মনোসামাজিক

রোজা রেখে বাচ্চাদের সামলাবেন কী করে

শান্তার সঙ্গে পাঁচ বছর পর দেখা হলেও ওকে দেখে আমার ভাল লাগেনি। আমি সব সময় ভাবার চেষ্টা করতাম শান্তা আগের মত হইচই করে বেড়ায় কি না। কিন্তু দেখলাম অনেক কিছু বদলে গেছে। ওর চোখের কোনে কালি পড়েছে। দেখে ক্লান্ত মনে হচ্ছিল আর সারাক্ষণ বাচ্চা দুটোর (৪ এবং ৬ বছর বয়সি) সাথে চিৎকার করে কথা বলছিল।

যখন আমি ওর সাথে কথা বললাম তখন ও জানাল রোজা রেখে বাচ্চা দুটোকে সামলাতে ওর কতটা বেগ পেতে হচ্ছিল। বাচ্চাদেরকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া, সেখান থেকে নিয়ে আসা, খাওয়ানো, ইফতার তৈরি, কাপড় ধোয়া, বাসন মাজা ইত্যাদি কাজের লিস্ট শেষই হতে চাইছিল না।

তাই আমি রোজা রেখেও মায়েরা কীভাবে বাচ্চাকে হাসিখুশি এবং স্বাস্থ্যবান রাখতে পারেন তার কয়েকটি উপায় ভেবে বের করেছি।

ভাল করে ঘুমিয়ে নিন: ঘুম জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রমজানে অনেক কিছু করতে হয়, যার ফলে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে। আপনাকে ইফতার পার্টিতে যাওয়া, নামাজ পড়া, সেহরি খাওয়া, খাবার বানানো ইত্যাদি কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। নিজের মাকে দেখে বুঝতে পারি সেহরির জন্য উঠতে কতটা কষ্ট হয়। এসব কিছুতে আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং চট করে রেগে যান। এ কারণে যতটা সম্ভব ঘুমিয়ে নিন। পারলে দুপুরে বেলা কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিন, যাতে বাকি দিনটা ধকল সামলাতে পারেন।

কাজের একটি তালিকা বানিয়ে নিন: আপনার সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করুন। ইফতারের একদম আগ মুহূর্তে ইফতার তৈরি করতে বসবেন না। এমনটা হলে মনে হতে থাকবে, ইফতার বানানোর সময় বোধ হয় শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং এর ঝাল আপনি হয়ত বাচ্চার উপর ঝাড়বেন। কাজের জন্য এবং বাচ্চার জন্য আলাদা আলাদা সময় ভাগ করে রাখুন।

নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানুন: শান্ত থাকার চেষ্টা করুন এবং ঘর ঝাড়ামোছা বা আলমারি গোছানোর মত কাজে হাত দেয়া থেকে বিরত থাকুন। আপনার জানা উচিত যে, আপানার কিছু সীমাবদ্ধতা ও শক্তির ঘাটতি রয়েছে। এ সময় বাড়তি কাজ থেকে দূরে থাকাই ভাল। চাপের মধ্যে জীবন কাটালে আরও অধৈর্য হয়ে পড়বেন।

বাচ্চাদের সঙ্গে আনন্দ করে সময় কাটান: বাচ্চাদের প্রিয় কোন কাজ যেমন গল্পের বই পড়ে শোনানো, ছবি আঁকা বা কোন জিনিস বানানোর মত কাজের জন্য দিনের কিছুটা সময় আলাদা করে রাখুন। এতে বাচ্চাকে ব্যস্ত করে রাখতে পারলে সে আপনার মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা কম করবে।

ইফতারে বাচ্চার জন্য মজাদার কিছু বানানোর চেষ্টা করুন: আমার বোনকে আমি এই বুদ্ধিটা কাজে লাগাতে দেখেছি। ও ইফতারিতে আমার ভাগ্নির প্রিয় সব খাবার তৈরি করে। এ সময় আমার ভাগ্নি ইফতার তৈরির সময় তার মাকে বিরক্ত না করার চেষ্টা করে। তার মা যখন তার জন্য চকলেট পুডিং বা স্প্যাগেত্তি বানায় তখন সে নিজে নিজে খেলা করে বা বই পড়ে।

সব শেষে নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখতে ভুলবেন না: নিজেকে চাঙ্গা করে তুলতে আপনার নিজের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। এতে আপনার উপরে থাকা চাপ ও বোঝা কমানো আপনার জন্য সহজ হবে। এসময় খুশিমত কোরান শরিফ পড়া, নামাজ পড়া, রান্নার অনুষ্ঠান বা টিভি সিরিয়াল দেখা, ঘুমানো বা ফোনে বন্ধুদের সাথে কথা বলার মত যে কোন কিছু করতে পারেন। নিজের জন্য সময় রাখতে কোন সঙ্কোচ বোধ করবেন না, কারণ এটি আপনার পাওনা। সব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে লম্বা একটা নিঃশ্বাস নিন এবং শুধু আরাম করুন।

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment