বাল্যরোগ চিকিৎসা শিশুর যত্ন শৈশবকালীন অসুস্থতা শৈশবকালীন অসুস্থতা

শিশুদের একজিমা

শিশুদের একজিমা হওয়া সাধারণ ঘটনা। প্রতি ৮ জন শিশুর মধ্যে ১ জন শিশু এটোপিক একজিমাতে আক্রান্ত হয়। পরিবারের কারো একজিমা, অ্যাজমা ও হে ফিভার হওয়ার ইতিহাস থাকলে এটোপিক একজিমা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

শিশুদের একজিমা অনেক সময় তাদের বেড়ে উঠার সাথে সাথে চলে যায়। তাই শিশুদের একজিমার ক্ষেত্রে অনেক ডাক্তার প্রাথমিক পর্যায়ে একজিমা শব্দটি ব্যবহার করেন না।

শিশুদের একজিমায় আক্রান্ত হওয়া শুরু হয় সাধারণত ২ থেকে ৪ মাস বয়সে । প্রকাশিত লক্ষণগুলো হল মুখ, কানের পিছন, ঘাড়, হাঁটু ও কনুইয়ের ত্বক লাল ও শুকনো হয়ে যাওয়া ও চুলকানি হওয়া। এশিয়ান, কৃষ্ণ ক্যারিবিয়ান ও কৃষ্ণ আফ্রিকান শিশুদের ক্ষেত্রে ঘাড় আক্রান্ত হতে না পারে তবে অন্যান্য জায়গা আক্রান্ত হতে পারে। শিশুদের একজিমায় প্রচুর চুলকানির হতে পারে। চুলকানোর ফলে একজিমা সংক্রমিত হতে পারে।

যদি আপনার শিশু একজিমায় আক্রান্ত হয়েছে বলে মনে করেন, তাহলে আপনার ডাক্তার বা স্বাস্থ্য পরিদর্শকের সাথে কথা বলুন।

নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ কিছু ক্ষেত্রে শিশুর একজিমা কমাতে সাহায্য করতে পারেঃ

  • দিনে কয়েকবার শিশুর শরীরে সুগন্ধীমুক্ত লোশন বা ক্রীম লাগাতে পারেন। যেমন শিশুকে খাওয়ানোর সময় বা ডায়াপার পরিবর্তনের সময় । এটি শিশুর ত্বক শুকনো হওয়া কমাবে।
  • অ্যাকিওয়াস ক্রীম ফার্মেসিতে সুলভমূল্যে পেতে পারেন। ময়েশ্চারাইজার হিসেবে দামি ও ব্যয়বহুল ক্রীমগুলো থেকে এটি অনেক কার্যকর। এ ক্রীমটি আপনি ধোয়ার কাজেও সাবানের পরিবর্তে ব্যবহার করতে পারবেন।
  • যদি ক্রীম ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে উপরে নিচে না ঘষে শুধুমাত্র নিচের দিকে ঘষুন।
  • যদি আপনার শিশুর শরীর গরম থাকে তাহলে তা একজিমাকে আরো বাড়িয়ে দিবে। শিশুর শরীর ও ঘুমানোর কক্ষ শীতল রাখুন।
  • বাসা বাড়ীতে সৃষ্ট ধূলা বালি বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরজীবী কখনো কখনো অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে একজিমা বাড়িয়ে দিতে পারে। খেলনাতে ধূলা ও পরজীবী লেগে যেতে পারে, তাই শিশুর জন্য এক বা দুইটি খেলনা আগলিয়ে রাখুন। প্রতি সপ্তাহে এই খেলনাগুলোকে ৬০˚ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার পানিতে ধুয়ে দিন এবং একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে নিয়ে ২৪ ঘন্টা ফ্রিজে রেখে দিন যাতে এতে লেগে থাকা পরজীবী বেঁচে না থাকে। বিছানার চাদরও ৬০˚ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার পানিতে ধুয়ে দিন।
  • স্টেরয়েড ক্রীম একজিমা বৃদ্ধি বন্ধ করে। এটি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা নিরাপদ।
  • সাবান, শিশুদের জন্য বেবি বাথ, বাবল বাথ কিংবা ডিটারজেন্ট ত্বক শুকনো ও রুক্ষ করে তোলে। এগুলো ব্যবহার করা যত সম্ভব পরিহার করুন।
  • সাবানের গুঁড়ো, প্রাণীর সংস্পর্শ, ক্যামিকেল স্প্রে ও সিগারেটের ধোঁয়া প্রভৃতি – যেসব জিনিস ত্বককে রুক্ষ করে একজিমা বাড়িয়ে দেয় সেগুলো শনাক্ত করে পরিহার করুন।
  • কয়েক ধরণের কাপড় আছে যা ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে। উল, নাইলনের কাপড় ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন এবং তার পরিবর্তে সুতির কাপড় ব্যবহার করুন।
  • দুধ, দুধজাত খাদ্য, গম বা ডিমের মতো প্রধান খাদ্যগুলো ডাক্তার বা নার্সের সাথে পরামর্শ না করে খাওয়ানো বন্ধ করবেন না। খাদ্যাভ্যাসের যেকোন পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনা করুন।

 

About the author

Maya Expert Team