দাঁতের যত্নবিধি সাধারন স্বাস্থ্য

মুখের ঘা বা ওরাল থ্রাশ

ওরাল থ্রাশ হচ্ছে ফাঙ্গাসের সংক্রমণে হওয়া এক ধরনের মুখের ঘা। এটি ছোঁয়াচে নয় এবং সাধারণত ফাঙ্গাস প্রতিরোধক ওষুধ দিয়ে এর চিকিৎসা করা যায়। এটিকে ক্যান্ডিডোসিস (candidosis) বা ক্যান্ডিডায়াসিস (candiasis)-ও বলে, কারন এটি ক্যান্ডিডা নামক এক ধরনের ছত্রাকের জন্য হয়।


ওরাল থ্রাশের বিভিন্ন লক্ষণঃ

  • মুখের ভেতরে সাদা সাদা অংশ তৈরি হয়, যেগুলো মুছে ফেললে লাল হয়ে যায় এবং সামান্য রক্তপাত হয়।
  •  মুখের স্বাদ চলে যায় বা বিস্বাদ হয়ে থাকে।
  •  মুখ এবং গলার ভেতর লালচে হয়ে থাকে।
  •  ঠোঁটের কোনা ফেটে যায়
  •  মুখে ব্যাথা বা জ্বালা-পোড়া হয়।
  • কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওরাল থ্রাশ হলে কোন কিছু খেতে বা পান করতে অসুবিধা হয়।


কখন ডাক্তার দেখাবেন
ওরাল থ্রাশের লক্ষণ দেখা দিলে ডক্তার দেখান। চিকিৎসা না করালে এর লক্ষণগুলো রয়ে যায় এবং আপনার মুখে অস্বস্তিকর অনুভূতি তৈরি হয়। এটি মারাত্মক আকারে দেখা দিলে যদি চিকিৎসা না করান তাহলে তা শরীরের বিভিন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে যা বিপদজনক হতে পারে। ডাক্তার সাধারণত আপনার মুখ পরীক্ষা করেই এর চিকিতসা করতে পারেন। কখনো কখনো তিনি আপনাকে ওরাল থ্রাশের সাথে সম্পর্ক রয়েছে এমন অসুখ, যেমন ডায়বেটিস এবং পুষ্টিহীনতা আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে রক্ত পরীক্ষা করতে দিতে পারেন।

ওরাল থ্রাশ কেন হয়?

বেশিরভাগ মানুষের মুখ ও পরিপাকতন্ত্রে ক্যান্ডিডা ফাঙ্গাসটি অল্প পরিমাণে থাকে। এগুলো সাধারণত কোন সমস্যা করে না, তবে এর পরিমাণ বেড়ে গেলে ওরাল থ্রাশ হতে পারে। এটি হওয়ার কয়েকটা কারন রয়েছেঃ

  • অনেক দিন ধরে বা উচ্চ মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করলে
  •  অ্যাজমার জন্য ইনহেলারে কর্টিকস্টেরয়েড (corticosteroid medication) গ্রহণ করলে
  •  নকল দাঁত লাগালে, বিশেষ করে যদি তা ভালভাবে না ফিট করে
  •  মুখ পরিষ্কার না রাখলে
  •  কোন অসুখের জন্য বা ওষুধ খাওয়ার ফলে মুখ শুকিয়ে থাকলে
  •  ধূমপান করলে
  •  ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য রেডিওথেরাপি বা কেমথেরাপি নিলে

নবজাতক, ছোট শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তি ওরাল থ্রাশ হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে বেশি থাকেন। এছাড়াও ডায়বেটিস হলে, আয়রনের পরিমাণ বা ভিটামিন B12 কমে গেলে, থায়রয়েড অল্প সক্রিয় থাকলে (হায়পোথায়রয়েডিজম বা hypothyroidism) এবং HIV হলেও এর সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

