প্রিয় গ্রাহক আপনার ব্যক্তিগত অনুভূতি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। আপনি বলেছেন, আপনার বুয়েটে পড়ার ইচ্ছা রয়েছে কিন্তু physics এবং chemistry এই দুইটি বিষয় আপনার বুঝতে কষ্ট হচ্ছে এবং পরীক্ষায় কম পাচ্ছেন বলে আপনার ভবিষ্যত লক্ষ্যপূরণে আপনি কতটুকু সফল হতে পারবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।প্রিয় গ্রাহক, আপনি কেবল স্কুলে পড়ছেন অথচ এই বয়সেই আপনি আপনার বাবা মা'র স্ট্রাগল এবং পড়াশোনার বর্তমান অবস্থা নিয়ে ভাবছেন, চিন্তা করছেন এটি খুবই দায়িত্ত্ববান মানুষের আচরণ। আপনার এই সচেতনার জন্য  আপনাকে সাধুবাদ। এটি আপনার চরিত্রের একটি পজেটিভ দিক।আপনার হাতে এখনো যথেষ্ট সময় রয়েছে। আপনি বলেছেন, math করতে আপনার ভালো লাগে। এটি খুবই চমৎকার বিষয়। ssc তে physics এও নিশ্চই কিছু অঙ্ক করতে হয়, তাই না? সেগুলো নিশ্চই আপনার জন্য সহজ হবে। physics এবং chemistryর অধিকাংশ অধ্যায়গুলি মূলত বুঝে বুঝে পড়বার বিষয়। আপনার cemistry না পারা এবং physics এ কম নম্বর পাওয়ার সাথে সম্ভবত বিষয়গুলি ঠিক মত বুঝে বুঝে না পড়ার একটি সম্পর্ক রয়েছে। আপনি একটি কাজ করুন, আপনি একটি রুটিন তৈরি করুন। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় (ধরুন দুই ঘন্টা এবং সকালের দিকে বা যখন আপনি চনমনে থাকেন) আপনি phymistry এবং chemistryর পেছনে দিন। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিত পড়তে বসলে আপনার মধ্যে একটি অভ্যাস তৈরি হবে, এভাবে প্রতিদিন মাত্র দুই ঘন্টা করে পড়লে ভেবে দেখুন এক মাসে ত্রিশ দিনে প্রায় ষাট ঘন্টা আপনি পাচ্ছেন। আপনি একজন মনোযোগী শিক্ষার্থী, বেসিক জিনিসগুলি বুঝতে আপনার বেশি কষ্ট হবে না আশা করি। পুরনো বছরের প্রশ্নগুলি সলভ করতে পারেন তাহলে আপনার দূর্বলতাগুলি সহজেই ধরতে পারবেন, প্রয়োজন বোধ করলে ভালো কোন গাইড বইয়ের সাজেশন ফলো করতে পারেন। তাহলে কম সময়ে পড়াটা গুছিয়ে আনতে পারেন। chemistryর পর্যায় সারণী, জৈব যৌগ বা রাসায়নিক যৌগ কিভাবে গঠিত হয় এগুলো মনে রাখা একটু কঠিনই হয়ত কিন্তু আপনি যদি একটু মজা করে কয়েকটি সুত্র বা ছড়া বানিয়ে বা গানের সুর বসিয়ে দিনে কয়েকবার recall করে তারপর কোনটি miss হয়েছে তা check করে করে পড়েন তাহলে সহজে মনে রাখতে পারবেন।