরাং ডায়াগনসিসের আগেই ভিটামিন ও রুচিবর্ধক ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। অনেকে আবার স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খান। এর ফলে মোটা হওয়া যায় কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় ভুগে শেষ জীবনটা খুবই কষ্টে কাটে। ৬ মাসে যদি ৩ কেজির বেশী ওজন কমে তবে দ্রুত চিকিত্সকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। কারণ বের করে চিকিত্সা করলে অবশ্যই সমাধান সম্ভব।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও