অনকোলজি

কেমোথেরাপি

ক্যান্সারের চিকিৎসায় যে ওষুধ ব্যবহৃত হয় তাকে কেমোথেরপি বলে। এই ওষুধ গুলো ট্যাবলেট এবং শিরায় দেয়ার ইনজেকশন দুই রকমই হতে পারে। এই ওষুধ গুলো ক্যান্সারের কোষকে ধ্বংস করে।

এই ওষুধ গুলো প্রথমত ক্যান্সারের কোষের বিভাজন বন্ধ করে এর সংখ্যা বৃদ্ধি বন্ধ করে, চারপাশের সুস্থ কোষের মধ্যে এর ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করে এবং ক্যান্সারের কোষেগুলোকে নিজে নিজে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার জন্য উজ্জীবিত করে। এই কেমোথেরাপি ব্যবহারের নির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে, এবং একেক ধরনের ক্যান্সারের জন্য সেটা একেক রকম। এর কোনটি ৬ সাইকেল (cycle), কোনটি ৮ সাইকেল, কোনটি আবার ১২ সাইকেল, নির্ভর করে ঐ বিশেষ ধরনের ক্যান্সার সম্পূর্ণ নির্মূল হতে কি পরিমান ওষুধের প্রয়োজন হয়।

কেমোথেরাপির ব্যবহার

ক্যান্সার নিরাময়েঃ ক্যান্সারের কোষকে ধ্বংস করার মাধ্যমে

সার্জারির আগেঃ ক্যান্সারের টিউমারকে প্রথমে কেমোথেরাপি দিয়ে ছোট করে ফেলা হয়, তারপর অপারেশন করা হয়

ক্যান্সারের অন্য চিকিৎসার সাথেঃ কিছু কিছু ক্যান্সারের চিকিৎসায় রেডিওথেরাপির সাথে কেমোথেরাপিও ব্যবহার করা হয়। ঐ সব ক্যান্সারে দুটোরই প্রয়োজন হয়।

ক্যান্সারের পুনরায় ফিরে আসা প্রতিরোধ করতেঃ কখনো কখনো ক্যান্সারের টিউমার অপারেশনের পর কেমোথেরাপি দেয়া হয়, যাতে অপারেশনের পর কিছু ক্যান্সার কোষ থেকে গেলেও সেগুলো যেন ধ্বংস হয় এবং ক্যান্সারের পুনরায় ফিরে আসার সম্ভবনা কমে যায়

বেচে থাকা দীর্ঘায়িত করতেঃ কিছু কিছু ক্যান্সারের নিরাময় এখনো সম্ভব নয়, এই ধরনের রোগীদের যতটা সম্ভব বেশিদিন বাচিয়ে রাখার জন্য কেমোথেরাপি ব্যবহার করা হয়

সব ক্যান্সারের রোগীকে কেমোথেরাপি দেয়া যায় না। যারা কেমোথেরাপি নিতে পারবে না

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে, এতে গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি হতে পারে

যাদের রক্তে রক্ত কনিকার সংখ্যা কম, কারন কেমোথেরাপি নেয়ার পর রক্ত কনিকা আরো কমে যায়

যাদের লিভার বা কিডনিতে গুরতর অসুস্থতা রয়েছে। কেমোথেরাপির ওষুধ লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয় এবং কিডনির মাধ্যমে শরীর থেকে নিষ্কাশিত হয়। লিভার বা কিডনি কর্মক্ষম না থাকলে, রক্তে কেমোথেরাপির পরিমান বাড়তেই থাকে এবং শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে

যাদের সদ্য অপারেশন হয়েছে বা কোন নতুন ক্ষত আছে। এতে ক্ষত শুকাতে দেরি হবে

যাদের কোন সংক্রমন (infection) আছে, কেমোথেরাপির ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে সংক্রমন ভাল হতে দেরি হয়

কেমোথেরাপি লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন রক্ষা করছে। তবে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, যেমন

অবসাদ এবং ক্লান্তি

বমি বমি ভাব এবং বমি

চুল পড়ে যাওয়া

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারনে সংক্রমনের ঝুকি বেড়ে যাওয়া

রক্ত স্বল্পতা, রক্ত কনিকা উৎপাদন কমে যাওয়ার কারনে এমনটা হয়

অল্পতেই রক্তক্ষরণ বা ত্বকের নিচে রক্ত জমাট বাঁধা

মুখে ঘা

ক্ষুদা মন্দা

শুকনো ত্বক, ত্বকের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত, ভঙ্গুর নখ

সাময়িক স্মৃতি বিভ্রাট

ঘুমের সমস্যা

সাময়িক অথবা স্থায়ী ভাবে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া

যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া

ডায়রিয়া অথবা কোস্ট কাঠিন্য

বিষণ্ণতা

এতসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারনে অনেকই কেমোথেরাপি নিতে চান না। যদি সম্পূর্ণ সুস্থ হবার সম্ভবনা থাকে, তবে হয়তো এই সাময়িক কষ্ট স্বীকার করতে রাজী হয়। কিন্তু কেমোথেরাপির মাধ্যমে যদি শুধু কয়েক মাস আয়ু বাড়ে, তাতে অনেকই আর এই কষ্টের মধ্যে যেতে চান না।

কেমোথেরাপির কষ্ট মানিয়ে নেয়া খুবই কঠিন। তবে এই কষ্ট সাময়িক। যতদিন থেরাপি চলে ততদিন এবং শেষ হবার পরবর্তী কয়েকদিন।

কেউ কেউ মনে করেন, কেমথেরাপি নেয়া ব্যাক্তির সংস্পর্শে আসলে অন্যের শরীরেও এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতীদের। কিন্তু সত্যিকার অর্থে গবেষণায় এই ধরনের কোন প্রমান পাওয়া যায়নি।

About the author

Maya Expert Team