যেহেতু বেশিরভাগ মানুষেরই মুখে ক্যান্ডিডা ফাঙ্গাসটি রয়েছে, তাই ওরাল থ্রাশ সংক্রামক নয়। অর্থাৎ এটি একজনের কাছ থেকে আরেক জনের কাছে যেতে পারে না।

ওরাল থ্রাশের চিকিৎসা
সাধারণত ফাঙ্গাস প্রতিরোধক ওষুধ দিয়ে সফলভাবে ওরাল থ্রাশের চিকিৎসা করা যায়। এগুলো মুখের ভিতরে লাগানোর মত জেল বা তরল ওষুধ হতে পারে (টপিকাল মেডিকেশন বা topical medication), তবে মাঝে মধ্যে ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল ব্যবহার করা হতে পারে। টপিকাল মেডিকেশন দিনে কয়েকবার করে ৭ থেকে ১৪ দিন ব্যবহার করতে হতে পারে। ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল দিনে একটা করে খেতে হয়। এই ওষুধগুলোর সাধারণত কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না, তবে কখনো কখনো বমি ভাব, বমি, পেট ফুলে যাওয়া, পেট ব্যাথা বা ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে।

যদি অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েডের কারনে আপনার ওরাল থ্রাশ হয়েছে বলে মনে হয়, তাহলে সেই ওষুধটি বা সেটি গ্রহণ করার পদ্ধতি বদলে দিতে হতে পারে বা তার পরিমাণ কমিয়ে দেয়া হতে পারে।


ওরাল থ্রাশ প্রতিরোধ
ওরাল থ্রাশ প্রতিরোধ করতে আপনি কয়েকটি জিনিস করতে পারেনঃ

  • খাওয়ার পর ভাল করে কুলকুচি করুন
  •  ফ্লুওরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দিনে দু’বার দাঁত মাজুন এবং ফ্লসিং (flossing) ব্যবহার করুন
  •  আপনার দাঁত না থাকলেও অর্থাৎ নকল দাঁত লাগিয়ে রাখলেও নিয়মিত ডেন্টিস্ট দিয়ে মুখ পরীক্ষা করান
  •  নকল দাঁত রোজ রাতে খুলে নিয়ে সেটি পেস্ট অথবা সাবান এবং পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন এবং পানি ও নকল দাঁত পরিষ্কার ট্যাবলেট (denture-cleaning tablets)-এর দ্রবনে ডুবিয়ে রাখুন।
  •  আপনার যদি দাঁত না থাকে বা অল্প কয়েকটি থাকে তাহলেও রোজ দু’বার নরম একটি ব্রাশ দিয়ে মাড়ি, জিহ্বা এবং মুখের ভেতরের অংশ পরিষ্কার করুন।
  •  আপনার নকল দাঁত ঠিক মত না লাগলে আপনার ডেন্টিস্টের কাছে যান
  •  আপনি ধূমপায়ী হলে ধূমপান বন্ধ করুন
  •  কর্টিকস্টেরয়েড ইনহেলার ব্যবহার করার পর কুলকুচি করুন। ইনহেলারের সাথে স্পেসার (spacer) নামক একধরনের প্লাস্টিকের সিলিন্ডার লাগিয়ে নিতে পারেন
  • ডায়বেটিসের মত কোন সমস্যা থাকলে তা যেন নিয়ন্ত্রনে থাকে সেটি নিশ্চিত করুন।
  • ওরাল থ্রাশের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এমন কোন সমস্যা থাকলে বা ওষুধ গ্রহণ করলে আপনার ডাক্তার আপনাকে
  • ফাঙ্গাস প্রতিরোধক ওষুধ দিতে পারেন যেন অসুখটি আপনার না হয়।

 

মায়া বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে মায়া এন্ড্রয়েড এপ ডাউনলোড করুন এখান থেকে: https://bit.ly/2VVSeZa

About the author

Maya Expert Team