গেটে বাত বয়োঃবৃদ্ধি সংক্রান্ত অসুস্থতা

গেঁটে বাত- কারন

গেঁটে বাত- কারন
যখন কোন হাড়ের জোড়ার ভিতরের বা তার পাশের কোন অংশ আঘাতপ্রাপ্ত হয় বা কোন কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং শরীর যখন তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয় তখন সেই জোড়ায় গেঁটে বাত হতে পারে। এখনো নিশ্চিত করে জানা যায়নি কেন গিঁটে বাত হয়। তবে কিছু কিছু কারনে এর ঝুঁকি বেড়ে যায়। দৈনন্দিন জীবনে নান ভাবে শরীরের বিভিন্ন হাড়ের জোড়া আঘাতপ্রাপ্ত হয়, শরীর নিজ থেকে সেটা সারিয়েও তোলে, অনেক সময় এতে কোন লক্ষণও হয় না ফলে ব্যপারটা আমরা টেরও পাইনা।


যে সকল আঘাতের কারনে গেঁটে বাত হতে পারে –

  • লিগামেন্ট বা টেন্ডন (শক্ত পেশী যার মাধ্যমে মাংসপেশী হাড়ের সাথে যুক্ত থাকে) আঘাতপ্রাপ্ত হলে
  • হাড়ের জোড়ার ভিতরে বা সংলগ্ন হাড়ে প্রদাহ (inflammation) হলে
  • জোড়ার ভিতরে হাড়ের গায়ে যে পিচ্ছিল তরুনাস্থি (cartilage) থাকে যা ঘর্ষণজনিত ক্ষয়


প্রতিরোধ করে, তা ক্ষতিগ্রস্থ হলে
গেঁটে বাতে আক্রান্ত হাড়ের জোড়ার আকৃতি এবড়ো-থেবড়ো হয়ে যায়, হাড়ের প্রান্তগুলো উঁচুনিচু হয়ে জোড়ার কোন অংশে বেখাপ্পা ভাবে উচু হয়ে থাকতে পারে, যা বাইরে থেকেই বুঝা যায়। হাড়ের এই বাড়তি অংশগুলোকে অস্টিওফাইটস (osteophytes) বলা হয়।

যদি হাড় পাতলা এবং প্রশস্ত হয়ে যায়, তবে জোড়া আড়ষ্ট হয়ে পরে, ব্যথা হয় এবং নড়াচড়ায় সমস্যা হয়। প্রদাহ (inflammation) জনিত কারনে জোড়ার ভিতরে তরল জমা হয়, ফলে জোড়া ফুলে যায়।


আরো যে সমস্ত কারন এই প্রক্রিয়ায় ভুমিকা রাখে
আঘাতের কারনে ক্ষয়প্রাপ্ত স্থানের, ক্ষয়পূরণ বা পুনঃনির্মাণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হলে কেন গেঁটে বাত হয় তা এখনও অজানা। কিছু কিছু কারণকে গেঁটে বাত হওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে বলে ধারনা করা হয়। সেগুলো হলো-

● হাড়ের জোড়ায় আঘাতঃ কোন কারনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বা অপারেশন হয়েছে এমন জোড়ায়

গেঁটে বাত হতে পারে। যে জোড়াগুলোর বেশি নড়াচড়ার প্রয়োজন হয়, আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর

সেগুলি ক্ষয়পুরনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পায় না। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠার আগে বেশি

নড়াচড়ার কারনে তাদের ক্ষয়পুরন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়, যার কারনে পরবর্তী জীবনে ঐ

জোড়ায় গেঁটে বাত হয়।

● অন্যান্য বাতঃ অনেক সময় অন্যান্য বাত যেমন, রিউমটয়েড আরথ্রাইটিস বা গাউট

(rheumatoid arthritis বা gout) আক্রান্ত হাড়ের জোড়ায় পরবর্তীতে গেঁটে বাত হতে পারে।

এক্ষেত্রে প্রথমবার বাতে আক্রান্ত হওয়ার অনেক বৎসর পর সেখানে গেঁটে বাত হতে

পারে।

● বয়সঃ বয়স বাড়ার সাথে সাথে গেঁটে বাতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়। কারন বেশি

বয়সে হাড়ের জোড়া এবং সংলগ্ন মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায়, ফলে সেগুলো সহজেই আঘাত

প্রাপ্ত হয়।

● পারিবারিক ইতিহাসঃ কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় গেঁটে বাতে আক্রান্তদের মধ্যে পারিবারিক

ইতিহাস থাকে। যদিও গবেষণায় নির্দিষ্ট কোন জিনকে এর জন্য দায়ী করা যায়নি কিন্তু

ধারনা করা হয় একাধিক জিন সম্মিলিত ভাবে এর প্রভাব বহন করে। যার কারনে গেঁটে বাতের

জিনেটিক টেস্ট অদূর ভবিষ্যতে আবিস্কার হওয়ার সম্ভবনা কম।

● মোটা হয়ে যাওয়াঃ গবেষণায় দেখা গেছে মোটা হয়ে পড়লে, গেঁটে বাত হওয়ার ঝুকি বেড়ে যায়,

বিশেষ করে যেসব জোড়া শরীরের ওজন বহন করে যেমন, উরু সন্ধি (hip joints), এবং হাঁটুর

জোড়া, সেগুলোতে গেঁটে বাত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। যে কারনে মোটা মানুষের মধ্যে গেঁটে

বাতের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

About the author

Maya Expert Team