অনকোলজি ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার

ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার (ওভারিয়ান ক্যান্সার)- পরিচিতি

পরিচিতি

আইএআরসি (IARC) দ্বারা ২০০২ সালে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সৃষ্ট ক্যান্সারের মধ্যে ৪র্থ স্থানে আছে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার। স্তনের ক্যান্সার, ওরো-ফ্যারিঞ্জিয়াল (মুখ ও গলা) ক্যান্সার ও জরায়ু মুখের ক্যান্সারের পর এর অবস্থান।

প্রাকৃতিক নিয়মে বয়োপ্রাপ্ত হওয়ার পর মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে (মেনোপজ বা রজোবন্ধ) এরকম মহিলারা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হোন। মেনোপজ সাধারণত পঞ্চাশোর্ধ মহিলাদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তবে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারে যেকোন বয়সী মহিলা আক্রান্ত হতে পারেন।

অন্যান্য রোগের লক্ষণসমূহের সাথে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের লক্ষণগুলোর মিল থাকায় তা সহজে চেনা বা বোঝা যায় না। তবে শ্রোণীচক্র ও তলপেট ক্রমাগত স্ফীত হওয়া ও ব্যথা থাকা, খাবার গ্রহণে সমস্যা প্রভৃতি প্রাথমিক লক্ষণ হিসাবে বিবেচিত হয় এবং এ সম্পর্কে সকলের ধারণা থাকা প্রয়োজন।

যদি দীর্ঘ সময় ধরে আপনি এই লক্ষণগুলো অনুভব করে থাকেন, তাহলে একজন গাইনোকোলোজিস্টের (স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞ) পরামর্শ নেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ওভারিয়ান ক্যান্সারের ধরণ

ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের বিভিন্ন ধরণ বা প্রকরণ আছে, সেগুলো হলোঃ

এপিথেলিয়াল ওভারিয়ান ক্যান্সার- সবচেয়ে বেশি সৃষ্ট ওভারিয়ান ক্যান্সারের ধরণ যা ডিম্বাশয়ের পৃষ্ঠস্তরকে আক্রান্ত করে

জননকোষের টিউমার- ডিম্বাণু উৎপন্নকারী কোষে এই ক্যান্সার হয়ে থাকে

স্ট্রমাল টিউমার- ডিম্বাশয়কে একসাথে যুক্তকারী কোষে এই ধরণের ক্যান্সার হয়

এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সৃষ্ট ওভারিয়ান ক্যান্সারের ধরণ হলো এপিথেলিয়াল ওভারিয়ান ক্যান্সার। এখানে এপিথেলিয়াল ওভারিয়ান ক্যান্সার নিয়ে আলোচনা করা হলো।

এপিথেলিয়াল ওভারিয়ান ক্যান্সারের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পর্যন্ত অজানা, যদিও কিছু সংখ্যক সম্ভাব্য কারণ জড়িত আছে বলে মনে করা হয়, যেমন ডিম্বাশয় থেকে উৎপন্ন ডিমের পরিমাণ এবং অতীতে পরিবারের কেউ এই ধরণের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস। তবে ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ১০টি কেস বা ঘটনার মধ্যে মাত্র একটি কেসে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পিছনে জেনেটিক লিংক বা বংশগত যোগাযোগ থাকতে দেখা যায়, তবে তার সাথে জিনের কোনো সম্পর্ক নেই।

ওভারিয়ান ক্যান্সারের চিকিৎসা

ওভারিয়ান ক্যান্সারের উত্তম চিকিৎসা কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে, যেমন ক্যান্সার কোন পর্যায়ে আছে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা কীরূপ। সাধারণত সার্জারি ও কেমোথেরাপির সমন্বয়ে চিকিৎসা করা হয়।

অধিকাংশ ক্যান্সারের মতোই, রোগ নির্ণয়ের সময় পর্যন্ত ক্যান্সার কতটুকু ছড়িয়ে পড়েছে এবং ঐ সময়ে রোগীর বয়স কত তার উপর ক্যান্সার নিরাময় ও তার ফলাফল নির্ভর করে। ৫ বছরে বেঁচে থাকার হারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শতকরা ৯০ জন মহিলার ক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ে ওভারিয়ান ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে তারা আরো ৫ বছর বেঁচে থাকতে পারেন।

ওভারিয়ান ক্যান্সার শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা গ্রহণ দৈনন্দিন জীবনে অনেক প্রভাব ফেলে। তবে, জীবনের বিভিন্ন দিক, যেমন মানসিক, অর্থনৈতিক ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যগত সমস্যা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ওভারিয়ান ক্যান্সার নিয়ে জীবন ধারণের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে সহায়তা লাভ করা যায়।

ওভারিয়ান ক্যান্সার স্ক্রীনিং

ওভারিয়ান ক্যান্সার স্ক্রীনিং-এর কয়েকটি পদ্ধতি আছে, তবে এই পদ্ধতিগুলো এখনো পুরোপুরি পরীক্ষিত নয়। বিশেষ ত্রুটিপূর্ণ জিন বংশসূত্রে পাওয়া বা পরিবারে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস দীর্ঘমেয়াদী হয়ে থাকলে স্ক্রীনিং শুধুমাত্র সেইসব আক্রান্ত মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন মহিলা ও সাধারণ জনসংখ্যার মধ্যে স্ক্রীনিং-এর কার্যকারিতা নির্ণয়ের জন্য বর্তমানে যুক্তরাজ্যে এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল (গবেষণাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা) চলছে।

সার্ভিক্যাল স্ক্রীনিং টেস্ট (পেপ-স্মিয়ার টেস্ট) দ্বারা ওবারিয়ান ক্যান্সার সনাক্ত করা যায় না।

About the author

Maya Expert Team