আইনি

আপনি কি জানেন একজন নারী শ্রমিকের কি কি আইনগত অধিকার রয়েছে?

আপনি কি জানেন একজন নারী শ্রমিকের কি কি আইনগত অধিকার রয়েছে?

১) বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ – এর ১০৯ ধারা অনুযায়ী, নারী শ্রমিককে তার বিনা অনুমতিতে কোন প্রতিষ্ঠানে রাত ১০ টা থেকে ভোর ৬ টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কাজ করতে দেয়া যাবে না। তবে শ্রমিকের সম্মতি থাকলে কোন বাধা নেই। সম্মতি ছাড়া নারী শ্রমিকদের রাত ১০ টার পর কাজ করানো সম্পূর্ণ বেআইনি।

২) বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ – এর ৯৪ ধারা অনুযায়ী, ৪০ বা তার চেয়ে বেশি নারী শ্রমিক নিযুক্ত আছেন, এমন যেকোন প্রতিষ্ঠানে নারী শ্রমিকদের অনধিক ৬ বছর বয়সী সন্তানদের জন্য এক বা একাধিক শিশুকক্ষের ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে যাতে প্রয়োজনে নারী শ্রমিক তার সন্তানকে বুকের দুধ পান করাতে পারেন এবং তার শিশু যাতে মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত না হয়।

৩) বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ – এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী, অন্তঃসত্ত্বা শ্রমিকের সন্তান প্রসবের আগে ৮ সপ্তাহ এবং প্রসবের পরে ৮ সপ্তাহ, মোট ১৬ সপ্তাহ পূর্ণ মজুরিতে ছুটি পাবার অধিকার রাখেন। মালিক এই ছুটি দিতে বাধ্য।

৪) বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ – এর ২৮৬(১) ধারা অনুযায়ী, প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি বা মালিক ৫০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দন্ডিত হবেন। এই ধরনের অর্থ দন্ড আরোপ করা হলে আদালত রায় প্রদানকালে আদায়কৃত দন্ডের অর্থ সম্পূর্ণ বা আংশিক সংশ্লিষ্ট নারী শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ হিসাবে দেয়ার আদেশ দিতে পারেন।

৫) কোন কারখানায় ৬ মাস যাবত কাজ করেছেন এমন নারী শ্রমিক প্রসূতিকালীন সুবিধা পাবার অধিকার রাখেন। তবে কোন নারী শ্রমিক প্রসূতি কল্যান সুবিধা পাবেন না যদি তার সন্তান প্রসবের সময় ২ বা ততোধিক সন্তান জীবিত থাকে। তবে এক্ষেত্রে তিনি অন্য কোন ছুটি পাবার অধিকারী হলে তা অবশ্যই পাবেন।

৬) সন্তান প্রসবকালে শ্রমিক মৃত্যুবরণ করলে এবং সন্তান জীবিত থাকলে সেক্ষেত্রে মালিক সন্তান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রসূতিকালীন সুবিধা দিতে বাধ্য থাকবে।

৭) সন্তান প্রসবের ৮ সপ্তাহ এবং সন্তান প্রসবের পরবর্তী ৮ সপ্তাহ যথেষ্ট কারন না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শ্রমিকের চাকুরী অবসান করতে পারবেন না।

৮) বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ – এর ৯১(১)(খ) ধারা অনুযায়ী, কারখানায় নারী শ্রমিকদের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং তা যথাযথভাবে পর্দাঘেরা থাকতে হবে।

৯) বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ – এর ৯৩(৩) ধারা অনুযায়ী, কোন প্রতিষ্ঠানে ২৫ জনের অধিক নারী শ্রমিক নিযুক্ত থাকলে তাদের জন্য পৃথক বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ২৫ জনের কম হলে পৃথক পর্দাঘেরা জায়গার ব্যবস্থা থাকবে।

১০) বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ – এর ৩৩২ ধারা অনুযায়ী, মহিলাদের প্রতি আচরণের ব্যাপারে বলা হয়েছে, “কোন প্রতিষ্ঠানে কোন কাজে মহিলা নিযুক্ত থাকলে তিনি যে পদমর্যাদার অধিকারী হোক না কেন, তার প্রতি উক্ত প্রতিষ্ঠানের অন্য কেউ এমন কোন আচরন করতে পারবেন না যা অশ্লীল কিংবা অভদ্রজনোচিত বলে গণ্য হবে কিংবা যা উক্ত মহিলার শালীনতা বা সম্ভ্রমের পরিপন্থী।”

১১) বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ – এর ৩৪৫ ধারা অনুযায়ী, সমকাজে সম মজুরী প্রদানের কথা বলা হয়েছে। উক্ত ধারা অনুযায়ী, কোন শ্রমিকের জন্য কোন মজুরি নির্ধারণ বা নূন্যতম মজুরির হার স্থিতিকরনের ক্ষেত্রে, একই প্রকৃতির বা একই মান বা মূল্যের কাজের জন্য নারী এবং পুরুষ শ্রমিকদের জন্য সমান মজুরি নীতি অনুসরন করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে নারী পুরুষে কোন ভেদাভেদ করা যাবে না।

About the author

Maya Expert Team