প্রিয় গ্রাহক, আপনার উচিত হবে বর্তমানকে বেশি প্রাধান্য দেয়া। যেমন ধরুন, আপনি সিড়ি বেয়ে একটি বিল্ডিং এর দো তালা থেকে পাঁচ তালায় যেতে চান। আপনাকে প্রথমে দো তালা থেকে তিন তলা, তারপর চার তলা এবং চার তলা পাড় হয়ে পাঁচ তলায় যেতে হবে এবং লাফিয়ে লাফিয়ে গেলে ব্যথা পাওয়া ও পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই না? অর্থাৎ আপনার এখন উচিত হবে আগে SSC তে ভালো Result করার দিকে বেশি ফোকাসড থাকা তারপর HSC, তারপর ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি। না বুঝে মুখস্ত না করে বুঝে বুঝে এবং মনে মনে কল্পনা করে পড়ার চেষ্টা করুন এবং physics, chemistryর একেবারে বেসিক বিষয়গুলি সম্পর্কে clear ধারণা তৈরি করুন। আমরা অনেকেই কোন subject এর বেসিক জিনিসগুলি সম্পর্কে কম জানি বলে পরের অধ্যায়গুলি না বা কম বুঝি অথবা পরীক্ষায় খারাপ করি। প্রিয় গ্রাহক, কোন কিছু পড়ার পর চোখ বন্ধ করে মনের ভেতর সেটির একটি ইমেজ কল্পনা করুন তারপর যা পড়েছেন তা recall করার চেষ্টা করুন। ধরে দিন physicsর কঠিন বিষয় নিয়ে আপনি একটি ক্লাস নিচ্ছেন আর আপনাকে একটি ছাত্র কোন প্রশ্ন করেছে, আপনি তার উত্তরটি সহজে বুঝিয়ে দিচ্ছেন এভাবে মনে মনে যা পড়েছেন সেটি recall করার প্র্যাকটিস করতে পারেন। যা পড়বেন পরে সেটি না দেখে লেখার চেষ্টা করবেন তাহলে নিজের দূর্বলতাগুলি নিজেই বুঝতে পারবেন। সাধারণত মানুষ বিশ মিনিটের বেশি কোন বিষয় নিয়ে একটানা মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না তাই, যেগুলো পড়তে কঠিন এবং বিরক্ত লাগতে বিশ মিনিট করে সেগুলো পড়ে পাঁচ মিনিটের ব্রেক নিতে পারেন তবে ঐ বিশ মিনিট অন্যকিছু না করে পুরোটা ফোকাস পড়ার প্রতি দিলে খুব ভালো। এভাবে পুরো পড়াটাকে সময় এবং সিলেবাস অনুযায়ী ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে পড়লে ফোকাস ধরে রাখতে সুবিধা হবে। অতিরিক্ত চাপ নিবেন না। যে বিষয়গুলি বুঝতে কষ্ট হয় চাইলে আপনি ইন্টারনেট বা ইউটিউব থেকে সেগুলোর টিউটোরিয়াল দেখে বুঝে নিতে পারেন সহজেই। আপনার ভেতর ভালো করার স্পৃহা রয়েছে; এটি অনেক বড় একটি বিষয়। এই স্পৃহা এবং মানসিকতাকে কাজে লাগান। নিজেকে তু্চ্ছ ভেবে মন খারাপ করলে উল্টো আপনিই আরো পিছিয়ে পড়বেন। নিজের সক্ষমতাকে কাজে লাগান। আর বুয়েটে চান্স পাওয়ার লক্ষ্য থাকা খুবই চমৎকার একটা ব্যাপার তাই বলে বুয়েটে চান্স পাওয়াটাই নিশ্চই সব নয়? বুয়েটে না পড়েও কিন্তু বহু মানুষ তাদের প্রতিভা, কর্মদক্ষতা এবং সক্ষমতার স্বাক্ষর যার যার কর্মক্ষেত্রে এবং জীবনে রাখছে, তাই না ?আপনার সামনে এখনো অনেক সময় আছে বেশি দুচিন্তা করবেন না। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা করুন। মন ভালো থাকে এরকম কাজগুলিকে থামিয়ে দিবেন না। ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করুন। পড়াশোনায় ভালো করতে চাইলে গোছানো প্ল্যান এবং রুটিন করে নিয়মিত পড়াশোনা করাটাই আসল। প্রয়োজনে স্কুলের টিচার, সিনিয়র কোন ভাই বা আপুর সাহায্য নিন। -মায়া আপা

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও