ট্রমা পরবর্তী সমস্যাজনিত লক্ষণ মনোসামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য

দুর্ঘটনা পরবর্তী মানসিক চাপ জনিত সমস্যার কারণ

( Post Traumatic Stress Disorder-PTSD)

কোন দূর্ঘটনার সম্মুখীন হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অথবা কোন দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষ্য করার পরে PTSD দেখা দিতে পারে। নিম্নলিখিত কারণগুলো সম্ভাব্য অনেক কারণের মধ্যে কয়েকটিঃ

  • প্রাকৃতিক (বন্যা,ঘুর্ণিঝড়,সুনামি) বা মানব-সৃষ্ট (বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, ভবন ধ্বস বা রাজনৈতিক সহিংসতার মতো ঘটনা)দুর্যোগ থেকে বেঁচে ফেরা,
  • ব্যক্তিগত সহিংস নিপীড়ন যেমন-যৌন নির্যাতন,ছিনতাই বা অপহরণ,
  • দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নির্যাতন,সহিংসতা বা গুরুতর অবহেলার শিকার হলে
  • নৃশংস মৃত্যু প্রত্যক্ষ্য করা,
  • সামরিক যুদ্ধ
  • বন্দি থাকা
  • সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলে

বলা হয়ে থাকে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হওয়া প্রায় প্রতি ৩ জনের মধ্যে ১জনের ক্ষেত্রে PTSD দেখা যায়। নির্দিষ্ট কিছু ত্বত্ত থাকলেও কেন PTSD হয় তার সঠিক কারণটি জানা যায় না। নির্দিষ্ট কিছু বিষয় এর সাথে জড়িত বলে মনে করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেঃ আগে থেকেই হতাশায় ভোগা, উদ্বেগ, পরিবারের সদস্যদের সমর্থন না পাওয়া বা এমনকি কখনো কখনো বংশগতিও এর সাথে যুক্ত থাকতে পারে।

নিচে ত্বত্তগুলো ব্যখ্যা করা হলোঃ

১) টিকে থাকার কৌশলঃ

মনে করা হয় যে, PTSD-এর উপসর্গগুলো হলো ব্যক্তিকে যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতির সাথে মোকাবেলা করার এবং ভবিষ্যতে এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তির জন্য নিজেকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে সাহায্য করার উপায়। উদাহরণস্বরুপ- “স্মৃতিচারণা” ব্যক্তিকে ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে স্মরণ করতে সাহায্য করে যাতে করে যদি ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা আবার ঘটে তাহলে তার জন্য আরও ভালভাবে প্রস্তুত থাকা যায় এবং “অতি-উত্তেজনা”র অবস্থাটি ব্যক্তিকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে সাহায্য করে বলে ধারণা করা হয়।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এইসব তথাকথিত “মোকাবেলার কৌশল”গুলো ব্যক্তিকে ঘটনাটি মেনে নিতে ও ভুলে যেতে সচেষ্ট হওয়ার হওয়ার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে।

২) অ্যাড্রেনালিন (adrenaline)-এর উচ্চ মাত্রাঃ

বিপদের সম্মুখীন হলে শরীর অ্যাড্রেনালিন (adrenaline) হরমোন তৈরী করে যা শরীরে “লড়াই করো নতুবা পালাও” জাতীয় প্রতিক্রিয়া শুরু করে যা আঘাতের অনুভুতি এবং চেতনাবোধকে ভোঁতা করতে সাহায্য করে।

ধারণা করা হয় যে PTSD যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এই হরমোন উঁচু মাত্রায় থাকে কেননা এমনকি যেখানে কোন বিপদ নেই সেখানেও এটি নিঃসৃত হয়। যার ফলে, লোকেরা আবেগশুণ্যতা ও অতিসক্রিয়তার মতো সমস্যায় ভোগে।

৩) মস্তিষ্কে পরিবর্তনঃ

গবেষণায় দেখা গেছে যে PTSDযুক্ত ব্যক্তিদের হিপ্পোক্যাম্পাস (hippocampus), অর্থাৎ মস্তিষ্কের যে অংশটি আবেগের প্রক্রিয়াকরণের সাথে সংশ্লিষ্ট তাতে অস্বাভাবিকতা থাকে। মস্তিষ্কের স্ক্যানের মাধ্যমে এটি দেখা গেছে যে, এইসব ব্যক্তিদের হিপ্পোক্যাম্পাস আকারে তুলনামূলকভাবে ছোট হয়ে থাকে। এই কমজোর হিপ্পোক্যাম্পাস অতীত স্মরণ করতে ও স্মৃতিকে যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত হতে বাধা দিতে পারে, ফলে ভুক্তভোগীদের মধ্যে যে উদ্বিগ্নতার সৃষ্টি হয় তা সময়ের সাথে সাথে হ্রাস পায় না।

About the author

Maya Expert Team