প্রেগন্যান্সির সময় ওজন কমাবার চিন্তা করা উচিত না।   গর্ভাবস্থায় আপানার ওজন কতটুকু বাড়বে সেটা নির্ভর করছে, গর্ভধারণের আগে আপনার ওজন কেমন ছিল তার উপর। ব্যক্তি বিশেষে এই ওজন বৃদ্ধির পরিমান কম বেশি হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ১০ থেকে ১২.৫ কেজির মধ্যে থাকে। গর্ভাবস্থায় যতটুকু ওজন বাড়ে, তার সিংহ ভাগই বাড়ে গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহ পর থেকে। এর কারন হলো, এ সময়টায় গর্ভস্থ শিশুর ওজন বাড়তে থাকে, পাশাপাশি আপনার শরীরও অতিরিক্ত চর্বি জমাতে থাকে। শিশুর জন্মের পর তাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রস্তুতি হিসাবে শরীর এই কাজটি করে থাকে। গর্ভাবস্থায় মাত্রার চেয়ে বেশি ওজন বেড়ে যাওয়া বা ঠিকমত ওজন না বাড়া, দুটিই আপানর এবং আপনার গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।আপনার ওজন কতটুকু বাড়া উচিতপ্রথম তিন মাস – প্রতি মাসে গড়ে আধা কেজির চেয়ে কিছু বেশি করে তিন মাসে মোট ২ কেজিদ্বিতীয় তিন মাস – প্রতি সপ্তাহে গড়ে আধা কেজি করে, তিন মাসে মোট ৫ থেকে ৭ কেজিশেষ তিন মাস - প্রতি সপ্তাহে গড়ে আধা কেজির চেয়ে কিছু কম করে তিন মাসে মোট ৫ কেজি(উপরের হিসাবটি একটি গড়পড়তা হিসাব। গর্ভাবস্থায় আপানার ওজন যদি এই নিয়মে না বাড়ে, উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নাই। ওজন বাড়ার বিষয়টা হিসাব করা হয়, আপনি পরিমানমত সুষম খাবার খাচ্ছেন কিনা তা বুঝার জন্য। ঠিকমত খেতে পারলে এই নিয়ে চিন্তার কিছু নাই)গর্ভধারণের পূর্বে আপানার ‘শরীরের ভরের শুচক’ বা BMI কত ছিল, সেই অনুযায়ী আপনার ওজন বাড়ানো উচিত যেমন :যদি গর্ভধারণের পূর্বে আপানার ‘শরীরের ভরের শুচক’ বা BMI ২৬ থাকে, তবে আপানর লক্ষ্য থাকবে ওজন ৭ থেকে ১১.৫ কেজির মধ্যে বাড়ানোযদি গর্ভধারণের পূর্বে আপানার ‘শরীরের ভরের শুচক’ বা BMI ২০ থেকে ২৬ এর মধ্যে থাকে, তবে আপানর লক্ষ্য থাকবে ওজন ১১.৫ থেকে ১৬ কেজির মধ্যে বাড়ানোযদি গর্ভধারণের পূর্বে আপানার ‘শরীরের ভরের শুচক’ বা BMI ২০ এর কম থাকে, তবে আপানর লক্ষ্য থাকবে ওজন ১২.৫ থেকে ১৮ কেজির মধ্যে বাড়ানোযে সমস্থ মেয়েদের ‘শরীরের ভরের শুচক’ বা BMI ৩০ এর বেশি, তারা যদি তাদের শরীরের ওজন ৫% থেকে ১০% কমায় তবে তাদের শারীরিক সুস্থতার লক্ষণীয় উন্নতি হবে। ওজন আরো কমিয়ে BMI ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ এর মধ্যে রাখাটা হলো আদর্শ।‘স্বাস্থ্যসম্মত ওজন পরিমাপের ক্যালকুলেটর’ (healthy weight calculator) ব্যবহার করে আপনার ‘শরীরের ভরের শুচক’ বা BMI জেনে নিন।গর্ভাবস্থায় ওজন অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়াগর্ভাবস্থায় আপনার ওজন খুব বেশি বেড়ে গেলে আপনার স্বাস্থ্যর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, আপানার রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। তবে এটা মনে রাখতে হবে, গর্ভাবস্থায় কোন অবস্থাতেই কম খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করা উচিত না। এতে গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি হতে পারে। যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো আপনি স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন কিনা।গর্ভাবস্থায় ওজন অতিরিক্ত বেড়ে গেলে যে সমস্থ জটিলতা দেখা দিতে পারে -গর্ভকালীন ডায়বেটিস – রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ থাকার কারনে গর্ভকালীন ডায়বেটিস দেখা দিতে পারে, যার কারনে শিশুর আকার বড় হতে পারেপ্রি-এক্লামসিয়া - অতিরিক্ত ওজনের কারনে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে যা প্রি-এক্লামসিয়ার প্রথম চিহ্ন। যদিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এতে কোন বিপদ হয় না, তবে কখন কখন এটা বিপদজনক হতে পারেগর্ভাবস্থায় ওজন কম বাড়াগর্ভাবস্থায় ওজন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম বাড়লে, গর্ভস্থ শিশু সময়ের আগে প্রসব হয়ে যেতে পারে এবং শিশু আকারে ছোট ও কম ওজনের হতে পারে। শিশু কম ওজনের হওয়ার অর্থ হলো শিশুর শরীরে প্রয়োজনীয় চর্বি জমা হতে পারেনি। যদি গর্ভাবস্থায় আপানার পুষ্টি ঠিকমত না হয় বা গর্ভধারণের আগেই আপানর ওজন কম থাকে তবে এমনটা হতে পারে।তবে কিছু মেয়েরা প্রাকৃতিক ভাবেই ছিপছিপে স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে থাকে, গর্ভাবস্থায়ও তাদের ওজন খুব বেশি বাড়ে না কিন্তু সুস্থ স্বাভাবিক সন্তানের জন্ম দেয়।গর্ভাবস্থায় খাদ্যাভ্যাসগর্ভাবস্থায় কতটুকু ওজন বাড়বে সেটা ব্যাক্তি ভেদে কম বেশি হয়। গর্ভাবস্থায় যে ওজনটুকু বাড়ে তার কিছু অংশ হলো চর্বি, যা গর্ভকালীন সময়ে মেয়েদের শরীরে জমা হয়। বাকী টুকু হলো গর্ভস্থ শিশু, গর্ভফুল, বিশেষ তরল যার মধ্যে শিশু ভেসে থাকে এবং মায়ের শরীরে যে পরিমান রক্ত ও অন্যান্য তরল বেড়ে থাকে- তাদের ওজন।গর্ভাবস্থায় কম খেয়ে ওজন কমানো উচিত না, এতে গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি হতে পারেআবার দুইজনের খাবারও খাওয়া উচিত না, পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধও খাওয়া উচিত না। বাস্তবতা হলো প্রথম ৬ মাস অতিরিক্ত ক্যালোরির প্রয়োজন হয় না, শুধু শেষ ৩ মাস দৈনিক ২০০ ক্যালোরি অতিরিক্ত প্রয়োজন হয়

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও