উর্বরতার লক্ষণসমূহ নারী স্বাস্থ্য- গর্ভাবস্থা

উর্বর কাল

উর্বর কাল
প্রতি মাসে দুটি ডিম্বাশয়ের যে কোনও একটি থেকে ডিম্বাণু নির্গত হলে ডিম্বস্ফোটন ঘটে। কখনও কখনও একের বেশি ডিম্বাণু নির্গত হতে পারে, এবং তা সাধারণত প্রথম ডিম্বাণু নির্গত হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে হয়। এই একই সময় জরায়ুর দেয়ালের কোষের স্তরও পুরু হয় আর জরায়ু মুখের লালার ঘনত্বও কমে যায়, এতে করে শুক্রাণু আরও সহজে জরায়ু মুখ অতিক্রম করতে পারে।

ডিম্বাশয় থেকে নির্গত ডিম্বাণুটি ধীরে ধীরে ডিম্বনালী ধরে জরায়ুর দিকে যেতে থাকে। এসময়ের মাঝে যদি স্বামী-স্ত্রীর মিলন হয়ে থাকে তবে ডিম্বাণুটি শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হতে পারে। জরায়ুর দেয়ালের কোষের স্তর এখন যথেষ্ট পুরু থাকার কারণে নিষিক্ত ডিম্বাণুটি এসময় জরায়ুর দেয়ালে সংস্থাপিত হতে পারে।

এসময় নিষিক্ত না হলে ডিম্বাণুটি মাসিকের সঙ্গে বের হয়ে আসে এর সাথে জরায়ু দেয়ালের কোষগুলোও ঝরে যায়। কিন্তু মাসিকের সাথে বের হওয়া
ডিম্বাণুটি এতই ক্ষুদ্র যে এটি খালি চোখে দেখা যায় না।


উর্বর কাল কখন?
তাত্ত্বিকভাবে, একজন নারী শুধুমাত্র একটি সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে গর্ভবতী হতে পারেন, এবং এই সময়টি হচ্ছে যখন তার ডিম্বস্ফোটন হয়। আপনি কখন উর্বর সেই ব্যাপারে যদি আপনি সচেতন না হন এবং কখন উর্বর থাকবেন সেই ব্যাপারটি যদি নিয়মিত অনুশীলন করে জেনে না রাখেন, তবে ডিম্বস্ফোটন ঠিক কোন সময় হয় তা বলা আসলেই কঠিন। বেশীরভাগ মহিলার ক্ষেত্রেই, ডিম্বস্ফোটন সাধারণত পরবর্তী মাসিকের ১০-১৬ দিন আগে হয়ে থাকে।

আপনার যদি জানা থাকে যে কখন আপনি উর্বর এবং কখন সহবাস করলে আপনার গর্ভবতী হওয়ার সম্ভবনা বেশী আছে, তাহলে আপনার যেরকম সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করতে সুবিধা হবে, তেমনি আপনি আকস্মিক গর্ভাবস্থাও এড়িয়ে চলতে পারবেন। আপনি কখন উর্বর তা জানার কিছু পদ্ধতি আছে, তবে এটি আপনাকে একজন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে শিখে নিতে হবে। আপনি কখন উর্বর সেইটি জানার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে যেখানে আপনাকে নিয়মিত আপনার শরীরের তাপমাত্রা মেপে রাখতে হবে, যোনীপথে যে লালা নিঃসরণ হয় তার প্রকৃতি নিয়মিত লক্ষ্য করতে হবে এবং কয়দিন পর পর আপনার মাসিক হচ্ছে একটি ক্যালেন্ডার ব্যাবহার করে সব তারিখগুলো টুকে রাখতে হবে। তাহলে আপনি অনেকটাই নিশ্চিত ভাবেই আন্দাজ করতে পারবেন আপনার ডিম্বোস্ফোটন ঠিক কখন হচ্ছে। এছাড়া Maya র ব্যাবহার করে আপনি জেনে নিতে পারেন যে কোন সময় থেকে কোন সময় আপনি সবচেয়ে উর্বর থাকবেন এবং আপনার গর্ভবতী হওয়ার সম্ভবনা সবচেয়ে বেশী।

যোনী পথে যে লালা নিঃসরণ হয়, তা মাসিক চক্রের সাথে সাথে বদল হয়। যখন আপনার ডিম্বোস্ফোটনের সময় ঘনিয়ে আসে, তখন এই লালা পাতলা এবং পিচ্ছিল হয়ে যায়, অনেকটা ডিমের সাদার মত। এটা বলা ভুল হবে যে সব মহিলারই মাসিক চক্রের ১৪ দিনের দিন ডিম্বোস্ফোটন হয়। যেই মহিলাদের মাসিক নিয়মিত হয় এবং মাসিক চক্র ২৮ দিন তাদের বেলায় এটি সঠিক, তবে যেই মহিলাদের মাসিক চক্র এর থেকে ছোট, বা লম্বা, বা অনিয়মিত, তাদের বেলায় এটি প্রযোজ্য নয়।

About the author

Maya Expert Team