আইনি নারীর প্রতি সহিংসতা

স্টকিং

বারবার কাওকে অনুসরণ করা, উত্যক্ত করা বা ভয় দেখানোকে স্টকিং বলা হয়। একজন স্টকার আপনার পরিচিত হতে পারে (যেমন আপনার সাবেক স্বামী, আত্মীয় বা বন্ধু) আবার অপরিচিত ও হতে পারে। মনে রাখবেন, স্টকিং যৌন নির্যাতন হিসেবে ধরা হয়।

২৬ জানুয়ারি ২০১১। বাংলাদেশ হাইকোর্ট থেকে পাশ হয় মহিলা ও শিশু দমন প্রতিরোধ অ্যাক্ট। এখানে নির্দেশ আসে মেয়েদের স্টকিং/লুকিয়ে অনুসরণ করাকে যৌন নির্যাতন হিসেবেই গণ্য করতে হবে। ইভ টিজিং এখন বাতিল একটি শব্দ। এর মাধ্যমে সরকার কে আরও নির্দেশ দেওয়া হয় যে যেকোনো ধরনের হয়রানি (এসএমএস, এমএমএস, ইমেল বা ফোন সহ) যৌন হয়রানি হিসেবে গণ্য করা হবে। এই অ্যাক্ট অনুযায়ী, যৌন হয়রানির শাস্তি সর্বনিম্ন ৩ থেকে সর্বচ্চ ১০ বছর হতে পারে।

কোর্টের আরও নির্দেশ আছে যে প্রত্যেক থানায় একটি স্পেশাল সেল থাকবে যাদের কাজ হবে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কাজ করা এবং এ সংক্রান্ত তথ্য জেলা উন্নয়ন কমিটি তে প্রত্যেক মাসে পাঠানো। সংবিধানের ধারা ১১১ অনুযায়ী হয়রানির শিকার মহিলা/মেয়ে এবং সাক্ষী , দুজনেরই আইনি নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে।

লুকিয়ে অনুসরণ সাধারণত সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হুমকি, যোগাযোগ করা বা ভয় দেখানো, যা একটি উত্ত্যক্তকারীর এবং তার শিকার কোন মহিলার মধ্যে কোন অবাঞ্ছিত যোগাযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়.

কিভাবে বুঝবেন কেও আপনাকে লুকিয়ে অনুসরণ করছে কি না?

• বারংবার অনুসরণ বা আপনার উপর গোয়েন্দাগিরি

• বারংবার আপনার বাড়িতে এবং / অথবা কর্মস্থলে ফোন করা

• বারংবার অবাঞ্ছিত ই-মেইল, চিঠিপত্র, ফ্যাক্স পাঠানো

• আপনাকে অবাঞ্ছিত উপহার সামগ্রী পাঠানো

• ভাংচুর বা আপনার সম্পত্তির ক্ষতি করা

• আপনাকে বা আপনার কাছের কাওকে ভয় দেখানো বা শাসানো

• কোন কারণ ছাড়াই আপনার আশে পাশে ঘুরঘুর করা

যদি আপনি মনে করেন কেও আপনাকে অনুসরণ করছে, বা হয়রানি করছে, বিভিন্ন সংস্থা এবং হটলাইন আছে আপনাকে সাহায্য করার জন্য। আরও জানতে পড়ুন।

About the author

Maya Expert Team