মনোসামাজিক

কিভাবে দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকা যায়?

Written by Maya Expert Team

“মায়া আপা, আমি কোনো কিছুতেই মনোযোগ দিতে পারিনা, সব সময় চিন্তা আসে। কি করবো?”

– নিগার সুলতানা , মেন্টাল হেলথ এক্সপার্ট

এইধরণের অনেক প্রশ্নই আসে আমাদের কাছে। দৈনন্দিন জীবনে আমরা প্রতিনিয়ত এমন অনেক পরিস্থিতির শিকার হই, অনেক সমস্যার মোকাবেলা করতে হয় আমাদেরকে।  কখন-ও আমরা সফল হই, কখন-ও ব্যার্থ হই। যখন এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাই, তখন কেমন যেন অশান্তি লাগে নিজের মধ্যে, সব কিছুতে মনোযোগ দিতে কষ্ট হয় যার জন্য স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। এমনটা আমাদের সবারই হতে পারে, যেকোনো সময়।  ওই পরিস্থিতিতে একজন কতটুকু চাপ নিতে পারবে সেটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে ব্যক্তি কিভাবে পরিস্থিতিটা দেখছে তার ওপর। কারণ একই পরিস্থিতিতে একেকজন একেকরকম চিন্তা করে।

Image result for tension

কখন আমরা দুশ্চিন্তা করি?

আমরা তখনি কোনো বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করি যখন ওই সমস্যাটি সমাধান করার জন্য পর্যাপ্ত উপায় আমাদের জানা থাকে না, নিজেকে সেই সমস্যা সমাধানের উপযুক্ত না মনে করলে, সেই ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস না থাকলে।

কিভাবে শুরু হচ্ছে?

দুশ্চিন্তা যেকোনো বিষয় নিয়েই হতে পারে। পরীক্ষার সময় হতে পারে, জীবনে বড় ধরনের কোন পরিবর্তন আসলে যেমন- বিয়ের সময়, নতুন বাবা-মা হলে, নতুন চাকরি হলে, সম্পর্কের ভাঙ্গন ঘটলে। এছাড়া আরও অনেক কিছু নিয়েই দুশ্চিন্তা হতে পারে।         

কখন বুঝবো দুশ্চিন্তা গুলো আমাদের ক্ষতি করছে?

যখন দুশ্চিন্তার জন্য আমাদের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। যেমন- পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারছেন না, কোনো কাজে মনোযোগ থাকছে না, প্রয়োজনীয় তথ্য ভুলে যাচ্ছেন । এর কারনে স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি শারিরিক এবং মানসিক সমস্যা যখন দেখা দিচ্ছে তখন দুশ্চিন্তাগুলো আমাদের ক্ষতি করে।

স্বল্পমেয়াদি সমস্যা: যা হতে পারে- ঘুম না হওয়া, চুল পড়ে যাওয়া, ভুলে যাওয়া, মাথা ব্যাথা, বুকে ব্যাথা, মাথা ঘুরানো, বমি হওয়া, পেটে ব্যাথা ইত্যাদি

দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা: যা হতে পারে- আলসার, হৃদরোগ, ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া, মলাশয় প্রদাহ, যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া ইত্যাদি

কিভাবে মোকাবেলা করবো?

১. প্রথমত দুশ্চিন্তার ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। দুশ্চিন্তা আমাদের হবেই তাই ইতিবাচক চিন্তা করার অভ্যাস করতে পারি।

২. সমস্যাগুলো সমাধানের পথ বের করা, নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখা যে আমি পারবো। শুধু একটা সমাধান চিন্তা না করে অনেক গুলোর কথা ভাবা যায়, যেটা সুবিধা হয় সেভাবে করা।

৩. সবসময়ই যে সফল হতে হবে এই চিন্তা পরিত্যাগ করে পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে কিভাবে আরো ভালো করা যায় সেটা চিন্তা করা। আমরা সব কিছুতে কখনোই নির্ভুল হতে পারবো না। তাই শুধু সফলতাই আসবে জীবনে এমনটা চিন্তা না করে সফলতা এবং ব্যর্থতা উভয় দিক বিবেচনা করতে পারি।

৪. সময়ের সৎব্যাবহার করার কোনো বিকল্প নেই।  অনেক সময় দেখা যায় সময়ের কাজ সময়ে না করার ফলে অনেক কাজ জমে যায় যার জন্য দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। তাই অনেক কাজ যদি থাকে সেক্ষেত্রে প্রয়োজন এবং গুরুত্বের ভিত্তিতে কাজ গুলোকে ভাগ করা যেতে পারে। নিশ্চয়ই পরীক্ষার সময় ফেসবুক ব্যবহার করা বা ঘুরতে যাওয়া আপনার তালিকাতে রাখবেন না।

৫. মাঝে মাঝে কাজ থেকে একটু বিরতি নেয়া যেতে পারে। দূরে কোথাও ২-৩ দিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন। এতে আপনার একঘেয়েমি ভাব কমবে, শরীর ও মন রিলাক্স হবে।  

৬. প্রতিদিন যত ব্যস্তই আপনি থাকেন না কেন নিজের জন্য কিছু সময় রাখা। সেটা কম সময় হলেও। নিজের জন্য একটু চা বানাতে পারেন, গান শুনতে পারেন, কোনো পছন্দের সিনেমা দেখতে পারেন। এতে আপনার মানসিক প্রশান্তি আসবে।  

৭. নিজেকে মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া। আপনি যা করেছেন সেটা পরিবর্তন করতে পারবেন না, ওটা নিয়ে চিন্তা করেও কিছু হবে না। তাই পূর্বে কি হয়েছে তা না ভেবে বর্তমানকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করতে পারেন।  

সবশেষে বলা যায় চিন্তা করা আমাদের জীবনেরই একটি অংশ।  তবে অতিরিক্ত চিন্তা আমাদের ক্ষতির কারণ হতে পারে। অবহেলা না করে এখনই উপযুক্ত সময় নিজের পরিবর্তন আনার, সুন্দর-স্বাভাবিক জীবন গড়ার।

মায়া বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে মায়া এন্ড্রয়েড এপ ডাউনলোড করুন এখান থেকে: https://bit.ly/2VVSeZa

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment