উর্বরতার লক্ষণসমূহ নারী স্বাস্থ্য- গর্ভাবস্থা

উর্বরতা পরীক্ষা

উর্বরতা পরীক্ষা
যদি আপনি ৬ মাস ধরে গর্ভবতী হওয়ার চেষ্টা করছেন কিন্তু হচ্ছেন না, তাহলে আপনার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ। যদি আপনার বয়স ৩৫ হয়, ওজন স্বাভাবিক থেকে বেশি বা আপনার সঙ্গী অনুর্বর হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। যেই কারণই হোক বেশির ভাগ দম্পতি কোন চিকিৎসা ছাড়াই বাচ্চা নিতে সক্ষম হন। আমাদের নিবন্ধ থেকে আরও জেনে নিন ।


প্রথম সাক্ষাৎ
প্রথম সাক্ষাতে ডাক্তার আপনাকে জিজ্ঞেস করবেন কতদিন ধরে আপনারা গর্ভনিরোধ ছাড়া যৌন মিলন করছেন। হতে পারে বন্ধ্যাত্ব সন্দেহ করার জন্য এখনি সঠিক সময় না। আপনি এবং আপনার সঙ্গীকে সপ্তাহে ২/৩ বার করে যৌন মিলনে লিপ্ত হতে হবে বন্ধ্যাত্ব চিহ্নিত করার জন্য। প্রাথমিক ভাবে ডাক্তার আপনাকে কিছু ভিটামিন দিতে পারেন।

যদি আপনি এক বছরের বেশি সময় যৌন মিলন করেন আপনার উর্বর সময়ে তাহলে ডাক্তার আপনাকে কিছু টেস্ট দিতে পারেন।


বন্ধ্যাত্বের টেস্ট
নিম্নের টেস্ট গুলি বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় ডাক্তাররা চেক করানোর পরামর্শ দেন। কিছু আপনার এবং কিছু আপনার সঙ্গীর উর্বরতা পরীক্ষার জন্য দেয়া হয়-

আল্ট্রাসনোগ্রাম
ট্রান্সভ্যাজাইনাল আল্ট্রসাউন্ড আপনার রি প্রোডাক্টিভ অঙ্গ সম্বন্ধে ধারনা প্রদান করে যেমন – আপনার ওভারি, ফেলোপিয়ান টিউব, জরায়ু, চারভিক্স, যৌনাঙ্গ। এটা মূলত আপনার জননাঙ্গের সুস্থতা পরীক্ষা করে। কখনো বিনাইন ইউটেরাইন টিউমার বা এন্ডোমেট্রিওসিস বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। ফেলোপিয়ান টিউবে ব্লক থাকলে তাও এই পরীক্ষায় ধরা পড়ে।

রক্ত পরীক্ষা
হরমোনের মাত্রা ডিম্বস্ফোটনের সাথে সম্পর্কযুক্ত। হরমোনের মাত্রার তারতম্য থেকেও বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। যদি আপনার মাসিক অনিয়মিত হয় তাহলেও ডিম্বস্ফোটন সঠিক ভাবে সম্পন্ন হয় না। ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন, FSH, LH এবং TSH হরমোন চেক করা হয়।

ফেলোপিয়ান টিউবের এক্স রে
এক্স রে করার আগে সারভিক্সে রেডিও অপাক ডাই ইঞ্জেক্ট করা হয়। এই ডাই ফেলোপিয়ান টিউব দিয়ে জরায়ু পর্যন্ত যায়। এরপর এক্স রে করা হয়। এটি মাসিক শেষ হওয়ার পর পর করা হয়।

শুক্রানু পরীক্ষা
আপনার সঙ্গীও বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। তাই শুক্রানু পরীক্ষা করা হয়। শুক্রাণুর সংখ্যা কম হতে পারে বা অস্বাভাবিক গঠন হতে পারে। এমনকি শুক্রাণুর গ্লুকোজ, প্রোটিন এবং এনজাইমেও পরিবর্তন থাকতে পারে।

মূত্র পরীক্ষা
মূত্র পরীক্ষা দ্বারা জানা যায় কোন ইনফেকশান কিংবা যৌন বাহিত রোগ আছে কিনা।


পরবর্তী ধাপ
৮০% ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের কারণ জানা সম্ভব হয়। উপরের টেস্ট গুলিতে ফলাফল পাওয়া না গেলে hysteroscopy, laparoscopy এবং endometrial biopsy নামক টেস্ট করা হয়। ল্যাপ্রোস্কপিতে, একটি ক্যামেরাজুক্ত টিউব প্রবেশ করানো হয়। ঢাকাতে অনেক বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার ক্লিনিক আছে। আপনাকে ডিম্বস্ফোটনের জন্য ওষুধ দেয়া হতে পারে। সকল পদ্ধতি দেয়ার পরও কাজ না হলে টেস্ট টিউব বেবির পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।

আপনার বন্ধ্যত্বের কি কারণ তার উপর ভিত্তি করে আপনার ডাক্তার আপনার চিকিৎসা করবেন। ঢাকায় অনেক ক্লিনিক আছে যেখানে বন্ধ্যত্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা করা হয়। আপনাকে বিভিন্ন ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা করা হবে। কোন কোন সময় অস্ত্রোপচারও লাগতে পারে। যদি কোন রকম চিকিৎসায়ই কাজ না হয়, তখন আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আইভিএফ (IVF) করার, বা আমরা যা সাধারণ ভাষায় বলি, টেস্ট-টিউব বাচ্চা নেওয়ার।

About the author

Maya Expert Team